দু'দিনের বৃষ্টিতেই প্রায় হাঁটু জল, বাবার কাঁধে চেপে পড়তে যাচ্ছে ছেলে, জল যন্ত্রণায় জেরবার বাসিন্দারা
- Published by:Shubhagata Dey
- news18 bangla
Last Updated:
দু'দিনের বৃষ্টির জেরে জলে ভেসেছে একাধিক জেলা। বাদ যায়নি কলকাতা। তবে সবচেয়ে করুণ অবস্থা দক্ষিণ শহরতলিতে।
advertisement
*জমা জলে কি অবস্থা সেখানকার তা দেখতে গিয়ে নজরে এল কতটা অসহায়তার মধ্যে দিনরাত কাটে এলাকাবাসীর। অন্য এলাকার মতো ঠাকুরপুকুর পূর্বাচল এলাকাতেও প্রায় হাটু সমান জল জমেছে। দ্বীপের মতো ভেসে আছে সেখানকার বাড়িগুলি। নোংরা জল ঠেলেই বেশ কিছুটা গিয়ে জোগাড় করতে হচ্ছে পানীয় জল। এসবের মাঝেই নজরে এল অন্য এক ছবি। দেখা গেল, ছেলেকে কাঁধে বসিয়ে জল ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে বাবা। ছেলের পিঠে বইয়ের ব্যাগ।
advertisement
*কোথায় যাচ্ছেন? প্রশ্ন শুনে থমকালেন মধ্যবয়সী। ছেলেকে কাঁধে বসানো অবস্থায় নোংরা জলে হাটুর অর্ধেক ডুবিয়ে উত্তর দিলেন বীরভদ্র সরকার। বললেন, "লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকলেও বাচ্চাদের পড়াশোনা তো থেমে নেই। ছেলেকে দিদিমনির কাছে পড়াতে দিয়ে আসতে যাচ্ছি। কোনও উপায় না থাকায় এভাবেই ছেলেকে কাঁধে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। পড়া হয়ে গেলে আবার এভাবেই নিয়ে আসবো।"
advertisement
*বীরভদ্রের ছেলে দিবাকর সরকার পূর্বপাড়া প্রাথমিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। লকডাউনের শুরু থেকেই স্কুল বন্ধ। কিন্তু পড়াশোনা তো থেমে নেই। পূর্বাচলে পাশের পাড়ায় দিদিমনির কাছে পড়তে যায় সে। অন্য সময় নিজেই হেঁটে-হেঁটে পড়তে যায়। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই জল দাঁড়িয়ে যায় এই এলাকায়। গত দুদিনের ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে দিবাকরের পড়তে যাওয়ার পথ। তাই পড়াশুনা যাতে থমকে না যায় সেজন্য গত ক'দিন ধরে এভাবেই বাবার কাঁধে চেপেই পড়তে যায় সে।
advertisement
advertisement
*তবে গত দু'বছরের অবস্থা পুরনো সব অভিজ্ঞতাকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি তাদের। কারণ, ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া চড়িয়াল খাল সংস্কারের জন্য বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্ষার যে জল খাল দিয়ে বেরিয়ে যেত সেই পথ বন্ধ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ভাসিয়ে দিচ্ছে গোটা এলাকাকে। জল যন্ত্রণা আরও বাড়ছে এলাকার মানুষের। বাড়ছে ক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে বৃষ্টি থেমে গেলেও কবে জল নেবে তা জানা নেই কারও। কারণ জল যাওয়ার রাস্তাই যে বন্ধ। তাহলে উপায়? বাসিন্দাদের এখন ভরসা পরিষ্কার আকাশ। কারণ রোদ উঠলে সূর্যের তাপে জল শুকাবে। তবেই মিটবে জলযন্ত্রনা।








