ভ্যাকসিন নেই, চরম উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দারা

ভ্যাকসিন নেই।উৎকণ্ঠা বাড়ছে জেলায় জেলায়।

কবে সেই অভাব কাটবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানাতে পারছে না জেলা প্রশাসনও।

  • Share this:

#পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনা টিকার ব্যাপক আকাল চলছে। বাসিন্দাদের অনেকেই টিকার জন্য হাসপাতালে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে বেসরকারি জায়গাতেও টিকার খোঁজ করছেন। কিন্তু অপ্রতুলতার কারণে সেই টিকা মিলছে না। দিনের পর দিন টিকা না পাওয়ার হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে। কবে সেই অভাব কাটবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানাতে পারছে না জেলা প্রশাসনও।

আগে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল, বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল অর্থের বিনিময় করোনার টিকা দিচ্ছিলো। করোনার সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন বাসিন্দাদের মধ্যে টিকা নেওয়ার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। ঠিক সেই সময় জেলায় টিকা নেই বললেই চলে। টিকা না থাকায় অনেক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টিকা দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

অনেকে প্রথম দফার টিকা নিয়ে নিয়েছিলেন। এখন জেলার এতটাই কম সংখ্যক টিকা মজুদ রয়েছে যে দ্বিতীয় দফার টিকা সময় মিলবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন অনেকেই। অনেকের সময় হয়ে গেলেও টিকা না পেয়ে চরম উদ্বেগের দিন কাটাচ্ছেন।

প্রথম দফার টিকা নেওয়ার পর দ্বিতীয় দফার টিকা সময়ে মিলবে কিনা তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বয়স্কদের অনেকেই। দ্বিতীয় দফার টিকা নিতে অনেক বয়স্ক ব্যক্তিকেই ঘন্টার পর ঘন্টা হাসপাতালে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে প্রথম ডোজ কোভিশিল্ড দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কেবলমাত্র আগে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় দফায় ভ্যাকসিন বা কোভিশিল্ড দেওয়া হচ্ছে। বর্ধমানের ঝুরঝুরেপুল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শুধুমাত্র দ্বিতীয় দফার টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগে বর্ধমানের পুলিশ লাইন হাসপাতালে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছিল। ভোটের সময় থেকেই তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। মেমারি, বড়শুল হাসপাতালেও টিকা দেওয়ার কাজ বন্ধ রয়েছে।

বাসিন্দারা বলছেন, প্রথম প্রথম করোনা টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই অনীহা ছিল। কিন্তু সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং তার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় অনেকেই এখন টিকা নিয়ে নিতে চাইছেন। কিন্তু প্রয়োজনের সেই টিকা মিলছে না। তার ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে অনেকেই। দ্বিতীয় দফার টিকা নেওয়ার জন্য বয়স্করা অনেকে ভোর থেকে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন। তাতেও বর্ধমান শহরের বাসিন্দারা টিকা পাচ্ছেন না। গ্রাম বাংলার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও অনেক বেশি।

Published by:Arka Deb
First published: