• Home
  • »
  • News
  • »
  • technology
  • »
  • NFT এখন ঝড় তুলেছে বলিউড এবং ক্রিকেট মহলে, এদের সম্পর্কে যে জিনিসগুলি জেনে রাখা দরকার

NFT এখন ঝড় তুলেছে বলিউড এবং ক্রিকেট মহলে, এদের সম্পর্কে যে জিনিসগুলি জেনে রাখা দরকার

এই NFT জিনিসটা কী? কেনই বা আপনি এখানে বিনিয়োগ করবেন?

এই NFT জিনিসটা কী? কেনই বা আপনি এখানে বিনিয়োগ করবেন?

এই NFT জিনিসটা কী? কেনই বা আপনি এখানে বিনিয়োগ করবেন?

  • Share this:

    রূপালি পর্দার নামজাদা সমস্ত তারকা থেকে শুরু করে বিখ্যাত ক্রিকেটাররা, সকলেই আজকাল একটি বিষয় নিয়ে মেতে উঠেছেন। IPL নয়, এই নতুন জিনিসের নাম NFT। বলিউডের অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে সলমন খান, আবার ক্রিকেট জগতের জাহির খান থেকে শুরু দীনেশ কার্তিক, সকলেই যে মজে রয়েছেন NFT-তে, সেই খবর চারিদিকে হইচই ফেলে দিয়েছে।

    কিন্তু এই NFT জিনিসটা কী ? কেনই বা আপনি এখানে বিনিয়োগ করবেন ? NFT হল ২০২১ সালের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাজওয়ার্ড, তাই এই বিষয় সম্পর্কে আরও জানতে সাথে থাকুন।

    NFT বলতে কী বোঝায়?

    NFT কথাটির পূর্ণ রূপ হল নন-ফাঞ্জিবেল টোকেন; এগুলি হল এক ধরনের ভার্চুয়াল অ্যাসেট যার কোনও ফিজিকাল বা বাস্তব উপস্থিতি নেই, কিন্তু এগুলি সম্পদ হিসেবে বিক্রি করা সম্ভব, তাই এক্ষেত্রে মালিকের কাছেই এই অ্যাসেটের অরিজিনাল কপি থাকে। বিষয়টি আর একটু বুঝিয়ে বলা যাক।

    ফাঞ্জিবেল কথাটির অর্থ হল বিনিময়যোগ্য- যেমন ধরুন একটি পঞ্চাশ টাকার নোট বিনিময় করে আপনি আরও একটি পঞ্চাশ টাকার নোট নিতে পারেন, কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট নোট বিনিময় করার জন্য তার মালিকানা দাবি করার প্রয়োজন হয় না। ফিয়াট কারেন্সির এই বিনিময় যোগ্যতার কারণেই এগুলি দেশের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ইস্যু করে, এবং এগুলিই ব্যবসায়িক বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

    নন-ফাঞ্জিবেল বা বিনিময়-অযোগ্য হলে, সেই নির্দিষ্ট টোকেন বা অ্যাসেট বিনিময় করা সম্ভব হয় না। ফলে, কোনও শিল্পকর্ম বা কোনও অ্যাসেট যদি আপনি NFT হিসেবে কেনেন, তাহলে সেটি হবে একদম অনন্য এবং এর অরিজিনাল কপি থাকবে শুধুমাত্র তার মালিকের কাছে। ফলে বলা যেতে পারে যে, NFT হল এক রকমের ডিজিটাল অ্যাসেট, যাকে সংগ্রহযোগ্য আইটেম হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে, কিন্তু এটি ব্যবহার করে কোনও রকম বিনিময় সম্ভব নয়।

    NFT মালিকানা বিষয়টি কীভাবে নির্ধারিত হয় –

    NFT–এর ক্ষেত্রে ইথেরিয়াম বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। আপনি ভারতীয় মুদ্রা ব্যবহার করে ZebPay–এর মতো ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে ইথার কিনতে পারবেন। ইথার হল এক রকমের ক্রিপ্টোকারেন্সি যা ইথেরিয়াম নেটওয়ার্কে উপলব্ধ, এটাইএর ব্লকচেন।মনে রাখবেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্যও কিন্তু ফাঞ্জিবেল, তার ফলে আপনার কেনা এক ইথারের দাম এবং আপনার বন্ধুর কেনা এক ইথারের দাম সব সময় সমান হবে।

    অন্যদিকে, ইথেরিয়াম ব্লকচেন ব্যবহার করে যদি আপনি একটি NFT তৈরি করেন, তাহলে সেটি হবে আপনার নিজস্ব একটি অনন্য ক্রিপ্টোগ্রাফিক টোকেন, আপনিই হবেন তার মালিক এবং আপনি নিলাম ডেকে সেটি সর্বোচ্চ বিডারের কাছে বিক্রি করতে পারেন। NFT কেনার অর্থ হল, নিলামে গিয়ে সর্বোচ্চ দাম হেঁকে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে সেই জিনিসটি কিনে নেওয়া এবং তাকে নিজের অনন্য শিল্পকর্ম হিসেবে সংগ্রহ করে রাখা। এক্ষেত্রে ব্লকচেনে সেই NFT-এর মালিক হিসেবে আপনার নাম নথিভুক্ত করা হবে, যাতে তার মালিকানা প্রমাণিত হয়। কোনও ব্যক্তি যদি একটি NFT কেনেন, তাহলে পরবর্তী কালে তিনি সেটি অপর কোনও আগ্রহী ব্যক্তিকে বিক্রি করতেই পারেন। তবে ব্লকচেন প্ল্যাটফর্মে সর্বদা সেই NFT প্রস্তুতকারকের নাম দেখা যাবে, এবং তার ডিজিটাল হিস্ট্রি রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য সেখানে প্রত্যেক মালিকের নাম ক্রম অনুসারে নথিভুক্ত করা হবে।

    যে কোনও ডিজিটাল অ্যাসেট NFT হতে পারে। যে কোনও শিল্পকর্ম থেকে শুরু করে কোনও পেন্টিং, কিংবা মোশন পোস্টার, মিউজিক পিস, গেম প্লে, ভিডিও পোস্ট. মিম বা এমনকী আপনার কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট- NFT হতে পারে সব কিছুই! চলতি বছরের মার্চ মাসে টুইটারের জ্যাক ডোর্সে NFT হিসেবে তাঁর প্রথম টুইট বিক্রি করেছেন, $২.৯ মিলিয়নেরও বেশি মূল্যে।

    ডিজিটাল শিল্পী বীপল ‘এভরিডেজ’ নামক তাঁর NFT বিক্রি করেছেন $৬৯ মিলিয়নে, এবং এই ঘটনার পরেই গোটা পৃথিবী নড়েচড়ে বসেছে এবং NFT নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত অনেকে নানা রকম NFT তৈরি করেছেন এবং বিডিং ডেকে সেগুলি বিক্রি করেছেন, এর মধ্যে অনেক কিছুই কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে। ‘ডিজাস্টার গার্ল’-এর মতো মিম বিক্রি হয়েছে $৪৭৩,০০০ মূল্যে এবং ‘ন্যান ক্যাট’ বিক্রি হয়েছে $৫৯০,০০০ মূল্যের বিনিময়ে। এছাড়াও কিছু জনপ্রিয় NFT হল রিক অ্যান্ড মর্টি, ক্রিপ্টোপাঙ্কস এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের অরিজিনাল সোর্স কোড।

    ভারতীয় সংযোগ–

    NFT বর্তমানে ভারতেও একটি বাজওয়ার্ডে পরিণত হতে চলেছে। অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন তাঁর নিজস্ব NFT চালু করেছেন, এগুলি তৈরি করা হয়েছে মূলত তাঁর জীবনের উপরে ভিত্তি করে এবং বেশ কয়েকটির মধ্যে তাঁর পিতা হরিবংশ রাই বচ্চনের লেখা কিছু পংক্তি রয়েছে, যেগুলি শোনা যাবে এই জনপ্রিয় অভিনেতার কণ্ঠস্বরে। এই NFT গুলি উপলব্ধ রয়েছে বিয়ন্ডলাইফ নামক একটি প্ল্যাটফর্মে। সানি লিওন হলেন বলিউডের প্রথম এমন নায়িকা যিনি নিজস্ব NFT সংগ্রহ চালু করেছেন, এতে রয়েছে নানা রকম অনন্য, হ্যান্ড-অ্যানিমেটেড আর্ট। পিছিয়ে নেই ভাইজান সলমন খান-ও, তিনি NFT–তে নিজের উপস্থিতি সদর্পে ঘোষণা করেছেন বলিকয়েন নামক একটি প্ল্যাটফর্মে।

    এই দৌঁড়ে নায়ক-নায়িকাদের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটছেন ক্রিকেটাররাও। দীনেশ কার্তিক নিদাহাস টি২০ সিরিজে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শেষ বলে যে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন, তাকে তিনি পরিণত করেছেন একটি NFT-তে। ঋষভ পান্ত যোগ দিয়েছেন রারিও-তে, এই প্ল্যাটফর্মে মূলত ক্রিকেটের বিভিন্ন স্মারক-কে লাইসেন্স প্রদান করা হয়, এবং এখানেই পান্তের নানা স্মরণীয় ক্রিকেট-মুহূর্তগুলিকে এক্সক্লুসিভ ডিজিটাল সংগ্রহ-যোগ্য বিষয় করে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।

    অভিনেতা বিশাল মালহোত্রা, রাপার রফতার এবং ক্রিকেট ফাউন্ডেশন, সিঙ্গাপুরের একটি প্ল্যাটফর্ম সদ্য ঘোষণা করেছে যে তারাও বিভিন্ন ক্রিকেটিং NFT মিন্ট করার কাজে নামতে চলেছে, এবং এই প্ল্যাটফর্মের সাথে হাত মিলিয়েছেন ভি. ভি. এস. লক্ষ্মণ, পার্থিব প্যাটেল, আর. পি. সিং, পীযূষ চাওলা, দীপ দাশগুপ্ত, প্রজ্ঞান ওঝা এবং আরও অনেকে।

    NFT নিয়ে এই হইচই শুরু হওয়া প্রসঙ্গে একটা কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যেতে পারে, ডিজিটাল অ্যাসেট নিয়ে এই উন্মাদনা সদ্য শুরু হয়েছে। এখন আপনি জেনে গিয়েছেন যে NFT কী জিনিস, তাই এই ধরনের যেকোনও ঘোষণার দিকে চোখ রাখুন, কারণ উপরে যে তারকাদের নাম করা হয়েছে তাঁরা শীঘ্রই এই বিষয়ে ঘোষণা করবেন এবং আপনি এমন এক ভাগ্যবান হয়ে উঠতে পারেন যিনি প্রিয় বলিউড নায়ক-নায়িকা বা ক্রিকেটারের বিশেষ অ্যাসেট NFT-এর প্রথম সংগ্রাহক হয়ে উঠতে পারেন।

    আর দেরি না করে ক্রিপ্টোকারেন্সির জগতে যাত্রা শুরু করুন এবং আপনার প্রিয় তারকার সাথে তাল মিলিয়ে চলুন। আজই ক্রিপ্টোতে আপনার বিনিয়োগ শুরু করুন।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: