ক্যান্সার ছিনিয়ে নিয়েছে বাবাকে, মা কাজ করেন অন্যের বাড়িতে, ফুটবল পায়ে দিনবদলের স্বপ্ন দেখে সিঙ্গুরের পলি

ক্যান্সার ছিনিয়ে নিয়েছে বাবাকে, মা কাজ করেন অন্যের বাড়িতে, ফুটবল পায়ে দিনবদলের স্বপ্ন দেখে সিঙ্গুরের পলি
Photo- Representive

দলের রক্ষণের বড় ভরসা, এবার পরিবারের রক্ষার দায়িত্বেও ফুটবল পায়েই স্বপ্নে বিভোর

  • Share this:

#সিঙ্গুর: দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত বাবা। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। দু'বেলা ঠিক করে খাবার পর্যন্ত জোটে না। জীবনে একটার পর একটা হার্ডল। তবু আটকে রাখা যায়নি ও কে। গ্রাম বাংলার সিঙ্গুর থেকে ভারতের জাতীয় দল। লম্বা রাস্তাটা পাড়ি দেওয়া নেহাত সহজ ছিল না। পলি কিন্তু থেমে যায়নি। সিঙ্গুর নামটা শুনলেই এক ঝলকে মনে আসে বাংলার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট। মাথায় ঘোরে রাজ্যের জমি আন্দোলনের ইতিবৃত্তান্ত। কিন্তু এই সিঙ্গুর সাক্ষী এক ময়দানি কন্যার জীবন সংগ্রামের। পলি কোলে। আটপৌরে নামটা নেহাতই এখনও অচেনা। কিন্তু ফুটবল মাঠের হাল-হকিকতের খোঁজ যারা রাখেন, তাদের কাছে নতুন নয় পলি  কোলে। বাংলার পরে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের নিয়মিত মুখ পলি।

এশিয়া কাপের প্রস্তুতি ম্যাচে দেশের জার্সিতে খেলেছেন হংকং, ইন্দোনেশিয়ার মত কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রোগা, শীর্ণকায় চেহারার মেয়েটা আগলে রাখে  ভারতীয়  দলের ডিফেন্সের  লকগেট। বাবা মারা যাওয়ায় ফিরে আসতে হয়েছিল জাতীয় দলের শিবির থেকে। এশিয়া কাপটা আর খেলা হয়নি সেবার। বছর খানেক আগের ঘটনার কথা মনে পড়লেই চোখ ছল ছল করে ওঠে সিঙ্গুরের লড়াকু মেয়েটার। ভারতের জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নটা বুনতে কম ঝড় জল পোহাতে হয়নি ও কে!

আরও পড়ুন - মেলবোর্নে রাজা ‘জোকার’ , অষ্টমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলেন সার্বিয়ান তারকা

পাড়াপড়শির গঞ্জনা, আত্মীয়দের বকুনি অগ্রাহ্য করেই সবুজ মাঠে কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন বুনে ছিলেন। নিম্নবিত্ত বাড়ির মেয়ে ফুটবল খেলবে? এটাই তো সেদিন মেনে নিতে পারিনি জমি আন্দোলনের পথিকৃৎ সিঙ্গুর।পলি আজ ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের অন্যতম চেনা মুখ। ভারতীয় দলের ডিফেন্সের স্তম্ভ। মহিলাদের আই লিগে বাংলার একমাত্র দল মন্ত্রী সুজিত বসুর শ্রীভূমি স্পোর্টিং এর অধিনায়ক পলি। এতো লড়াইয়ে মনের জোর পান কোথা থেকে? বিড়বিড় করে ওঠেন পলি। "ফুটবল এর জন্যই তো সেই ছোট থেকে এত কিছু মুখ বুজে সহ্য করা। কিন্তু এবার একটা চাকরির বড় দরকার। না হলে আর হয়তো ফুটবল টা চালিয়ে যেতে পারবো না।" গলা খাদে নেমে যায় ভারতীয় দলের দাপুটে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের।

মন্ত্রী সুজিত বসু আশ্বাস দিয়েছেন। পাশে থেকেছেন শ্রীভূমির কর্তা রাকেশ ঝা, কোচ দোলা মুখোপাধ্যায়। স্বপ্ন দেখা আজও ছাড়েননি পলি। ফিফা  ক্রমপর্যায়ে  ভারতীয় দল ৫৭। এই দল থেকেই তো বালা দেবী নাম লিখিয়েছেন স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগের রেঞ্জার্সের মতো প্রথম সারির ক্লাবে। বালা দেবী পারলে  পলি কেন পারবে না? চোয়াল শক্ত করে আবারও অনুশীলনে ফেরেন সিঙ্গুরের ভূমি কন্যা। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার মুখ, অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার মায়ের কাজ করার যন্ত্রণার ছবি গুলো ঝাপসা হয়ে যায়। প্রবল হয়ে ওঠে জেদ। বল পায়ে দৌড় শুরু করে পলি। একে একে প্রতিপক্ষকে টলিয়ে ঢুকে পড়ে পেনাল্টি বক্সে। সামনে শুধু তিন কাঠি। গোল করতে পারবে তো পলি?

First published: February 2, 2020, 9:15 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर