ED Raid in I-PAC: ইডি-র তল্লাশি ঘিরে দিনভর উত্তেজনা! কোন মামলায় I-PAC এর সল্টলেকের অফিসে হানা ED-র? জানুন বিস্তারিত
- Published by:Satabdi Adhikary
- news18 bangla
Last Updated:
এর আগে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছিল, লালার সঙ্গে গরু পাচারে অভিযুক্ত এনামুল হকেরও বোঝাপড়া ছিল। কয়লা পাচারের সময় এনামুলের ‘সিন্ডিকেট’-এর সাহায্য নিতেন লালা। উত্তরবঙ্গ-সহ প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও পাচার চলত।
তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC এর অফিস এবং প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে বৃহস্পতিবার সরগরম রইল গোটা কলকাতা তথা রাজ্য৷ ইডি তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে এবং I-PAC এর অফিসে পৌঁছে যান মমতা৷ অভিযোগ তোলেন ভোটের আগে তাঁর দলের নথিপত্র সরিয়ে ফেলার৷ অন্যদিকে, ভোট এবং এদিনের তল্লাশি অভিযানে কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানায় ইডি৷ কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, কয়লা পাচার কাণ্ডে দেশের ৬ রাজ্যের ১৫ জায়গায় তল্লাশি চলেছে বৃহস্পতিবার৷ তালিকায় ছিল এই দু’টি জায়গাও৷
advertisement
সামনে আসে অনুপ মাজি, ওরফে লালার নাম৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তদন্তে জানতে পারে যে, অনুপ মাজি ওরফে লালা ইসিএল এলাকায় অবৈধ খনি থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা/চুরি করা কয়লা পরিবহনের সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। অনুপ সরকারি কর্মচারীদের যোগসাজশে এই কাজ চালাচ্ছিলেন এবং ইসিএল-এর ইজারাভুক্ত এলাকা থেকে কয়লা পাচার করছিলেন।
advertisement
এই কাজে অনুপকে সাহায্য করার অভিযোগ ওঠে ইসিএল, নিরাপত্তা সংস্থা সিআইএসএফ, রেলের এক শ্রেণির কর্মীদের বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ ওঠে যে, কয়লা পাচারের টাকা ঘুরপথে তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতেন লালা। পাচারের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যায় তৃণমূলের তৎকালীন যুব নেতা বিনয় মিশ্র এবং তাঁর ভাই বিকাশের। বিকাশকে ইডির হাতে গ্রেফতারও হন।
advertisement
ইডি-র তদন্তে আরও জানা যায় যে, ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে অনুপ মাজির বিরুদ্ধে অবৈধ কয়লা উত্তোলন/চুরির বিষয়ে ১৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছিল। তবে, তার সিন্ডিকেটের কারণে তিনি যে প্রভাব ও সুরক্ষা ভোগ করতেন, তার ফলে স্থানীয় পুলিশ কোনও মামলা দায়ের করেনি। তবে, ২০২০ সালে সিবিআই কয়লা চুরি ও পাচারের বিষয়ে একটি নতুন মামলা দায়ের হয়। তদন্ত চলাকালীন জানা যায় যে, আবেদনকারী কর্তৃক অবৈধ কয়লা উত্তোলন ও চুরির মাধ্যমে ইসিএল-এর ইজারাভুক্ত এলাকা থেকে ২,৭৪২.৩২ কোটি টাকা মূল্যের (কর/রয়্যালটি সহ) কয়লা আত্মসাৎ করেছে। বিভিন্ন অভিযানের সময় জানা যায় যে, মাজির হিসাবরক্ষক তথা লালার সঙ্গী গুরুপদ মাজি৷ গ্রেফতার হয় আরও ৪ জন৷
advertisement
এর আগে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছিল, লালার সঙ্গে গরু পাচারে অভিযুক্ত এনামুল হকেরও বোঝাপড়া ছিল। কয়লা পাচারের সময় এনামুলের ‘সিন্ডিকেট’-এর সাহায্য নিতেন লালা। উত্তরবঙ্গ-সহ প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও পাচার চলত। রাজনৈতিক মদতের পাশাপাশি লালার সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসন, ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ড, রেলকর্তাদের একাংশেরও যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করে সিবিআই। তদন্তে লালার একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছিলেন ইডির তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কয়লা পাচারে রাজ্য পুলিশের বড় কর্তাদের একাংশ যে যুক্ত ছিলেন, তার ‘প্রমাণ’ রয়েছে ওই ডায়েরিতে।
advertisement
কয়লা পাচার কাণ্ডে নাম জড়ায় রাজনীতিকদেরও। কয়লা পাচারকাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে একাধিকবার দিল্লির ইডি-র দফতরে ডেকে পাঠানো হয়৷ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তুলেছিলেন যে, কয়লা পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত লালাই অভিষেকের স্ত্রীর বিদেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা জমা করতেন। লালার সূত্রে কয়লা পাচার মামলায় নাম উঠে আসে রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকেরও। তবে চার্জশিটে তাঁর নাম ছিল না।









