• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • দামোদরে মিলল প্রাচীন নৌকা ও নোঙর

দামোদরে মিলল প্রাচীন নৌকা ও নোঙর

Picture for representation ony

Picture for representation ony

চাঁদ সদাগরে স্মৃতি বিজড়িত বর্ধমানের কসবা চম্পাই নগরে ইতিহাসের নিদর্শন মিলতে শুরু করেছে ।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #বর্ধমান:  চাঁদ সদাগরে স্মৃতি বিজড়িত বর্ধমানের কসবা চম্পাই নগরে ইতিহাসের নিদর্শন মিলতে শুরু করেছে । কিছুটা জল কমতেই দামোদরে দেখা মিলল প্রাচীন একটি নৌকা । প্রায় ১০০ ফুট লম্বা নৌকাটি নদীর বালিতে চাপা পড়ে রয়েছে । এই নৌকার পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি প্রাচীন নোঙর । ঘটনাটিকে কেন্দ্র  চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায় । খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে এলাকা পরিদর্শনে যান দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক শঙ্খ সাঁতরা, গলসি ১ নম্বর ব্লকের বিডিও তারকনাথ দাস ও গলসির বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি । প্রাচীন ওই নৌকাটি সংরক্ষনের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসীরা ।

    উল্লেখ্য, গত একমাস প্রবল বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল দামোদর নদ । জলের স্রোতে ভাঙতে থাকে নদীর পাড় । দামোদরের গ্রাসে কসবা মানাচরে বেশ কয়ের বিঘা চাষ জমি চলে যায় নদী গহ্বরে । সম্প্রতি জলস্রোত কমতেই দমোদরের পারে উত্তর পলশড়া এলাকায় নদীগর্ভে দেখা মেলে প্রাচীন এই নৌকাটির । প্রায় ১০০ ফুট লম্বা এবং প্রায় ৪০ ফুট চওড়া । বালি চাপা ওই নৌকার উপরের দিকের কাঠ নজরে পড়ে গ্রামবাসীদের । সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি প্রাচীন নোঙর ।

    ভুপৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে প্রায় ৩০ ফুট নীচে চাপা পড়ে রয়েছে নৌকাটি । এক সময় নদীর ওই পাড়ে জনবসতি ছিল । বাঁকুড়া জেলার সোনামুখির নবাসন পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পলশড়া গ্রাম । কিন্তু নদী ভাঙ্গনের ফলে সেখান থেকে বাসিন্দারা অন্যত্র সরে যায় । প্রসঙ্গত দামোদর নদ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দুরে কসবা চম্পাই নগরে আছে একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিব মন্দির । যা এলাকায় চাঁদ সদাগরের শিবমন্দির নামে পরিচিত । প্রায় ১০ ফুট লম্বা বিশাল শিব লিঙ্গ রয়েছে মন্দিরে । শিবমন্দির থেকে কিছুটা দূরে সতীতীর্থ । সেখানে বেহুলা ও লক্ষীন্দরের মন্দির ।

    কথিত আছে, সেখানে বেহুলা ও লক্ষিন্দরের বাসর ঘর তৈরী করা হয়েছিল । শিবরাত্রির দিন সধবা মহিলারা স্বামীর মঙ্গল কামনায় আলতা সিঁদুর দেয় এখানে । এছাড়াও রয়েছে স্বরস্বতী মন্দির ও প্রাচীন বেশ কিছু ঘরবাড়ীও । যদিও এখনও পর্যন্ত এই এলাকটি চাঁদ সওদাগরের চম্পক নগর বলে সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি । চাঁদ সওদাগ যে এখানেই থাকতেন তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে । কারন কেউ বলেন অসমের কামরুপে, আবার কেউ বলেন বাংলাদেশের বহুলায় চাঁদ সদাগরের রাজবাড়ী । তবে অতীতে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ বহুবার বর্ধমান জেলার বুদবুদের কসবা চম্পাই নগর এলাকা পরিদর্শন করেছেন । নানান নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন পুরাতত্ত্ব ও ভু-বিজ্ঞানীরা । এখনও চাঁদ সদাগরের রীতি অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী শিব মন্দিরে শিবরাত্রীর দিন পুজো হয় । মেলাও বসে দর্শনার্থীদের ঢল নামে ঐ সময়ে । তাছাড়াও ছয়ের দশকে স্বদেশ বড়ুয়া নামে এক লেখক তার রচনাদীপ গ্রন্থে কসবা চম্পাই নগরেকে চাঁদ সদাগরের চম্পক নগর বলে উল্লেখ করেছেন ।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, "কয়েক হাজার বছর আগে এখান দিয়ে গাঙ্গুর নদী ছিল । এবং চাঁদ সদাগর ওই নদী দিয়ে ব্যবসা-বানিজ্য করতে যেতেন" । তারা জানান, "মাটির যতটা গভীরে রয়েছে নৌকাটি তা দেখে মনে হচ্ছে ওই সময়কার চাঁদ সদাগরের সপ্ত ডিঙ্গার একটি" । আবার ওই নৌকাটি দ্বারকানাথ ঠাকুরের আমলের বলে মনে করছেন কেউ কেউ । কারন ওই সময় দামোদর দিয়ে রানীগঞ্জের নারায়নকুড়ি কয়লা খনি থেকে কয়লা নিয়ে যেত কলকাতায় ।

    তবে এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেন, প্রাচীন ওই নৌকাটি উদ্ধার করে সংরক্ষন করা হোক । এবং কসবা চম্পাই নগরকে চাঁদ সদাগরের চম্পক নগরের সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হোক । সম্প্রতি দামোদরের রনডিহা জলাধার, ভরতপুরের বৌদ্ধস্তুপ ও কসবা চম্পাই নগরের শিব মন্দিরকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার । ইতিমধ্য বর্ধমান জেলা প্রশাসন গোটা এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন । ২ নম্বর জাতীয় সড়কের বুদবুদের তিলডাঙ মোড় থেকে পানাগড় রেল গেট পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিমি রাস্তা সম্প্রসারনের মাপজোক হয়েছে।

    First published: