East Bardhaman News: প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা, ঝুলিতে রয়েছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার, চেনেন বর্ধমানের এই বিখ্যাত ব্যক্তিকে
- Reported by:Bonoarilal Chowdhury
- hyperlocal
- Published by:Riya Das
Last Updated:
East Bardhaman News: ভ্রমণ করেছেন জিম্বাবুয়ে, ইতালি, নরওয়ে সহ মোট নটি দেশে। দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আজও শোভা পাচ্ছে তাঁর হাতে তৈরি শিল্পকর্ম।
মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকের বনকাপাসী একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। সেই গ্রাম থেকেই শোলার কাজে বিশ্বদরবারে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন শিল্পী আশীষ মালাকার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক শিল্পপরম্পরার উত্তরসূরি তিনি, যাঁর হাতে তৈরি শোলার শিল্প আজ মুগ্ধ করেছে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষকে। এই শিল্পযাত্রার সূচনা হয়েছিল তাঁর দাদু মৃত্যুঞ্জয় মালাকার এর হাত ধরে। তিনিই প্রথম শোলার কাজে হাতেখড়ি দেন। তাঁর কাছ থেকেই এই শিল্পের শিক্ষা নেন আশীষের ঠাকুমা কাত্যায়নী মালাকার। পরবর্তীতে সেই ঐতিহ্য বহন করেন আশীষের বাবা আদিত্য মালাকার।
শিল্পের প্রতি এই নিবেদন ও সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে আদিত্য মালাকার ১৯৭৪ সালে পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। একইভাবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে সম্মানিত হন কাত্যায়নী মালাকারও। পরবর্তীতে আদিত্য মালাকার লাভ করেন শিল্পগুরু অ্যাওয়ার্ড। এই দুই গুণী মানুষের কাছেই শোলার কাজের হাতেখড়ি আশীষ মালাকারের। নিজের পরিবারের এই শিল্প ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখার এবং শেখার সুযোগ পাওয়াকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য বলে মনে করেন।
advertisement
আরও পড়ুন-‘মহাপ্রলয়’ আসছে…! শুক্র মঙ্গলে প্রবেশ করতেই ‘তুলকালাম’, ৩ রাশির জীবন উথাল-পাথাল, চরম আর্থিক কষ্ট, দুর্ঘটনার বিরাট সম্ভাবনা
আশীষ মালাকার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি বাবা, ঠাকুমার কাছে কাজ শিখেছি এটা আমার সৌভাগ্য। তাঁদের আশীর্বাদে আমি এখনও এগিয়ে চলেছি।’ তবে পুরস্কার আর সম্মানের এই শিখরে পৌঁছনোর পথ মোটেও সহজ ছিল না। বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রম, সাধনা আর শিল্পের প্রতি অগাধ ভালবাসাই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তারই ফলস্বরূপ ১৯৯০ সালে আশীষ মালাকার লাভ করেন জাতীয় পুরস্কার। পরে ২০১৮ সালে তাঁর শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে পান শিল্পগুরু উপাধি। শোলার কাজই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। শিল্পের টানে তিনি ভ্রমণ করেছেন জিম্বাবোয়ে, ইতালি, নরওয়ে-সহ মোট নটি দেশে। দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আজও শোভা পাচ্ছে তাঁর হাতে তৈরি শিল্পকর্ম। নিজের হাতে তৈরি করা একটি মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি সংরক্ষিত রয়েছে গোয়া মিউজিয়ামে। আবার তাঁর তৈরি সপরিবারে দুর্গামূর্তি স্থান পেয়েছে স্কটল্যান্ডের একটি মিউজিয়ামে, যা নিঃসন্দেহে বাঙালির লোকশিল্পের এক গর্বের অধ্যায়।
advertisement
advertisement
আরও পড়ুন-২০২৬ সালে কাঁপবে দুনিয়া…! উঠবে বিরাট ঝড়,’ভাগ্যবান’ ৫ রাশির পোয়া বারো, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী জানলে চমকে উঠবেন
আশীষ মালাকার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘যতদিন বাঁচব কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমি এই কাজ সকলকে শেখাতে চাই যাতে তাঁরাও এই কাজ শিখে উপার্জন করতে পারে। আগে অনেক প্রশিক্ষণ দিয়েছি, সরকার সাহায্য করলে আমি এখনও আরও প্রশিক্ষণ দিতে রাজি আছি।’ শিল্পের জগতে তাঁর কাজের স্বীকৃতি এতটাই যে, তিনি একসময় মিতা আম্বানির সঙ্গেও একটি প্রজেক্টে কাজ করেছেন, এবং বর্তমানে আরও নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।এক সময়ের গ্রামবাংলার এক সাধারণ ঘরের ছেলে আজ বিশ্বমুখী শিল্পী। আশীষ মালাকারের হাতের শোলার কাজ শুধু শিল্প নয় তা এক জীবন্ত ইতিহাস, পরিশ্রমের গল্প এবং প্রেরণার নাম। তাঁর সাফল্যে আজ উজ্জ্বল হয়েছে বনকাপাসী গ্রাম থেকে শুরু করে গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলা।
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ থাকছে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের খবরও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Jan 05, 2026 6:20 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/দক্ষিণবঙ্গ/
East Bardhaman News: প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা, ঝুলিতে রয়েছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার, চেনেন বর্ধমানের এই বিখ্যাত ব্যক্তিকে






