বশীকরণে ফিরে আসেনি মেয়ে, কিল চড়ে তান্ত্রিককে বশে আনলো জনতা

বশীকরণে ফিরে আসেনি মেয়ে, কিল চড়ে তান্ত্রিককে বশে আনলো জনতা

ভাঁওতা বুঝে এবার কিল ঝাঁটা জুতোয় তাকেই বশে আনলেন বাসিন্দারা। আর কোনও দিন এমন করব না বলে কথা দিলেন তন্ত্র সাধনায় গোল্ড মেডেলিস্ট পরিচয় দেওয়া সেই তান্ত্রিক।

  • Share this:

#বর্ধমান: বশীকরণ মন্ত্র প্রয়োগ করে পালিয়ে যাওয়া মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন তান্ত্রিক। পুজো, হোম যজ্ঞ সব কিছু হয়েছে। কাঁড়ি কাঁড়ি নগদ টাকাও দিতে হয়েছে। কিন্তু সে বশীকরণে কাজের কাজ কিছু হয়নি। ভাঁওতা বুঝে এবার কিল ঝাঁটা জুতোয় তাকেই বশে আনলেন বাসিন্দারা। আর কোনও দিন এমন করব না বলে কথা দিলেন তন্ত্র সাধনায় গোল্ড মেডেলিস্ট পরিচয় দেওয়া সেই তান্ত্রিক।

বর্ধমানের রসিকপুরে চেম্বার খুলে পসার জমিয়েছিলেন তন্ত্র সাধক তথা জ্যোতিষী শাস্ত্রী শ্রী নবীন সান্যাল। নামের পাশে আবার লেখা পূর্নাভিষিক্ত। তার পর আবার লেখা গোল্ড মেডেলিস্ট। তবে কোথা থেকে তিনি সেই সোনার মেডেল পেয়েছেন তার অবশ্য কোনও উল্লেখ নেই। তা না থাক ফ্লেক্স, ব্যানার পোস্টারে শহর ছয়লাপ করে নিজেকে পরিচিত করে তুলেছিলেন অল্প দিনেই। তার ওপর নিয়মিত বিজ্ঞাপনও দিচ্ছিলেন সংবাদপত্রে।

সেই বিজ্ঞাপন দেখেই স্ত্রীকে নিয়ে সেই জ্যোতিষী  বাবাজির কাছে যান বর্ধমানের উদয়পল্লীর বাসিন্দা তরুণ মন্ডল। তিনি ও তাঁর স্ত্রী ইভাদেবী জানান, অষ্টাদশী মেয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছে। ফিরিয়ে আনতে হবে।

কোনও ব্যাপারই নয়, হোম যজ্ঞ করে বশীকরণ মন্ত্র উচ্চারণ করলেই মেয়ে নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তন্ত্র সাধক। তারপর দফায় দফায় ফল মিষ্টি দিয়ে যজ্ঞ হয়েছে। বশীকরণ মন্ত্র আউড়ে বাইশ হাজার টাকা নিয়েও নিয়েছেন জ্যোতিষী। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। মেয়েও ফেরেনি। আবার ইদানিং চেম্বারে না গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন বাবাজি।

এদিন আরও টাকা দেওয়ার টোপ দিয়ে ওই তান্ত্রিক নবীন সান্যালকে চেম্বারে ডেকে আনে ওই দম্পতি ও তাঁদের সঙ্গীরা। চেম্বারে ওই জ্যোতিষী আসতেই টাকা ফেরত চাওয়া হয়। সেই টাকা দিতে না চাইলে শুরু হয় পাবলিকের বশীকরণ। কিল চড় থাপ্পড় এসে পরতে শুরু করে গালে, পিঠে। চুল ধরে টানাটানির পর শুরু হয় উত্তম মধ্যম। মারের ঠেলায় টাকা দিতে সম্মত হয় বাবাজি। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ গিয়ে আহত ওই বাবাজিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

 Saradindu Ghosh

First published: February 29, 2020, 8:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर