Pakistan: নিজের তৈরি রাক্ষসই এখন গিলছে পাকিস্তানকে! টানা ৬ বছরে সন্ত্রাসের আগুনে জ্বলছে গোটা দেশ!
- Published by:Soumendu Chakraborty
Last Updated:
পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ দিন দিন আরও ভয়ংকর আকার নিচ্ছে। ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬’ (GTI) রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে সন্ত্রাস-প্রভাবিত দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে পাকিস্তানে ১,০৪৫টি সন্ত্রাসী হামলায় ১,১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১,৫৯৫ জন এবং ৬৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
সন্ত্রাসের জেরে চরম সংকটে পাকিস্তান, ২০২৫-এ বিশ্বে শীর্ষে উঠল জঙ্গি-আক্রান্ত দেশ হিসেবেপাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে সন্ত্রাস-প্রভাবিত দেশে পরিণত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬’ (GTI) রিপোর্টে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরে পাকিস্তানে ১,০৪৫টি সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১,১৩৯ জন। আহত হয়েছেন আরও ১,৫৯৫ জন, পাশাপাশি ৬৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
advertisement
রিপোর্টে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৮.৫৭৪—যা সন্ত্রাসের মাত্রা, হামলার সংখ্যা, হতাহত ও অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারিত। এই স্কোরে পাকিস্তান তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে, যা ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি নির্দেশ করছে। টানা ছয় বছর ধরে সন্ত্রাসে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলিতে তুলনামূলক উন্নতি দেখা গেছে।সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তান প্রদেশে। এই দুই অঞ্চলে মোট ৭৪ শতাংশ হামলা এবং ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন হিসেবে উঠে এসেছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ২০২৫ সালে তারা ৫৯৫টি হামলা চালিয়ে ৬৩৭ জনকে হত্যা করেছে—মোট মৃত্যুর ৫৬ শতাংশের জন্যই দায়ী এই সংগঠন। লক্ষ্যভিত্তিক হত্যার ঘটনা ৪৫০ শতাংশ বেড়েছে, পাশাপাশি পুলিশের উপর হামলাও বৃদ্ধি পেয়েছে। টিটিপি এখন হামলায় ড্রোন ব্যবহার করছে, যা তাদের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
advertisement
রিপোর্টে উল্লেখ, বর্তমানে প্রায় ৬,০০০ থেকে ৬,৫০০ জঙ্গি আফগানিস্তানে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকেই হামলা চালানো হচ্ছে। প্রায় ৮৫ শতাংশ আক্রমণ আফগান সীমান্তের ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ঘটেছে। সীমান্তবর্তী দুর্গম ভূখণ্ড এবং দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণহীন উপজাতীয় এলাকাগুলি জঙ্গিদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে কাজ করেছে। অতীতে এখানে তালিবান, হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আল-কায়েদার মতো সংগঠন সক্রিয় ছিল, পরে টিটিপিও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
advertisement
ডুরান্ড লাইনের দুই পাশে পশতুন জনগোষ্ঠীর বসবাস থাকায় জঙ্গিদের চলাচল সহজ হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের কিছু মাদ্রাসা, বিশেষত শরণার্থী শিবিরগুলিতে জঙ্গি মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর টিটিপি নতুন করে আশ্রয় পায়। পাকিস্তান বারবার আফগান সরকারকে টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বললেও তাতে বিশেষ সাড়া মেলেনি।একসময় পাকিস্তান ‘ভাল তালিবান’ ও ‘খারাপ তালিবান’—এই দুই ভাগে জঙ্গিদের আলাদা করে দেখত। কিন্তু বর্তমানে সেই বিভাজন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে বালুচিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেন দখলের ঘটনাও বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির এই হামলায় ৪৪২ জনকে আটক করা হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সংগঠনটি আগে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে জড়িত থাকলেও এখন রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে পাকিস্তানের সেনা, চীনা নাগরিক এবং সিপিইসি প্রকল্প।
advertisement
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন সামরিক শাসন এবং রাজনৈতিক সমাধানের অভাব সংগঠিত হিংসা বাড়িয়ে দিয়েছে। সীমান্তে আশ্রয়, জঙ্গিদের অবাধ যাতায়াত এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাস থেকে স্বনির্ভর সন্ত্রাসে রূপান্তর—এই সব কারণ মিলেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগের সঙ্গেও এই পর্যবেক্ষণগুলির মিল রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি, বরং বহু বছরের নীতি ও সিদ্ধান্তের ফল। ২০১৩ সালে বড়সড় সামরিক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও, গত ছয় বছরে তা আবার খারাপের দিকে গেছে। ফলে পুরনো কৌশল আর কার্যকর নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
advertisement







