ডাইনি অপবাদে গ্রামছাড়া! 'বীরভূমের বিটি'ই এখন কোভিড রোগীদের ভরসা

করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি, সবই করছেন তিনি।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি, সবই করছেন তিনি।

  • Share this:

#শান্তিনিকেতন:

ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয়। অনেকে আবার পরিস্থিতির শিকার হয়েও শিক্ষা নেন। আদিবাসী তরুণী চুড়কি হাঁসদা সেটাই করেছেন। তিনি পরিস্থিতির শিকার। মায়ের অসুস্থতা তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে আবার নতুন করে গড়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাই নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন এই আদিবাসী তরুণী।

শান্তিনিকেতনের পাশেই বাঁধ নবগ্রাম। সেখানেই চার ভাইবোন ও মা বাবাকে নিয়ে থাকেন চুড়কি হাঁসদা। একটা সময় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে কাজ করতেন তিনি। এখন সেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছ থেকেই একটি গাড়ি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি, সবই করছেন তিনি। এই আদিবাসী তরুণীর শিক্ষাগত যোগ্যতা গ্রাজুয়েশন পাস। অভাবের সংসার, তাও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই কাজ বেছে নিয়েছেন এই আদিবাসী তরুণী। ২০০৩ সালে এই আদিবাসী পরিবারকে বোলপুরের পাশেই ইলামবাজার ব্লকের গোপালনগর গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল পরিবারটিকে। তাও আবার ডাইনি অপবাদ দিয়ে। আস্তে আস্তে এদিক সেদিক গড়ানোর পর তাঁরা বসবাস শুরু করে শান্তিনিকেতনের পাশে বাঁধ নবগ্রামে। বাবার এক চিলতে জমি। সেই জমিতে মাঝে মাঝে চাষাবাদ করেন এই তরুণী ও দিনমজুর বাবা। আদিবাসী তরুণীকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

পরিবারের লোকও মেয়ের কর্মকাণ্ডে বেজায় খুশি। তবুও চুড়কিকে কুরে কুরে খায় সেই পুরনো দিনের কথা। যখন চার ভাই বোনকে নিয়ে তার মা-বাবা একবস্ত্রে গ্রাম ছেড়ে ছিলেন। শুধুমাত্র ডাইনি অপবাদের জেরে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা। আজ মেয়ের এই কাজে খুশি পরিবার সবাই। বর্তমানে এই আদিবাসী তরুণী শান্তিনিকেতনের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। কখনও অক্সিজেন দিয়ে আসা, কখনও অক্সিজেন রিফিলিং করে নিয়ে আসা, কখনও আবার রোগীকে সরাসরি বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে হসপিটালে পৌঁছে দেওয়া। নিজে হাতে গাড়ি চালিয়ে এই কাজ করছে তরুণী চুড়কি হাঁসদা। পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় থেকে এভাবে এগিয়ে এসে করোনার সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করা এই আদিবাসী তরুণী এখন গোটা গ্রামের কাছে আইডল।

Published by:Suman Majumder
First published: