Russia Oil: রাশিয়ার তেলেরও দাম বাড়ল! ‘ডিসকাউন্ট’-এর বদলে ‘প্রিমিয়াম’ নিচ্ছেন পুতিন? বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ!
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াও তেলের দাম বাড়িয়েছে। আগে যেখানে ছাড় দিয়ে ভারতকে তেল দিত মস্কো, এখন সেখানে উল্টে অতিরিক্ত দাম বা ‘প্রিমিয়াম’ নেওয়া হচ্ছে। ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির উপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াও তেলের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। আগে যেখানে ভারতকে ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি করত মস্কো, এখন সেখানে ‘ডিসকাউন্ট’-এর বদলে উল্টে অতিরিক্ত দাম বা ‘প্রিমিয়াম’ নেওয়া হচ্ছে। ফলে ভারতের জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
advertisement
২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের নবম দিনেই এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার ফলে ভারতের দীর্ঘদিনের তেল সরবরাহ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে রাশিয়ান তেলের দাম বাড়ার খবর, যা ভারতের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। (Photo: AI)
advertisement
গত চার বছর ধরে ভারতের অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল তুলনামূলক সস্তা রাশিয়ান তেল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। আগে ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া ভারতকে প্রতি ব্যারেল তেলে ১৫ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিত। কিন্তু এখন সেই ‘স্যানকশন ডিসকাউন্ট’ বদলে হয়েছে ‘স্কার্সিটি প্রিমিয়াম’। অর্থাৎ, সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে রাশিয়া উল্টে বাড়তি দাম নিচ্ছে। (Photo: AI)
advertisement
advertisement
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ১৪ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহণ মাঝপথেই আটকে রয়েছে। এর ফলে ভারতের তেল শোধনাগারগুলি, যেমন আইওসি ও বিপিসিএল, তাদের প্রয়োজন মেটাতে রাশিয়ার তেলের উপর আরও বেশি নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সুযোগই পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে মস্কো। (Photo: AI)
advertisement
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কূটনীতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মত। আগে ভারত-রাশিয়া তেল বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ করা হলেও এখন আবার তেলের দাম কমাতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার অনুরোধ করছে আমেরিকা। এই নীতিগত জটিলতার সুযোগ নিয়েই রাশিয়া তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। (Photo: AI)
advertisement
অন্যদিকে পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক তেলবাহী জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তে ‘কেপ অফ গুড হোপ’ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভারতে পৌঁছতে হচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রপথে বীমা ও পরিবহণ খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। ফলে রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর থেকে তেল তুলনামূলক সস্তা হলেও ভারতে পৌঁছতে পৌঁছতে তার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে। (Photo: AI)
advertisement
দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে এবং সেখানে সরকার জ্বালানি কেনাবেচায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বলে খবর। এই পরিস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতেও পড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশে পেট্রোল ও ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে এবং সেখানে সরকার জ্বালানি কেনাবেচায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বলে খবর। (Photo: AI)
advertisement
advertisement
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। করোনা মহামারির পর দেশের অর্থনীতি সামলাতে সস্তা রাশিয়ান তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু এখন রাশিয়ার ইউরালস তেলের দাম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কাছাকাছি বা তারও বেশি হয়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম এবং ভারতীয় টাকার উপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। (Photo: AI)
advertisement
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া তেলের দাম বাড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভারত সহ একাধিক দেশের জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহণ হয়। যুদ্ধের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
advertisement
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। আগে ভারত সহ বহু দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল কিনত। কিন্তু বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন রাশিয়াও তেলের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। ফলে ভারতের জন্য সস্তা রুশ তেলের যুগ শেষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আরও বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেলের দামের উপরেও। (Photo: AI)
advertisement
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এবং তার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে ওই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও দাম—দুটোর উপরই চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দামেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যেই কিছু জ্বালানির দামে বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে বলে আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। (Photo: AI)
advertisement






