দশমীতে দুর্গা দালানে, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে, স্বেচ্ছা মৃত্যু বরণ করেছিলেন চোঙদার বাড়ির জমিদার !

দশমীতে দুর্গা দালানে, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে, স্বেচ্ছা মৃত্যু বরণ করেছিলেন চোঙদার বাড়ির জমিদার !

একবার দশমীতে ত্রিপুরেশ্বর চোঙদার ও তাঁর স্ত্রী বিদ্যাসুন্দরী দেবী দুর্গা মন্দিরে স্বেচ্ছা মৃত্যু বরণ করেন।

একবার দশমীতে ত্রিপুরেশ্বর চোঙদার ও তাঁর স্ত্রী বিদ্যাসুন্দরী দেবী দুর্গা মন্দিরে স্বেচ্ছা মৃত্যু বরণ করেন।

  • Share this:

#বর্ধমান:  পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার চোঙদার বাড়িতে দুর্গা পুজোর ঘট ভাসান দেওয়া হয় না। তার বদলে প্রতিবছর ঘট পরিবর্তন করা হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার জমিদার বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে প্রাচীনত্বের দিক দিয়ে অন্যতম এই চোঙদার বাড়ির পুজো। সুদৃশ্য দুর্গা দালান আলো দিয়ে সাজানো হয় পুজোর দিনগুলিতে। আগে সাতটি গ্রামের প্রজারা পুজোর দিনগুলিতে অন্নভোগ খাবার নিমন্ত্রণ পেতেন। জমিদারি বিলোপের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রথা বিলুপ্ত হলেও নিষ্ঠার সঙ্গে মা আসেন চোঙদার বাড়ির এই দুর্গা দালানে।

বাঁশের চোঙে রাজস্ব আসতো। তাই পদবি চোঙদার। বর্ধমান রাজের কাছ থেকে এলাকার জমিদারি পাওয়ার পর ত্রিপুরেশ্বর চোঙদার দুর্গা দালান তৈরি করেন। তার আগে তালপাতার ছাউনিতে দুর্গাপুজো হতো। জমিদারি পাবার পর পরিবারে আর্থিক সমৃদ্ধি আসে। দুর্গা দালান তৈরির পাশাপাশি জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপূজা শুরু হয়। সাতটি গ্রামে বিস্তৃত ছিল জমিদারি। পুজোর দিনগুলিতে সেই সাত গ্রামের বাসিন্দারা জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো দেখতে আসতেন। ভোগ খাওয়ার পর পালা গান, যাত্রা শুনে বাড়ি ফিরতেন তাঁরা। দুর্গা দালানের পাশে রয়েছে ভোগ ঘর। এলাকাজুড়ে রয়েছে শতাধিক উনানের ভগ্নাংশ। সেইসব উনানেই জমিদারি আমলে অন্নভোগ তৈরি হতো। আশপাশের জমিদাররা নিমন্ত্রণ পেতেন। নামে শিল্পীরা আসতেন। যাত্রাপথে হতো। আসতেন বর্ধমানের মহারাজের প্রতিনিধিরাও। এখন সেসব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা পুজোর চারদিন বেশিরভাগ সময় এই দুর্গা দালানেই কাটান। নিজেরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

একবার দশমীতে ত্রিপুরেশ্বর চোঙদার ও তাঁর স্ত্রী বিদ্যাসুন্দরী দেবী দুর্গা মন্দিরে স্বেচ্ছা মৃত্যু বরণ করেন। সেই থেকেই দশমীর দিনে মা দুর্গার সামনে ত্রিপুরেশ্বর ও বিদ্যাসুন্দরীর শ্রাদ্ধ দেওয়া হয়। সময় ও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটলেও এখনও সেই প্রথা চালু রয়েছে। তবে সেইসব পর্ব শেষে দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন পরিবারের মহিলারা।এখানে মা দুর্গার ছেলেমেয়েদের মধ্যে গণেশ ছাড়া অন্য কোনও দেবদেবীর বাহন নেই। স্বরস্বতীর শুভ্র বেশ।দেবী দুর্গা অষ্টমুখী ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে এখানে অধিষ্ঠান করেন।

SARADINDU GHOSH 

Published by:Piya Banerjee
First published: