• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • মেয়েরা বড় হোক, স্বপ্ন দেখেন অভাবী-উপবাসে থাকা জাবিয়া-আসমারা

মেয়েরা বড় হোক, স্বপ্ন দেখেন অভাবী-উপবাসে থাকা জাবিয়া-আসমারা

ছবি: অর্জুন নিয়োগী

ছবি: অর্জুন নিয়োগী

  • Share this:

    #মিনাখাঁ: ‘টাকা পয়সা নেই ৷ মাস গেলে কোনওরকমে টেনেটুনে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা রোজগার হয় ৷ তাও কোনও কোনও মাসে হয়তো আরও কম ৷ মাসের শেষের দিনগুলোতে বাচ্চাদের মুখে খাবার জোটাতে গিয়ে মাঝে মধ্যে নিজেরাই খেতে পাই না জানো ?’ কথাগুলো বলতে বলতেই চোখের কোনটা ভিজে উঠছিল জাবিয়া-ছাইমা-আসমাদের ৷ আর কথা বলতে পারলেন না তারা....

    কেমন আছেন গ্রাম বাংলার মানুষ ? সপ্তম দফার নির্বাচনের আগে সেই খোঁজ করতেই পৌঁছে গিয়েছিলাম বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের মিনাখাঁর টাপলা কুশাংরা গ্রামে ৷ সেখানেই আলাপ হয় জাবিয়া, ছাইমা এবং আসমাদের সঙ্গে ৷ ঘরে ঢুকতেই প্রশ্ন ভেসে এল ! ‘শহর থেকে এইছেন ?’ চোখে মুখে যেন এক অবাক চাহনি ! উত্তর হ্যাঁ হতেই তিন বউ সাদরে আপ্যায়ন জানাল আমাদের ৷ ক্যামেরা-ট্রাইপড-বুম-লাইট-ফোন এসব দেখে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মুখে বিস্ময় যেন আর কাটতেই চাইছে না ৷ কথায় কথায় জানতে পারলাম জাবিয়া, ছাইমা, আসমা এরা একই পরিবারের তিন বউ, বড়-মেজ-ছোট ৷ স্বামী-ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভরা সংসার ৷

    একটাই বাড়ি ৷ পাশাপাশি টালির ছাউনি দেওয়া তিনটে ঘর ৷ সেখানেই কোনওমতে থাকেন তিন ভাই ৷ কথায় কথায় জানতে পারলাম, বাড়ির বড় ছেলে রাস্তায় রাস্তায় হকারি করেন ৷ আর মেজ ছেলে বাড়ির সামনেই একটি মুদি দোকানে চাল-ডাল আর টুকটাক আনাজপাতি বিক্রি করেন ৷ সব মিলিয়ে মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা রোজগার ৷ আর ছোট ছেলে ? সবার মুখেই আমতা আমতা ৷ বুঝলাম, তেমন কিছুই কাজ সে এখনও জোটাতে পারেনি ৷ তাহলে সংসার চলে কীভাবে ? প্রশ্ন করতেই জানা গেল, বাড়ির ছেলে মেয়েরাই কখনও শাড়ি, লেহেঙ্গা তৈরি করে কিংবা বাড়ি বাড়ি ইলেকট্রিকের কাজ করেই মাসের শেষে একটা মোটা টাকা তারা মা-বাবার হাতে তুলে দেয় ৷ সেই টাকাতেই চলে সংসার ৷

    অন্যদিকে, সরকারি সুযোগ সুবিধে না মেলায় ৷ তাদের মনেও ক্ষোভ বাড়ছে ৷ তাঁদের দাবি, ‘সরকারি সুবিধে কিছুই পাইনা দিদি ৷ না পাই ২ টাকা কিলো দরে চাল ৷ কোনও খাদ্যসুরক্ষার কার্ডও পাইনি ৷ এ দোর ও দোর ঘুরেছি ৷ ফর্ম ফিল আপও করেছি ৷ কিন্তু পাই না কার্ড ৷ কেউ বলেই না কীভাবে পাব এই সমস্ত সুযোগ সুবিধা ৷ ঘর বাড়িও তৈরি করতে পারলাম না ৷’

    তবে, এই অভাব-অনটনের মধ্যেও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন তাঁরা ৷ অভাবের মধ্যে পড়েও মেয়েদের বিয়ে দিতে রাজি নন তাঁরা ৷ তাঁদের ইচ্ছে, মেয়ে শহরের কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করুক ৷ এরপর বড় কলেজের অধ্যাপক হোক ৷ অনেক বড় হোক তারা ৷ কিন্তু কীভাবে এই স্বপ্ন পূরণ হবে ? সেই প্রশ্নের উত্তর নেই এঁদের কাছে ৷ শহরের কলেজে পড়াতে অনেক খরচ ৷ সেটা জানেন আসমারা ৷ কিন্তু স্বপ্ন দেখতে ভোলেন না ৷

    First published: