corona virus btn
corona virus btn
Loading

হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে বীরসিংহপুরের মাজারে ৪০০ বছরের প্রাচীন উৎসবে

হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে বীরসিংহপুরের মাজারে ৪০০ বছরের প্রাচীন উৎসবে

যখন বিচ্ছিন্ন ভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বলে উঠছে সাম্প্রদায়িকতার আগুন সেসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য

  • Share this:

#বীরসিংহপুর: যখন বিচ্ছিন্ন ভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বলে উঠছে সাম্প্রদায়িকতার আগুন সেসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির হয়ে থাকল বাঁকুড়ার বীরসিংহপুরের উৎসব । ৪০০ বছরের প্রাচীন এই উৎসবে ভাগ নিলেন দূর দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য মানুষ । হিন্দু ,মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে সকলেই মানবতার প্রতীক নিরগিন সাহা বাবার মাজারে চাদর চড়িয়ে মেতে উঠলেন মহা মিলন উৎসবে ।

কথিত আছে বাগদাদ থেকে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্যেশ্যে ১৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে এদেশে আসেন নিরগিন সাহা বাবা । দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ম প্রচার করে তিনি বাঁকুড়ায় এসে বীরসিংহপুর গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে শুরু করেন । সেসময় চিকিৎসা শাস্ত্র এত উন্নত ছিল না । নিরগিন সাহা বাবার বিপুল ওষধি জ্ঞ্যান থাকায় অল্প দিনেই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি । নিজের জ্ঞান ও অসাধারণ ব্যবহারে ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষের মন জয় করে অল্প দিনেই তিনি মানবতার প্রতীক হিসাবে এলাকায় পরিচিতি পান । বর্ধমান রাজার দেওয়ান কৃষ্ণ দত্ত নিরগিন সাহা বাবার ব্যবহার ও জ্ঞানে আপ্লুত হয়ে বীরসিংহপুর গ্রামে দারকেশ্বর নদের তীরে তাঁর বসবাসের জন্য জায়গা দান করেন । ১৬৫৭ সালের মাঘ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার নিরগিন সাহা বাবা সেখানেই মারা যান ।

তাঁর মৃত্যুর পর এলাকার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সকলে মিলে নিরগিন সাহা বাবার বসত বাটিতে মাজার স্থাপন করেন । তারপর থেকেই নিরগিন সাহা বাবার স্মৃতিতে প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার শুরু হয় উৎসব । ধীরে ধীরে সময় যত গড়িয়েছে ততই পরিধি বেড়েছে উৎসবের । এখন শুধু এলাকার মানুষ নয় আশপাশের জেলা এমনকি ভিন রাজ্যের হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে বহু মানুষ মাঘ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার ছুটে আসেন নিরগিন সাহা বাবার মাজার সরিফে । দুই ধর্মের মানুষই নিরগিন সাহা বাবার মাজারে চাদর চড়িয়ে পরিবার ও জগতের মঙ্গল কামনা করেন । এই উপলক্ষে বীরসিংহপুরের কাছে দারকেশ্বর নদের চরে রীতিমত মেলা বসে যায় । স্থানীয় মানুষের দাবি এই উৎসব কোনও ধর্ম বা বর্ণের নিজস্ব উৎসব নয় । এই উৎসব মানবতার ।

First published: January 19, 2017, 6:09 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर