Gold Loan Warning: দামি সোনার লোভে মোটা সোনার ঋণ নেবেন না, একটি ছোট ভুলের জন্য আপনার গয়না নিলামে তোলা হবে
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Written by:Trending Desk
Last Updated:
Gold Loan Warning: গোল্ড লোন দ্রুত টাকা পাওয়ার একটি সহজ উপায় হলেও এতে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ পরিশোধ না করলে বা শর্ত ভাঙলে ঋণদাতা আপনার বন্ধক রাখা গয়না নিলামে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যখনই যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, বিনিয়োগকারীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সোনার মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলে তাঁদের অর্থ বিনিয়োগ করেন। এই কারণেই দেশীয় বাজারে সোনার দাম রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। সোনার দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে সোনার ঋণ নেওয়ার জন্য ভিড় তৈরি করেছে।
advertisement
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) এর তথ্য অনুসারে, গত বছরে সোনার ঋণের পরিমাণ বিস্ময়করভাবে ১২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে সোনার উচ্চ মূল্যের কারণে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া ঋণের ফাঁদে ফেলতে পারে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কীভাবে একটি ছোট ভুল সোনার গয়নাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
advertisement
সম্ভাব্য ক্ষতি কী হতে পারেমধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের হুমকি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। ভারতীয় বাজারে সোনার আকর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সোনার ঋণ চাওয়ার সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে সোনার উচ্চ মূল্যের কারণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঋণ নেওয়া একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ঝুঁকি হতে পারে। প্রাথমিক সমস্যা হল জামানত মূল্যের বিভ্রম। যখন সোনার দাম বেড়ে যায়, তখন ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক সংস্থাগুলি গয়নার বর্ধিত বাজার মূল্যের প্রায় ৭৫% ঋণ দিতে ইচ্ছুক থাকে।
advertisement
উদাহরণস্বরূপ, একটি সোনার টুকরো যা আগে ১ লাখ টাকা দিত, এখন সহজেই ১.২৫ লাখ বা তার বেশি ঋণ দিতে পারে। মানুষ প্রায়শই এই বর্ধিত পরিমাণের প্রলোভনে পড়ে এবং তাদের পরিশোধের ক্ষমতার চেয়ে বেশি ঋণ নেয়। তবে, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে, এই দামের উত্থান প্রায়শই অস্থায়ী এবং আবেগপ্রবণ হয় এবং পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত হ্রাস পেতে পারে।
advertisement
মার্জিন মানি ঝুঁকিসোনার দামের এই অস্থিরতা একটি উল্লেখযোগ্য মার্জিন মানি ঝুঁকি তৈরি করে। ধরা যাক কেউ রেকর্ড-উচ্চ সোনার দামে একটি বড় ঋণ নিয়েছেন, এবং তারপরে, উন্নত আন্তর্জাতিক অবস্থার কারণে, সোনার দাম হঠাৎ করে ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি অবিলম্বে তাদের ঋণ-থেকে-মূল্য (LTV) অনুপাত রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত মার্জিন মানি জমা দেওয়ার দাবি করবে। কেউ যদি সময়মতো অতিরিক্ত তহবিল জমা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে ব্যাঙ্কগুলি অবিলম্বে সেই গয়না নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। প্রায়শই, ঋণগ্রহীতারা এই প্রযুক্তিগত ঝুঁকি বুঝতে ব্যর্থ হন এবং তাঁদের সামান্য অবহেলার কারণে, তাঁরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ এবং মূল্যবান গয়না চিরতরে হারান।
advertisement
ঋণ পরিশোধে অসুবিধাভারতের মতো দেশে, সোনা কেবল একটি বিনিয়োগ নয়, বরং পরিবারের জন্য একটি মানসিক উত্তরাধিকার। সোনার ঋণ পাওয়া সহজ হতে পারে, তবে কিস্তি পরিশোধ না করলে গয়না নিলামে তোলার ভয় কেবল আর্থিক নয়, গভীর মানসিক আঘাতের কারণও হয়। যেহেতু সোনার ঋণ প্রায়শই স্বল্পমেয়াদী হয়, তাই আয়ের স্থিতিশীল উৎস না থাকলে ব্যয়বহুল সোনার প্রলোভনে পড়া আত্মঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে পরামর্শ দেন যে সোনার ঋণ শুধুমাত্র চিকিৎসাগত জরুরি অবস্থার জন্য বা ভবিষ্যতে আয়ের সম্ভাবনাযুক্ত উৎপাদনশীল কাজের জন্য বিবেচনা করা উচিত। সোনার মূল্য বর্তমানে বেশি বলে ঋণ নেওয়া ঋণের ফাঁদে ফেলতে পারে। মনে রাখতে হবে যে, যুদ্ধকালীন সময়ে বাজার অত্যন্ত অনিশ্চিত থাকে এবং আজকের রেকর্ড উচ্চতা আগামীকাল উল্লেখযোগ্য পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।







