১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম দিবসে তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ, এই কৌশল নিতে পারে রাজ্যের শাসক দল

১৪ মার্চ নন্দীগ্রাম দিবসে তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ, এই কৌশল নিতে পারে রাজ্যের শাসক দল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি।

রবিবার ১৪ তারিখ দলের ইস্তেহার প্রকাশ করবেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, হাসপাতাল থেকে শনিবার ছাড়া পেতে পারেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তারপরেই তিনি কালীঘাটের বাড়ি থেকে ইস্তেহার প্রকাশ করবেন।

  • Share this:

#নন্দীগ্রামঃ নন্দীগ্রামে গিয়ে শারীরিক ভাবে আহত হয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। মমতা বন্দোপাধ্যায় অবশ্য বারবার বলেছেন, 'ভুলতে পারি নিজের নাম। ভুলবো নাকো নন্দীগ্রাম।' নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে ১৪ মার্চের স্মৃতি। শহীদদের স্মৃতি তর্পণ করে আগামী রবিবার ১৪ তারিখ দলের ইস্তেহার প্রকাশ করবেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, হাসপাতাল থেকে শনিবার ছাড়া পেতে পারেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তারপরেই তিনি কালীঘাটের বাড়ি থেকে ইস্তেহার প্রকাশ করবেন।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহার তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রের খবর, বরাবরের মতোই নির্বাচনী ইস্তাহার তৈরিতে মমতা দলের নিচুতলার কর্মী থেকে সাংসদ, বিধায়ক-সহ সকলের মতামত নিয়েছেন। সেই মতামতের ভিত্তিতে তিনি একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছিলেন। ওই কমিটিই চূড়ান্ত ইস্তেহার তৈরি করেছে। মমতা নিজেও সেই কমিটির সদস্য।

প্রসঙ্গত, বরাবরই মমতা নির্বাচনী ইস্তেহার তৈরির আগে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মতামত নেন। কোন বিষয়ে জোর দেওয়া উচিত, বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণের মোকাবিলা কোন পথে করা হবে ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তিনি মতামত আহ্বান করেন। তার পর সেই মতামতের ভিত্তিতে ইস্তাহার তৈরি হয়। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ইস্তেহারে বেশ কিছু বিষয়কে ‘বিশেষভাবে গুরুত্ব’ দিয়েছেন দলের শীর্ষনেতৃত্ব। তার মধ্যে থাকবে বিনামূল্যে রেশন দেওয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সমাজের সকল স্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলির প্রসঙ্গ। এ ছাড়াও জোর দেওয়া হবে শিল্প ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলিকে।

বিধানসভা ভোটের ইস্তাহার তৈরি প্রসঙ্গে শুক্রবার তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতা বলেন, ‘‘ইস্তেহার তৈরির জন্য নেত্রী দলের নেতা, কর্মী, বিধায়ক এবং সাংসদদের কাছে লিখিত আকারে মতামত এবং প্রস্তাব চেয়েছেন। সেই প্রস্তাবগুলি জমা পড়ার পর তৃণমূল নেত্রী নিজে তা খতিয়ে দেখবেন এবং বিবেচনা করবেন। তারপর মনোনীত প্রস্তাবগুলিকে সামনে রেখে একটি খসড়া ইস্তেহার তৈরি করা হবে। সেই খসড়া ইস্তেহারের ভিত্তিতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করবেন নেত্রী। সেই কমিটিতে মমতা ছাড়াও থাকবেন একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়ক।’’ ২০২১-এ ফের রাজ্যের ক্ষমতা দখলের জন্য ওই কমিটিই জনতার কাছে চূড়ান্ত ইস্তেহার প্রকাশ করবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের মতোই এ বারও তৃণমূল নির্বাচনী ময়দানে নামবে রাজ্যের ‘শাসক’ হিসাবে। ফলে ইস্তেহারে গুরুত্ব পাবে গত পাঁচ বছরে তৃণমূলের ‘উন্নয়ন’-এর বিষয়গুলি। বিশেষত, নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত কৃতিত্বের কথা। পাশাপাশি, বিজেপি-কে প্রধান প্রতিপক্ষ ধরে নিয়ে ‘বহিরাগত’ প্রসঙ্গ এবং ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা’-ও ইস্তেহারে গুরুত্ব পাবে। তবে তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, ইস্তেহার তৈরির কমিটির মতামতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে ঠিকই। তবে  ইস্তেহারে স্থান পাবে তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সমীক্ষাও। প্রশান্তের সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর সদস্যরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে মানুষের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সমীক্ষা করেছেন। সেই সমীক্ষার ফলাফলও চূড়ান্ত ইস্তেহারে থাকবে বলে দলের ওই অংশের দাবি।

দু’মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়ে যাবে বলে মনে করছে শাসক শিবির। ফলে তারা দ্রুত ইস্তেহার তৈরির বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছে। গত বিধানসভা ভোটে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে কোন কোনগুলি পুরোপুরি পূরণ করা হয়েছে, কোনগুলি পূরণ করা এখনও খানিকটা বাকি আছে এবং সেগুলি কতদিনের মধ্যে পূরণ করা যাবে, তা-ও ইস্তেহারে বলা থাকবে বলেই তৃণমূল সূত্রের খবর।

 ABIR GHOSHAL

Published by:Shubhagata Dey
First published: