কাঁটা বেছে মাছ খেতে সমস্যা? চিনের বিজ্ঞানীরা বানালেন 'ঝংকে নং ৬' মাছ! পুষ্টিতে ভরপুর কাঁটাও নেই!
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
চিনের ‘চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’ CRISPR/Cas9 প্রযুক্তিতে ‘RunX2b’ জিন সম্পাদনা করে কাঁটাবিহীন ‘ঝংকে নং ৬’ ক্রুসিয়ান কার্প তৈরি করেছে, পুষ্টিগুণ অক্ষত!
advertisement
অনেক আমিষভোজী মানুষই মুরগি বা মাটনের বদলে মাছ খেতে বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু আবার অনেকেই মাছের দিকে তাকান না—একটাই ভয়, অসংখ্য ছোট ছোট কাঁটা। এই কাঁটাগুলো গলায় আটকে গেলে যে কী ঝামেলা, তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। অথচ মাছ অত্যন্ত উপকারী—প্রচুর প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও নানা জরুরি পুষ্টিগুণে ভরা। বিশেষ করে শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য মাছের গুরুত্ব আরও বেশি। তবু কাঁটার ভয়ে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের মাছ খাওয়াতে চান না। (Representative Image)
advertisement
এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই চিন-এ তৈরি হয়েছে একেবারে কাঁটাবিহীন মাছ। ‘অ্যাকুয়াকালচার’ নামের একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত পর্যালোচনা অনুযায়ী, ‘RunX2b’ নামে একটি জিন সম্পাদনার মাধ্যমে এই মাছ তৈরি করা হয়েছে। এই জিন পরিবর্তনের ফলে মাছ বড় হওয়ার সময় যে ছোট ছোট কাঁটা (ইন্টারমাসকুলার বোন) তৈরি হয়, সেগুলো আর গঠিত হয় না। (Representative Image: AI)
advertisement
এশিয়ার অ্যাকুয়াকালচার শিল্পে বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে এমন এক যুগান্তকারী সাফল্যে, চিনের চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস (CAS)-এর গবেষকেরা গিবেল কার্প মাছের একটি নতুন প্রজাতি তৈরি করেছেন, যার দেহে আর সেই বিরক্তিকর Y-আকৃতির ছোট ইন্টারমাসকুলার কাঁটা তৈরি হয় না—যে কাঁটাগুলো এত দিন ধরে মাছপ্রেমীদের ভোগান্তির কারণ ছিল। (Representative Image: AI)
advertisement
‘ঝংকে নং ৬’ নামে পরিচিত এই নতুন প্রজাতিটি মূলত একটি পুরনো সমস্যার সমাধান করেছে। নরম মাংস ও উচ্চ প্রোটিনের জন্য জনপ্রিয় এই মিঠে জলের মাছটিতে সাধারণত ৮০টিরও বেশি ক্ষুদ্র কাঁটা থাকে, যা বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। নতুন এই প্রজাতিতে সেই আশঙ্কা কার্যত দূর হয়েছে। (Representative Image: AI)
advertisement
advertisement
কেনদাই মাছের জিনগত গঠন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি জটিল। একাধিক স্তরের ক্রোমোজোম থাকার কারণে ঠিক কোন জিনটি কাঁটার জন্য দায়ী, তা চিহ্নিত করে পরিবর্তন করতে বিজ্ঞানীদের প্রায় ছ’ বছর সময় লেগেছে। সাধারণ কেনদাই মাছে যেখানে ৮০টিরও বেশি ছোট কাঁটা থাকে, সেখানে এই নতুন প্রজাতিতে রয়েছে শুধুমাত্র বড় হাড়—ছোট, ঝামেলাপূর্ণ কাঁটা একেবারেই নেই। তবে মাছের মূল কঙ্কাল বা জরুরি হাড়গুলো অক্ষত রয়েছে।
advertisement
গবেষকদের দাবি, এই মাছ সাধারণ মাছের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ দ্রুত বড় হয়। ফলে কম সময়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব, লাভও বাড়ে। পাশাপাশি, কম খাবারেই এই মাছ বেড়ে ওঠে, যার ফলে চাষের খরচও কম। গভীর জলাশয়েও এরা ভালভাবে টিকে থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ শক্তিশালী। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট না করতে এই মাছকে বন্ধ্যা করা হয়েছে, যাতে তারা বন্য মাছের সঙ্গে প্রজনন করতে না পারে।
advertisement
advertisement
advertisement







