গঙ্গাসাগর মেলায় গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পরিষেবায় প্রাণ বাঁচল অণিমা-বিকাশের

গঙ্গাসাগর মেলায় গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পরিষেবায় প্রাণ বাঁচল অণিমা-বিকাশের

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে আগামী ১৭ জানুয়ারি অবধি। রাজ্য পরিবহন দফতর জানিয়েছে প্রয়োজনে ব্যবহার হবে হেলিকপ্টার।

  • Share this:

ABIR GHOSHAL

#গঙ্গাসাগর: এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহারে প্রাণে বাঁচালেন গঙ্গাসাগর মেলার দুই দর্শনার্থী। একজনের নাম অণিমা দাস। অপরজনের নাম বিকাশ রেজ। তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে ও হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হয়েছে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে।

গত কয়েক বছর ধরে হেলিকপ্টার পরিষেবা পাওয়া হয় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মেলায়। এবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করা হয়েছে। দফতর সূত্রে খবর, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি অবধি ৮ দিন ব্যবহার করা হবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। কোটি কোটি মানুষের এই মেলার জন্য দু’টি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে স্থির করা হয়েছে, ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে রাজ্য সরকারের যে হেলিপ্যাড আছে সেখানেই রাখা থাকবে এগুলি। তবে স্ট্যান্ডবাই হিসাবে তৈরি রাখা হচ্ছে বেহালা বিমানবন্দর।

3308_IMG-20200112-WA0000

এদিন দুপুরে মেলায় প্রচন্ড বুকের যন্ত্রণা নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন অণিমা দাস। তড়িঘড়ি মেলার চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তাঁকে দ্রুত কলকাতা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রথমবার গঙ্গাসাগর মেলার জন্য ব্যবহার করা হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। মাত্র ১৫ মিনিটে তাঁকে নিয়ে আসা হয় ডুমুরজলা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে। কিছু সময় পরে ফের একই অবস্থা হয় বিকাশ রেজের। তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যায় তাঁকে দ্রুত কলকাতা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আপাতত হাওড়ার আমতার বাসিন্দা বিকাশবাবুকে ভর্তি করা হয়েছে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে। অণিমা দেবী আপাতত বিপন্মুক্ত অবস্থায় ভর্তি আছেন পিজি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন আকাশপথে মেডিকেল সাপোর্ট নিয়ে ওঁনাদের না নিয়ে এলে তাঁদের বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়ত।

পর্যটন শিল্পকে আরও চাঙ্গা করতে কলকাতা থেকে সাগরের মধ্যে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে চালু হয় হেলিকপ্টার পরিষেবা। যাতায়াত নিয়ে খরচ পড়ে মাত্র তিন হাজার টাকা। বছরের বিভিন্ন সময় যাত্রী পেলে এই রুটে বেহালা বা ডুমুরজলা থেকে হেলিকপ্টার উড়ে যায় সাগরের উদ্দেশ্যে। সাগরে মেলার সময় অবশ্য বাকি রুটে নয় এই পথেই প্রতিদিন কয়েকবার উড়ে যায় বেসরকারি সংস্থার এই হেলিকপ্টার। যা সারাবছর রাজ্য সরকার ভাড়ায় নিয়ে রাখে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এই বেসরকারি সংস্থার হেলিকপ্টার গঙ্গাসাগরে তলিয়ে যাওয়া দুই জনকে উদ্ধার করে। ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে অসুস্থ রোগীদের কলকাতায় উড়িয়ে নিয়ে আসে। গত বছরই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মেলায় আসা মানুষের সুবিধার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নেওয়া হবে। চলতি বছরেই ইতিমধ্যেই সাগর মেলার জন্য দু’টি বৈঠক করে ফেলেছে। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতেই হবে। তারপরেই রাজ্য সরকার যোগাযোগ করে দেশের দুই সংস্থার সঙ্গে।

3308_IMG-20200112-WA0001

কলকাতায় রাজ্য সরকার বেহালা বিমানবন্দর ব্যবহার করে। নবান্নের কাছে ডুমুরজলা হেলিপ্যাড ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কলকাতা বিমানবন্দর তো আছেই। কিন্তু সাগরে আছে মাত্র একটি হেলিপ্যাড। সাগর বকখালি উন্নয়ন পর্ষদ গঙ্গাসাগর বাস স্ট্যান্ডের পাশে একটি হেলিপ্যাড তৈরি করেছে। আপাতত সেখানেই হেলিকপ্টার ওঠা নামা করছে।

তবে রাতের বেলা যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন তার জন্যে কি ব্যবহার করা যাবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স? দফতর সূত্রে খবর, তার জন্যে যে পরিকাঠামো দরকার তা তৈরি করা এখনই সম্ভব নয়। রাতের বেলা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা হেলিকপ্টার নামার জন্য দরকার আইএফআর বা instrument flight regulation বিধি। যেখানে এটিসি থেকে নামা বা ওঠার সংকেত পেলেও পাইলটের ভিশন স্বচ্ছ থাকতে হবে। তার জন্যে যা যা পরিকাঠামো প্রয়োজন তা এখানে বসানো সম্ভব নয়। তাই রাতের বেলা মেলায় যদি কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তার জন্যে ভরসা সেই মেলায় থাকা মেডিক্যাল ক্যাম্প।

জোয়ার থাকলে জলদি লট এইট হয়ে ডায়মন্ড হারবার বা কলকাতায় নিয়ে আসা যাবে। তবে পরিবহণ দফতর অবশ্য জানাচ্ছে সরকার সমস্ত ধরণের সাহায্য করছে মেলায় আসা ভক্তদের।

গঙ্গাসাগর মেলাকে আধুনিক মানের করে তুলতে একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। গোটা দেশ থেকে আসা ভক্তদের জন্য বিমার ব্যবস্থা করে দিয়েছে রাজ্য। এছাড়া যাতায়াতের জন্য থাকছে পরিবহণের নানা উপায়। তার মধ্যেই নিখরচায় মেলায় আগত ভক্তদের জন্য এই প্রথমবার রাজ্য সরকার রেখেছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। যার জন্য জীবন রক্ষা করা সম্ভব হল অণিমা-বিকাশের।

First published: 09:43:48 PM Jan 12, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर