Gold Selling: সোনার দাম মারাত্মকভাবে কমতে চলেছে? তাহলে সোনা এখন ধরে রাখা উচিৎ না কি বিক্রি করে দেওয়াই ভাল হবে? জেনে নিন পরিস্থিতি
- Reported by:Siddhartha Sarkar
- news18 bangla
Last Updated:
Gold Investment: আর্থিক বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন যে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সাবধানে চিন্তা করা উচিত। কেউ কেউ এমনও পরামর্শ দিচ্ছেন যে বিনিয়োগকারীদের এখন প্রফিট বুক করার নীতি বেছে নেওয়া উচিত।
পরিস্থিতি বেশ টালমাটাল বললে খুব একটা ভুল হবে না। এমনিতে দেখলে সোনা এবং রুপোর মতো মূল্যবান ধাতুর দাম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওঠানামা করেই থাকে, সেটাই বাজারের ধর্ম। তবে বিগত বছর থেকে যে বৈশ্বিক পটভূমি তৈরি হয়েছে, তা সোনা এবং রুপো দুইয়েরই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।গত কয়েক মাসেও সেটাই হয়েছে- সোনা ও রুপোর দাম তীব্রভাবে বেড়েছে। কিন্তু এবার বিনিয়োগের বাজারে মেঘ ঘনিয়েছে, দাম এখন কিছুটা হলেও কমছে। সর্বকালের সর্বোচ্চ স্পর্শ করার পর সোনা এবং রুপো উভয়ই এখন মাটির দিকে নামতে শুরু করেছে। এতে খুব স্বাভাবিক ভাবেই অনেকের মনে দ্বিধা তৈরি হয়েছে যে তাঁরা আর বিনিয়োগ করবেন কি না।
advertisement
কারণ গত ১৮ মাসে সোনা ও রুপোর দাম বিশাল রিটার্ন তৈরি করেছে। টাকার নিরিখে সোনার দাম ১০০%-এরও বেশি এবং রুপোর দাম প্রায় ২০০% বেড়েছে। এই বিশাল উত্থানের কারণে মূল্যবান ধাতুদুটো বাজারে একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে, আর্থিক বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন যে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সাবধানে চিন্তা করা উচিত। কেউ কেউ এমনও পরামর্শ দিচ্ছেন যে বিনিয়োগকারীদের এখন প্রফিট বুক করার নীতি বেছে নেওয়া উচিত।
advertisement
সোনা, রুপো এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম বৃদ্ধির পিছনে বেশ কিছু বৈশ্বিক এবং স্থানীয় কারণ দায়ী। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মার্কিন বাণিজ্য নীতি, মুদ্রাস্ফীতি উদ্বেগ, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির বৃহৎ পরিমাণে ক্রয় এবং ইক্যুইটি বাজারে লোকসানকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। রুপো আরও জোরালোভাবে লাভ করেছে। কারণ এটি একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল সম্পদ এবং শিল্প ধাতু হিসেবে কাজ করে। সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির জন্য রুপোর প্রয়োজন হয়। একই সময়ে, অনেক ভারতীয় বিনিয়োগকারী ইক্যুইটি থেকে সোনা ও রুপোর স্কিমে অর্থ স্থানান্তরিত করেছেন। জানুয়ারিতে মূল্যবান ধাতুর ইটিএফ-এ বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৩,৫০৩ কোটি টাকা ছুঁয়েছে, যা প্রথমবারের মতো ইক্যুইটি ফান্ড বিনিয়োগের ২৪,০২৯ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।
advertisement
advertisement
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুসারে, কিছু ফান্ড ম্যানেজার বিশ্বাস করেন যে প্রফিট বুক করার এটিই সঠিক সময় হতে পারে। ডিএসপি মিউচুয়াল ফান্ডের সাহিল কাপুর পরামর্শ দিয়েছেন যে গত দেড় বছর ধরে সোনা ও রুপো কিনেছেন এমন বিনিয়োগকারীদের এবার মুনাফা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত এবং আপাতত সতর্ক থাকা উচিত।
advertisement
কিছু বিশেষজ্ঞ আবার ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করার পরামর্শ দেন। দ্য ওয়েলথ কোম্পানির অক্ষয় চিনচলকর বড় পরিমাণে বিনিয়োগের পরিবর্তে ধীরে ধীরে এক্সপোজার বাড়ানোর জন্য সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান, সংক্ষেপে SIP ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। তিনি নতুন বিনিয়োগকারীদের ছোট করে শুরু করার এবং উচ্চ স্তরে আক্রমণাত্মক বিনিয়োগ এড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
advertisement
ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির উপর প্রভাবের দিকটাও উপেক্ষা করা যায় না। সোনা ও রুপোর আমদানিও ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্যকে প্রভাবিত করেছে। জানুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি তিন মাসের সর্বোচ্চ ৩৪.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আমদানি ১৯.১% বেড়ে ৭১.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সোনার আমদানি ৪.৫ গুণ বেড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারে এবং রুপোর আমদানি ২.৩ গুণ বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। রফতানি মাত্র ০.৮% বেড়ে ৩৬.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইলেকট্রনিক্স এবং ওষুধের ক্ষেত্রে সামান্য প্রবৃদ্ধি হলেও হিরে, গয়না এবং টেক্সটাইলের ক্ষেত্রে দুর্বলতা ছিল। সরকার এই বছর প্রায় ৮৬০ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রফতানি অর্জনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। পরিষেবা রফতানি প্রথমবারের মতো ৪১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ২৫% সেকেন্ডারি শুল্ক প্রত্যাহারের পর মার্কিন চাহিদা পুনরুদ্ধারের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।
advertisement
তাহলে সোনা কি এখন ধরে রাখা উচিত না কি বিক্রি করে দেওয়াই ভাল হবে? পরিস্থিতি হল মূল্যবান ধাতুগুলি ইতিমধ্যেই খুব ভাল রিটার্ন প্রদান করেছে। সাম্প্রতিক উচ্চ স্তর থেকে দাম কমে এসেছে। স্বল্পমেয়াদে আর কোনও উত্থান হতে পারে না। মুদ্রাস্ফীতি, মার্কিন সুদের হার এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মতো বৈশ্বিক কারণগুলি দামকে প্রভাবিত করতে থাকবে। অতএব, যদি উচ্চ রিটার্ন পাওয়া যায়, তাহলে আংশিক প্রফিট বুকিং ভাল সিদ্ধান্ত হবে। বিনিয়োগে নতুন হলে অল্প পরিমাণে কেনা শুরু করা উচিত। তবে, সব সময়েই সতর্ক থাকা এবং ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।








