Brahmi Saag: অবহেলায় পড়ে থাকা বাংলার ব্রাহ্মী শাক এবার পাবে GI তকমা
- Reported by:Rudra Narayan Roy
- hyperlocal
- Published by:Rukmini Mazumder
Last Updated:
ইতিমধ্যেই জিআই স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জমা করা হয়েছে। আবেদনের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করে সংগ্রহ করেছেন নমুনা
এবার জিআই স্বীকৃতির অপেক্ষায় বাংলার ব্রাহ্মী শাক! ঠিকই শুনছেন! রসগোল্লা, শাড়ি, কালোননিয়া চালের পর এবার বাংলার নানা প্রান্তে অবহেলায় পড়ে থাকা ব্রাহ্মী শাককে জিআই স্বীকৃতি দিয়ে সুন্দরবনের মহিলাদের স্বনির্ভর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হল সন্দেশখালি জয়গোপালপুর ইউথ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের তরফে (তথ্য ও ছবি: রুদ্র নারায়ন রায়)
advertisement
ইতিমধ্যেই জিআই স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জমা করা হয়েছে। আবেদনের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করে সংগ্রহ করেছেন নমুনা। সংস্থার সভাপতি দীনবন্ধু দাস জানান, '' আইসিএআর গুজরাতের মেডিসিন প্লান্টেশন ডিপার্টমেন্ট ভারত সরকারের তরফে বাংলার সুন্দরবন এলাকার উন্নত মানের ব্রাহ্মী শাক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে''
advertisement
প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই জিআই ট্যাগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। দীনবন্ধু দাস জানান, '' দুই ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন,মেদিনীপুর-সহ কল্যাণী সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মূলত নিচু স্যাঁতসেতে জমিতে ব্রাহ্মী শাক পাওয়া যায়। এছাড়াও পুকুরের ধার বা যে-সমস্ত এলাকায় জল জমে থাকে, সেখানে এই উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। প্রথম ধাপে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় সংস্থা তরফে
advertisement
অ্যারোম্যাটিক বিভাগের ডাক্তার দীপক ঘোষ-এর মাধ্যমে আইসিএআর গুজরাতে ব্রাহ্মী শাকের উপর কাজ করা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সেখানেই আইসিএআর এর "আনন্দ প্রজেক্ট" মেডিসিনাল অ্যারোমেটিক প্লান্টেশন এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে তাদের তরফ থেকে বিশেষজ্ঞরা আসেন বাংলায় নমুনা সংগ্রহ-সহ এলাকা ঘুরে দেখতে। ব্রাহ্মী শাক, থানকুনি-সহ সুন্দরবন এলাকার মাটি, জলও তাঁরা সংরক্ষণ করে নিয়ে যান গবেষণার জন্য। আপাতত সন্দেশখালি এলাকা থেকেই এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পূর্বেও একবার হিঙ্গলগঞ্জ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার জল, মাটি ও শাকের নমুনা পাঠানো হয়েছিল
advertisement
সংস্থার তরফ থেকে আশা করা হচ্ছে, এবার মিলতে পারে জিআই অনুমোদন। জিআই ট্যাগ পাওয়া গেলে পরবর্তীতে ব্রাহ্মী শাক ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেকাংশেই উন্নতি হবে। বর্তমানে মাঝে থাকা ফোড়েরা প্রায় ৩০ টাকা কেজিতে এই শাক বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু জিআই ট্যাগ পাওয়া গেলে অনেকাংশেই লাভবান হবেন সুন্দরবন-সহ বাংলার প্রত্যন্ত এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (সেলফ হেল্প গ্রুপ) মহিলারা। তাতে ব্যবসায়িক ভাবেও ফায়দা মিলবে
advertisement
আপাতত ৭১ জনের একটি মহিলাদের দল এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও বহু সংখ্যক মহিলা এই ব্রাহ্মী শাক এর মাধ্যমে স্বনির্ভর হতে পারবেন বলেই জানান জয়গোপালপুর ইউথ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের সভাপতি দীনবন্ধু দাস। তিনি বলেন, ব্রাহ্মী শাক স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, ক্যান্সার প্রতিষেধক হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে
advertisement
এর গুনাগুন ওষুধের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব বলেও জানান তিনি। এই মূল্যবান উদ্ভিদ যদি ব্যাপক হারে চাষ করা যায়, নদী বা খালের পারে পরিত্যক্ত জমিগুলিকে কাজে লাগিয়ে, বহু মহিলা স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ব্রাহ্মী শাকের চাহিদা বিশাল। আর তাই এই জিআই তকমা পাওয়ার মধ্যে দিয়ে মার্কেটিং করার চেষ্টা চালানোর পরিকল্পনার নেওয়া হবে বলেই জানান সন্দেশখালীর জয় গোপালপুর ইউথ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার-এর সভাপতি দীনবন্ধু দাস। এখন দেখার কতদিনে বাংলার এই ভেষজ উদ্ভিদ পায় জিআই তকমা








