Rahul Arunodoy Banerjee: রবিবার দুপুরের পরই বদলে গেল সব, সমুদ্রে শুটিং, হঠাৎ দুর্ঘটনা—কীভাবে মৃত্যু হল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের?
- Reported by:Madan Maity
- Published by:Pooja Basu
Last Updated:
বেশ কিছুক্ষণ ধরে তল্লাশি চালানো হয় সমুদ্রে। পরে কিছুটা দূরে স্থানীয় বোট চালকেরা উদ্ধার করেন অভিনেতাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি তখনও তাঁর দেহে প্রাণ ছিল। দ্রুত তাঁকে তীরে আনা হয়।
তালসারি: প্রতক্ষ্যদর্শীদের দাবি রবিবার বিকেল থেকে তিনটে নাগাদ শুটিং চলার সময় সমুদ্রে নামেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও নায়িকা। ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার ক্যারেগা’-র শুটিং চলছিল সেই সময়। প্রথমে সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল বলে জানান তারা। ইউনিটের সদস্যরাও নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যায়। সমুদ্রের দিকে এগোতেই ঘটে বিপত্তি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
advertisement
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি গর্ত থাকার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। বালির নীচে একটি গভীর খাদ ছিল, যা বাইরে থেকে বোঝা যায়নি। সেই জায়গায় পৌঁছতেই নাগাল পাননি অভিনেতা ও নায়িকা। নাগাল না পেয়ে সমুদ্রে পড়ে যান দু’জনেই। তলিয়ে যেতে থাকেন অভিনেতা। নায়িকাও বিপদের মুখে পড়েন। তখনই চিৎকার শুরু করেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের সাহায্য চাওয়া হয় দ্রুত।
advertisement
স্থানীয় বোট নামিয়ে উদ্ধার করা হয় নায়িকাকে। তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও খোঁজ মেলেনি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বেশ কিছুক্ষন ধরে তল্লাশি চালানো হয় সমুদ্রে। পরে কিছুটা দূরে স্থানীয় বোট চালকেরা উদ্ধার করেন অভিনেতাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি তখনও তাঁর দেহে প্রাণ ছিল। দ্রুত তাঁকে তীরে আনা হয়।
advertisement
উদ্ধার করে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েন শুটিং ইউনিটের সদস্যরা। চারদিকে নেমে আসে শোকের ছায়া। এক প্রত্যক্ষদর্শী কার্তিক মণ্ডল বলেন, “শুটিং চলছিল, সব কিছু স্বাভাবিকই লাগছিল। হঠাৎ করে একটু গোলমাল শুনতে পাই। দেখি সমুদ্রের দিক থেকে চিৎকার হচ্ছে। পরে জানতে পারি ওরা জলে নামার পর সমুদ্রে পড়ে গেছে। শুনলাম নিচে নাকি একটা গর্ত ছিল। নায়িকাকে দ্রুত তুলে আনা হয়। কিন্তু অভিনেতাকে তখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পর ওঁকে উদ্ধার করা হয়। এরপর এখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল।"
advertisement
এদিকে, তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় সমুদ্রের জলের তলায় থাকায় অভিনেতার ফুসফুস ও খাদ্যনালীতে বালি ও নোনা জল ঢুকে যায়। এর ফলে ফুসফুসের আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায় বলে অনুমান চিকিৎসকদের। এদিকে তমলুক মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে ভিড় জমায় সাধারণ মানুষ। রাহুলের আত্মীয়রাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রিয় অভিনেতাকে শেষবার দেখতে সকাল থেকেই ভিড়। ময়নাতদন্তের পর তাঁর মরদেহ কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। (মদন মাইতি)








