• Home
  • »
  • News
  • »
  • sports
  • »
  • কোভিড পরিস্থিতিতে আর্ত মানুষের পাশে 'শিখ এইড', দিনরাত লড়ছেন ওড়িশার তরুণ তুর্কিরা

কোভিড পরিস্থিতিতে আর্ত মানুষের পাশে 'শিখ এইড', দিনরাত লড়ছেন ওড়িশার তরুণ তুর্কিরা

করোনা ভাইরাসের দেশজোড়া প্রকোপের প্রথম ধাপেই সতবীর এবং তাঁর নয় জন বন্ধু মিলে তৈরি করেন শিখ এইড (Shikh Aid) নামে এক সংস্থা।

করোনা ভাইরাসের দেশজোড়া প্রকোপের প্রথম ধাপেই সতবীর এবং তাঁর নয় জন বন্ধু মিলে তৈরি করেন শিখ এইড (Shikh Aid) নামে এক সংস্থা।

করোনা ভাইরাসের দেশজোড়া প্রকোপের প্রথম ধাপেই সতবীর এবং তাঁর নয় জন বন্ধু মিলে তৈরি করেন শিখ এইড (Shikh Aid) নামে এক সংস্থা।

  • Share this:

#ভুবনেশ্বর: শেষ দশ দিনে নাওয়া খাওয়ার সময় পাননি সতবীর সিং (Satbir Singh)। অবিরাম বেজে গিয়েছে তাঁর ফোন। কারও দরকার অক্সিজেন, কেউ আবার খুঁজছেন হাসপাতালের দুর্মূল্য বেড। সতবীর ফেরাচ্ছেন না কাউকেই। সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন সকলের জন্য৷ নিজের বন্ধুদের নিয়ে ৩৫ বছর বয়সি এই কোভিড যোদ্ধা চষে ফেলছেন শহর। হোম আইসোলেশনে থাকা কোভিড রোগীকে পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার৷ নিজের কাঁধে বইছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। তবু ক্লান্ত নন সতবীর। বলছেন, 'এটা ক্লান্তির সময় নয়।'

করোনা ভাইরাসের দেশজোড়া প্রকোপের প্রথম ধাপেই সতবীর এবং তাঁর নয় জন বন্ধু মিলে তৈরি করেন শিখ এইড (Shikh Aid) নামে এক সংস্থা। অ-লাভজনক এই সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল, প্যান্ডেমিকের প্রথম ধাপে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধপত্র কিংবা আরও নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তুলে দেবার উদ্দেশ্য নিয়ে। প্রথম পর্যায়ের লকডাউনের মধ্যে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করে গিয়েছেন সতবীর ও তার বন্ধুরা। ক্রমে বছর ঘুরেছে। কিন্তু কোভিড ভাইরাসের মারণ কামড় থামেনি। দেশজোড়া করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে জেরবার সাধারণ মানুষ। অক্সিজেনের উদ্দেশ্যে হাহাকার চলছে। দুর্মূল্য হাসপাতালের বেড। নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) শাসনাধীন, কেন্দ্রীয় সরকার যেখানে ঠুঁটো জগন্নাথ, সেখানে ফের একবার দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন সতবীররা। অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে শিখ এইড রোগীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, মাস্ক, পালস অক্সিমিটার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র৷ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। উড়িষ্যার দুই বড় শহর ভুবনেশ্বর ও কটক জুড়ে কাজ করছেন তাঁরা।

শিখ এইডের সদস্যরা অধিকাংশই পেশায় হয় ছাত্রছাত্রী, না হলে ব্যবসাদার। বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫-এর ভিতরে। নিজেরা প্রাথমিক ভাবে নিজেদের জমানো সঞ্চয় খরচ করেই এতদিন কটক কিংবা ভুবনেশ্বরে পৌঁছে দিচ্ছিলেন অক্সিজেন থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র৷ তবে এখন আর কেবলমাত্র নিজেদের সঞ্চয়ের উপরে ভরসা নয়। নিজেদের পাশাপাশি তাঁরা ডাক দিয়েছেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিখ কৌমের অজস্র মানুষের উদ্দেশ্যে। তাঁদেরকে সাহায্যের জন্য আবেদন করেছেন শিখ এইডের সদস্যরা। গত শনিবার অবধি ২৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছেন সতবীর ও তার বন্ধুরা। প্রতিবার অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেবার আগে জেনে নিয়েছেন রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশনের লেভেল। স্যাচুরেশন লেভেল নব্বই থেকে পঁচানব্বইয়ের ভিতরে থাকলে অথবা নব্বইয়ের নিচে নামলে তবেই শরীরে অক্সিজেন প্রয়োজন, তা বাড়ি বাড়ি ঘুরে বলছেন, পেশায় ব্যবসায়ী সতবীর। সংস্থার আরেক সদস্য পরমজিৎ সিং আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে অক্সিজেন বাড়িতে জমিয়ে না রাখার আহ্বান করেছেন।

Published by:Rukmini Mazumder
First published: