• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • নীলবাতির গাড়িতে পুলিশ অফিসার সেজে ঘুরত, চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা!

নীলবাতির গাড়িতে পুলিশ অফিসার সেজে ঘুরত, চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা!

হোমগার্ডের জন্য পাঁচ লাখ। তার মধ্যে তিন লাখ অগ্রিম দিলেই চাকরির নিয়োগপত্র হাতে আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

হোমগার্ডের জন্য পাঁচ লাখ। তার মধ্যে তিন লাখ অগ্রিম দিলেই চাকরির নিয়োগপত্র হাতে আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

হোমগার্ডের জন্য পাঁচ লাখ। তার মধ্যে তিন লাখ অগ্রিম দিলেই চাকরির নিয়োগপত্র হাতে আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: নীলবাতি লাগানো গাড়ি থেকে নামত। চোখে দামি সানগ্লাস। দামি ঘড়ি, মোবাইল। পায়ে দামি লেদারের পালিশ করা জুতো। জামা, পোশাক সবই দামি। পুলিশের পোশাক পরা অনেকেই স্যালুট করতো তাকে। তিনি বড় পুলিশ অফিসার এমনটাই রটেছিল লোকমুখে। লম্বা সুঠাম যুবক দেখলেই বলতো, সুন্দর গড়ন। পুলিশের পক্ষে মানানসই। অনেকেই এরপর চাকরির জন্য দেখা করতেন তার সঙ্গে।

তার নাম রাজেন হাজরা। পুলিশের চাকরি দেওয়ার নাম করে লোক ঠকিয়ে মোটা টাকা কামিয়ে নেওয়ার কারবার ফেঁদেছিল সে। প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকা হাতিয়েও নিয়েছে গত কয়েকমাসে। অভিযোগ পেয়ে এই রাজেন সহ চারজনকে গ্রেফতার করল পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার পুলিশ। এই ঘটনায় তাজ্জব জেলার পূলিশ মহল।

রাজ্য পুলিশের উপর তলার কর্তাদের সঙ্গে তার নাকি নিত্য ওঠাবসা। আজ এই জেলায় মিটিং তো কাল লালবাজারে। খস খস করে সই করেন দামি কলমে গুরুত্বপূর্ণ নথিতে। রাবার স্ট্যাম্পের ছাপ পড়ে সইয়ের নিচে। লেটার হেডে তার নাম ডিগ্রি সব জ্বলজ্বল করছে। নীল বাতির আলো, হুটার, দেহরক্ষী ঘাটতি ছিল না কিছুরই। জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানান, স্ট্যাম্প, লেটার হেড সবই জাল। নিজেকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতারণার অভিযোগে রাজেন হাজরা ও তার চার সাগরেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হোমগার্ডের চাকরি তো তার পেনের ডগায়। শুধু তালিকা পাঠানোর অপেক্ষা। এছাড়াও পুলিশের অনেক চাকরি রয়েছে। রয়েছে সরকারি বিভিন্ন চাকরিও। তবে সময়ে কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে কিছু টাকা। হোমগার্ডের জন্য পাঁচ লাখ। তার মধ্যে তিন লাখ অগ্রিম দিলেই চাকরির নিয়োগপত্র হাতে আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা। তেমনই এক বেকার যুবক টাকা দিয়ে চাকরি না পেয়ে রায়না থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই চারচাকা গাড়ি সহ রাজেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধরা পড়ে তার তিন সাগরেদও।

জেলা পুলিশ সুপার জানান, আমরা প্রাথমিক ভাবে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এদের প্রত্যেকের থেকেই হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার নাম করে অন্তত আঠারো লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। আর কতজন এই প্রতারকদের ফাঁদে পড়েছে তা জানার চেষ্টা  চলছে। এই চক্রে আর কারা কারা যুক্ত, চক্রের জাল কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে সব জানতে ধৃতদের জেরা করা হবে।

Published by:Simli Raha
First published: