advertisement

ভোটে কোনও রকম 'তকমা' চায় না ওরা,দাবি বাড়ুক নিরাপত্তা...

Last Updated:
#পুরুলিয়া: হোটেলের ঘরেই বসেই শোনা যাচ্ছিল জয় শ্রী রামের ধ্বনি৷ পুরুলিয়া শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে আকাশ হোটেলর ঘরে বসেই বুঝতে পারছিলাম মোদির সভার আঁচ৷ তবে সময় যত গড়াল ততই রোদের তাপের সঙ্গে সঙ্গে মোদি উন্মাদনা ধরা পড়ল প্রখরভাবে৷ শ্রী রাম নিয়ে কোন মন্ত্রোচ্চারণে মনের শান্তি হওয়া উচিৎ কিন্তু এই ধ্বনি উত্তেজনা বাড়ায়, সঙ্গে কোথাও যেন ভয়ের জন্ম দেয়৷ দেয় ধ্বংসের বার্তা৷ আসলে যারা ৯দশকের শেষের দিকে বেড়ে উঠেছি, তাদের কাছে বাবরির মসজিদ ভাঙার সেই স্মৃতি তুলে আনে জয় শ্রী রাম ধ্বনি৷ এই আওয়াজের সঙ্গে জড়িযে অনেক অসহায় ছবি৷ তবে সে তো বেশ কয়েকযুগ আগের ঘটনা৷ আপাতত অযোধ্যার জমি মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন৷
কিন্তু বাংলার মাটিও যে এই ধ্বনিতে কাঁপতে পারে, পুরুলিয়ায় না গেলে টের পেতাম না৷ একসময় এই পুরুলিয়ায় ছিল মাওবাদী বাড়বাড়ন্ত৷ তৃণমূল সরকারের দৌলতে সেও আজ অতীত৷ কিন্তু অশান্তি থামেনি৷ নতুন করে অশান্তি শুরু হয়েছে শাসকদল ও বিজেপিকে কেন্দ্র করে৷ পঞ্চায়েত ভোট তার কিছু বার্তা দিয়েছে ইতিমধ্যেই৷ শাল-পিয়ালের জঙ্গল, অযোধ্যার হিল টপ, ছোট ছোট আদিবাসী গ্রাম থেকে ছৌ-নাচনি শিল্পের যে ধারা বয়ে নিয়ে আসছে পুরুলিয়া তাতেই আজ লাগছে গেরুয়ার ছোঁয়া৷ পুরুলিয়ায় কয়েক পা ঘুরলে বা সাধারণের কথায় তা যে কেউই আন্দাজ করতে পারবেন৷
advertisement
তবে কথা বলতে চাইছিলাম তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বা এমন কেউ যার ভোটের হাতিখড়ি হতে চলেছে৷ এতদিন হয়ত পরিবারের থেকে শুনেছেন ব্যালট বক্স বা ইভিএমের কথা৷ এবার নিজেরা প্রত্যক্ষ করবেন এসব৷ এবার ভোট নিয়ে সচেতন হবেন তারা৷ অষ্টাদশী ছেলে-মেয়েরা কতটা বিশ্বাসী এই গৈরিকীকরণে? একসময় তাদের সঙ্গে জুড়েছিল মাওবাদী তকমা৷ এখন সেটা সরে গিয়ে গেরুয়ার আস্ফালনে কী আদৌ মত রয়েছে প্রথমবার ভোটাধিকার পাওয়া নাগরিকদের৷ তারই খোঁজে বেড়িয়ে পড়লাম৷
advertisement
advertisement
শুনেছিলাম, পুরুলিয়া স্টেশন বেশ সুন্দর৷ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেন স্টেশন মাষ্টার৷ আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএম শরোদ কুমার শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়েছে অনেকদিন আগেই৷ স্বচ্ছ্বতা মিশনে কেন্দ্র থেকে বাড়তি ফান্ডও মঞ্জুর করেছেন তিনি৷ স্টেশন পরিষ্কার রাখতে তার এই উদ্যোগকে সকলেই স্বাগত জানিয়েছেন৷ সেই স্টেশন চত্বরে ঢুঁ মারতে গিয়েই দেখা মিলল একদল পড়ুয়ার৷ কথা বলে জানা গেল তারা সকলেই প্রথমবার ভোট দেবেন৷ রথ দেখা কলা বেচা দুটিই হল আমার৷ স্টেশন দেখাও হল সঙ্গে যাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলাম, তাদেরও পেলাম৷
advertisement
শুরু হল আড্ডা৷ কী চাই প্রশ্ন করতে অনেকে অনেক উত্তর দিলেন৷ কেউ গুছিয়ে বললেন অনেক কিছু কেউ বা অল্প কথাতেই সারলেন তার দাবির কথা৷ কিন্তু সকলের দাবির তালিকায় উঠল নিরাপত্তার কথা৷ মেয়েরা তো বটেই ছেলেরাও চান সুরুক্ষা ব্যবস্থা বাড়ুক৷ বুঝলাম, কোথাও যেন ভয় কাজ করছে ওদের মনে৷ ওরা চাইছে না কোন নামেই ট্যাগ করা হোক ওদের৷ ইন্টারনেটের যুগে দাঁড়িয়ে ওরা জানে তাদের শহরে চাকরি নেই৷ ভাল কিছু করতে হলে রাজ্য বা দেশের বাইরে পাড়ি দিতে হবে৷ কিন্তু সেখানে পুরুলিয়াবাসী বলে ওদের মাওবাদী বা গৈরিক তকমা জুটবে না তো? এই ভয় নিয়ে বেড়ে ওঠা পুরুলিয়ার যুব সমাজ চায় ভোট হোক, ভোটের মতো করে৷ কোন দলের বিশেষ প্রভাব যেন না থাকে৷
advertisement
পুরুলিয়া স্টেশনের দেখা মিলল প্রথমবার ভোটারদের সঙ্গে৷ ভোট নিয়ে তাদের সঙ্গেই হল আড্ডা৷ পুরুলিয়া স্টেশনের দেখা মিলল প্রথমবার ভোটারদের সঙ্গে৷ ভোট নিয়ে তাদের সঙ্গেই হল আড্ডা৷
একুশ শতকের সাক্ষী হয়েই পৃথিবীতে এসেছেন যারা, তারা এবার প্রথমবার ভোটের আঙিনায়৷ আঙুলে ভোটের কালি লাগার অপেক্ষায় রয়েছে পুরুলিয়ার নতুন ভোটাররা৷ এরা সকলেই বিশ্ব নাগরিক৷ কিন্তু কীভাবে তাদের সামনে খুলবে বিশ্বের জানালা, তারই অপেক্ষায় তারা৷ উন্নতমানের চাকরি চাই, বললেন এক যুবক৷ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভাল ও গতিময় না হলে তো সেটা সম্ভব নয়৷ সেই দিকে নজর দিক সরকার৷ ভোট দিতে গিয়ে এই ইস্যুগুলি মাথায় থাকবে৷ বন্ধুর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত অন্যরাও৷
advertisement
এবার পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬,৪১,৩৪২ জন ৷ যার মধ্যে একেবারে নতুন ভোটার ৫৪৬৮৮ জন ৷ এই নতুন ভোটাররাই দেশের ভবিষ্যৎ ৷ দিন বদলানোর স্বপ্ন নিয়েই তাঁরা দাঁড়াবেন ভোটের লাইনে ৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনের নিরিখে পুরুলিয়ায় কিছুটা দাপট রয়েছে বিজেপির৷ তৃণমূলের এখানে সম্মানের লড়াই ৷ গতবারের তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী মৃগাঙ্ক মাহাতকেই আবার প্রার্থী করেছে তৃণমূল৷ বিজেপির এখানে প্রার্থী জ্যোর্তিময় সিং মাহাতো ৷ মোদির সভায় এখানে শয়ে শয়ে বিজেপি প্রার্থী জয় শ্রী রাম ধ্বনি তুলে মিছিলে পা মেলান ৷ পুরুলিয়ার আদিবাসীদের সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে আরএসএসের ৷ বিস্তৃত হয়েছে তাদের শাখা-সংগঠন৷ তাই তো এই নির্বাচনে জোর লড়াই বললে কিছুটা কম বলা হবে ৷ বলা ভাল নিজেদের কেন্দ্র দখলে রাখার সব চেষ্টা করবে বিজেপি৷ ইতিমধ্যেই পুরুলিয়া কেন্দ্রটি যে তাদের টার্গেট, বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথা বললেই তা স্পষ্ট হয়৷ অন্যদিকে এভাবে তাদের জেতা আসনে বিজেপিকে দাঁত ফোটাতে সব রকম বাধা তৈরি করবে রাজ্যের শাসক দল৷
advertisement
তাই ভোট ঘিরে ধুন্ধুমারের একটা আশঙ্কা করছেন পুরুলিয়াবাসী৷ তবে এতেই ঘোর আপত্তি নতুন ভোটারদের৷ অনেক স্বপ্ন ঘিরে এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চলেছেন তারা৷ ভোট মানেই যে দলীয় কন্দোলের পথে হাঁটছে রাজ্য, সেটাই না পসন্দ তাদের৷ মিলেনিয়াল ভোটাররা চাইছেন ভোট হোক অবাধ ও সুষ্ঠু৷ এটা তো যে কোন সাধারণ নাগরিকদেরই দাবি৷ তবে অষ্টাদশী মেয়েরা চান নিরাপত্তা৷ যেই জিতুক, যারই সরকার হোক, তারাই যেন নজর দেয় নারী সুরক্ষায়৷ এমনই দাবি উঠে এল পুরুলিয়ার ব্যস্ত স্টেশনে কয়েকজন যুবক-যুবতীর মুখোমুখি হয়ে৷ সঙ্গে অবশ্যই সার্বিক উন্নয়নের দাবি৷ চোখে অনেক স্বপ্ন৷ মনে অনেক তাগিদ৷ আগ্রাসী মনোভাব নিয়েই এগিয়ে চলেছে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা৷ নিজেদের ভালমন্দ বুঝে নিতে তারা তৈরি আর তারই প্রভাব পড়বে ভোটবাক্সে৷
আরও দেখুন
Click here to add News18 as your preferred news source on Google.
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ থাকছে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের খবরও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে  ক্লিক করুন এখানে ৷ 
view comments
বাংলা খবর/ খবর/দক্ষিণবঙ্গ/
ভোটে কোনও রকম 'তকমা' চায় না ওরা,দাবি বাড়ুক নিরাপত্তা...
Next Article
advertisement
উল্টোডাঙায় শেষবার ফোন ট্র্যাক করা হয় ! এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের
উল্টোডাঙায় শেষবার ফোন ট্র্যাক করা হয় ! এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের
  • এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের

  • উল্টোডাঙায় শেষবার ফোন ট্র্যাক করা হয় !

  • ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন উৎসব

VIEW MORE
advertisement
ফরচুন কুকি
ফরচুন কুকি ভাঙুন আর ঝটপট জেনে নিন, আজ আপনার জীবনে কী সারপ্রাইজ লুকিয়ে আছে!
fortune cookie
advertisement