Sukanya Samriddhi Yojana: সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় মাসে ১০০০ টাকা করে জমালে ম্যাচিউরিটিতে কত রিটার্ন পাবেন ?
- Published by:Dolon Chattopadhyay
- news18 bangla
Last Updated:
SSY Interest Rate: কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা একটি জনপ্রিয় সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প। যদি প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে জমা করা হয়, তাহলে ২১ বছরে ম্যাচিউরিটির সময় কত টাকা পাওয়া যেতে পারে, সেই সম্পূর্ণ হিসেব জেনে নিন।
প্রতিটি বাবা-মা চান তাদের সন্তানের জন্য একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে, যাতে উচ্চশিক্ষা বা বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়। ভারতে বিশেষ করে কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বেশি দেখা যায়।এই বিষয়টি মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার কন্যাসন্তানের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রয়োজন পূরণের জন্য একটি বিশেষ সঞ্চয় প্রকল্প চালু করেছে— সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা।
advertisement
advertisement
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল কন্যাসন্তানের শিক্ষা ও বিয়ের খরচের জন্য একটি আর্থিক তহবিল তৈরি করতে পরিবারকে সাহায্য করা। এই স্কিমের অধীনে অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা জমা করা যায় এবং মেয়ের ২১ বছর বয়স হলে অ্যাকাউন্টটি ম্যাচিউর হয়।এই প্রকল্পে সাধারণ ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় সাধারণত বেশি সুদের হার দেওয়া হয়। পাশাপাশি এতে কর ছাড়ের সুবিধাও রয়েছে, ফলে প্রাপ্ত রিটার্ন করমুক্ত হয়।
advertisement
সুদের হার ও রিটার্ন:বর্তমানে এই প্রকল্পে বছরে ৮.২ শতাংশ সুদের হার দেওয়া হচ্ছে। সুদের হার প্রতি তিন মাস অন্তর সরকার পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করে, যদিও দীর্ঘ সময় ধরে এটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও অভিভাবক প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা (অর্থাৎ বছরে ১২,০০০ টাকা) জমা করেন, তাহলে ১৫ বছরে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ১,৮০,০০০ টাকা। বর্তমান সুদের হারে এতে আনুমানিক ৩,৭৪,২০৬ টাকা সুদ পাওয়া যেতে পারে। ফলে অ্যাকাউন্ট ২১ বছরে পূর্ণ হলে মোট ম্যাচিউরিটির পরিমাণ প্রায় ৫,৫৪,২০৬ টাকা হতে পারে।
advertisement
কীভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবেন?যে কোনও ডাকঘর বা অনুমোদিত ব্যাঙ্ক শাখায় ন্যূনতম ২৫০ টাকা জমা দিয়ে এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে রয়েছে কন্যাসন্তানের বার্থ সার্টিফিকেট এবং বাবা-মা বা অভিভাবকের পরিচয়পত্র (যেমন আধার কার্ড, ভোটার আইডি বা প্যান কার্ড)।একটি পরিবার সর্বোচ্চ দুই কন্যাসন্তানের নামে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। অ্যাকাউন্টটি কন্যাসন্তানের নামেই খোলা হয়, তবে মেয়ের হয়ে বাবা-মা বা অভিভাবকরাই এটি পরিচালনা করেন।
advertisement
টাকা জমার সময়কাল ও ম্যাচিউরিটি:অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ থেকে মাত্র ১৫ বছর পর্যন্ত এই স্কিমে টাকা জমা করতে হয়। তবে অ্যাকাউন্টটি মেয়ের ২১ বছর বয়স হলে ম্যাচিউর হয়। ১৫ বছরের জমার সময়কাল শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচিউরিটি পর্যন্ত জমাকৃত অর্থের উপর সুদ পাওয়া যায়।মেয়ের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে, শিক্ষা বা বিয়ের খরচের জন্য মোট জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তোলা যেতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
advertisement
যোগ্যতা ও কর ছাড়ের সুবিধা:এই প্রকল্পে আয় স্তর নির্বিশেষে সব বাবা-মা বা আইনি অভিভাবক অংশ নিতে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য এটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে একটি ভাল বিকল্প। এই স্কিমে বছরে ন্যূনতম ২৫০ টাকা জমা রাখতে হয় (এটি বজায় না রাখলে জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে), আর বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়।এই স্কিমটি EEE ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ বিনিয়োগ করা টাকা, প্রাপ্ত সুদ এবং ম্যাচিউরিটির সময় পাওয়া অর্থ—সবই সম্পূর্ণ করমুক্ত। তবে এই অ্যাকাউন্ট কেবলমাত্র ১০ বছরের কম বয়সী কন্যাসন্তানের নামে খোলা যায়।
advertisement
ডিসক্লেমার: এখানে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ সচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিনিয়োগকারীদের একজন আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। যদিও এটি একটি সরকার সমর্থিত প্রকল্প, তবুও সময়ে সময়ে এর শর্তাবলি পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ আপডেট জানার জন্য সরকারি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখার বা অনুমোদিত ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।








