কি কান্ড! সৎমাকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ছেলে বউমা

ধৃতদের চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত

ধৃতদের চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত

  • Share this:

#বর্ধমান: মারধরের পর মুখে বিষ ঢেলে সৎমাকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল ছেলে ও বউমা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার কালাড়াঘাটে। পেশায় আশাকর্মী মণিকা বোস (৪৫) কে খুনের অভিযোগে ধৃত ছেলে সুভাষ বোস ওরফে বাবাই ও বউমা আল্পনা বোস। বুধবার ধ‌তদের বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশ। ধৃতদের চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছেন মৃতার বাবা কাশীনাথ নন্দী ও তাঁর পরিজনরা।

মৃতা আশা কর্মী মণিকা বোসের বাপের বাড়ি জামালপুরের থানার কাছে হাওয়াখানা পাড় এলাকায়। মণিকাদেবীর বাবা কাশীনাথবাবু জানান ,কালাড়াঘাটের দিলীপ ঘোষের স্ত্রী তাঁর পুত্রসন্তান সুভাষকে জন্ম দেওয়ার কয়েক বছর পরেই মারা যান। এরপর সংসার সামলানো ও নাবালক সন্তান সুভাষকে প্রতিপালনের জন্য ব্যবসায়ী দিলীপবাবু বছর ১৬ আগে তাঁর মেয়ে মণিকাকে বিয়ে করেন। মণিকা নিঃসন্তান। সুভাষকে পুত্র স্নেহে বড় করেন। বছর ১০-১১ আগে দিলীপবাবু মারা যান। তারপরেও সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। সংসারে অশান্তি তৈরি হয় সুভাষ তাঁর সৎ মায়ের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে নিছের ইচ্ছায় ছয় মাস আগে শক্তিগড়ের বড়শুলের তরুণী আল্পনাকে বিয়ে করার পর থেকে। এই বিয়ে মেনে নিতে না পেরে মণিকাদেবী কালাড়াঘাটের বাড়িতে আলাদা থাকছিলেন।

কাশীনাথবাবু জানান, সোমবার বিকালে সুভাষ তাঁকে ফোন করে জানায়, মা (মণিকা)কেমন করছে। এমনটা শুনেই তিনি মেয়ের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন বাড়ির মেঝেতে মণিকা ছটফট করছে। মেয়ে মণিকার শরীরে আঘাতের দাগও দেখতে পান। শারীরিক ওই কষ্টের মধ্যেই মেয়ে মণিকা তাঁকে জানায় মারধরের পর তাঁর মুখে বিষ জাতীয় কিছু ঢেলে দিয়েছে ছেলে সুভাষ ও তাঁর বৌ আল্পনা। এরপরেই পরিবারের লোকজন মণিকাদেবীকে দ্রুত জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মণিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার রাতেই কাশীনাথ নন্দী জামালপুর থানায় সুভাষ ও তাঁর স্ত্রী আল্পনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বর্ধমান সদর দক্ষিণের এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সুভাষ বোস ও তাঁর স্ত্রী আল্পনার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুইজনকেই বুধবার পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: