গঙ্গাসাগরে যাওয়ার নাম করে তরুণীকে দেহ ব্যবসায় নামানোর পরিকল্পনা, ধৃত ৫

গঙ্গাসাগরে যাওয়ার নাম করে তরুণীকে দেহ ব্যবসায় নামানোর পরিকল্পনা, ধৃত ৫
প্রতীকী চিত্র ৷

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আবার সক্রিয় মেয়ে পাচার চক্র।গরীব মেয়েদের বিভিন্ন কাজের লোভ দেখিয়ে এবং গরিবের সুযোগ নিয়ে আরকাঠি রা ভিন রাজ্য

  • Share this:

SHANKU SANTRA

#গঙ্গাসাগর: গঙ্গাসাগর বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে এক তরুণীকে ভিন রাজ্যে পাচার ও দেহ ব্যবসায় নামানোর অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে সাগর উপকূল থানার কালীবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধৃতদের শনিবার কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ধৃতেরা দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এর মধ্যে কয়েকজন তরুণীর পূর্ব পরিচিত বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার সত্যতা জানতে তরুণীকেও টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।

সুন্দরবন পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের বাসিন্দা বছর বাইশের ওই তরুণী। সাগরের বাসিন্দারামপ্রসাদ নস্কর ও বিকাশ গিরির সঙ্গে ওই তরুণীর আলাপ হয়েছিল ফোনের মাধ্যমে। সেই আলাপের সূত্র ধরে গঙ্গাসাগরে বেড়াতে নিয়ে আসে তাঁরা। ওই যুবক স্থানীয় কালীবাজার এলাকার একটি বাড়িতে তোলে ওই তরুণীকে। ওখানে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা রাখে বলে অভিযোগ।

 ধৃত পাঁচ অভিযুক্ত ৷ নিজস্ব চিত্র ৷
ধৃত পাঁচ অভিযুক্ত ৷ নিজস্ব চিত্র ৷

এরপর কুলতলি, রামনগর এলাকা থেকে কয়েকজন যুবক আসে। তারা নিজেদের মধ্যে ওই তরুণীকে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে থাকে। যুবকদের নিজের মধ্যে কথাবর্তা গোপনে শুনে নেন ওই তরুণী। তরুণীকে আটকে রাখার খবর আসে সাগর উপকূল থানার কাছে। সেই খবরের সূত্র ধরে তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। আটক করা হয় ৫ জনকে। টানা জেরা চালানো হয় তাদের। পরে রাতেই গ্রেফতার করা হয় ৫ জনকে।   রামপ্রসাদ ও  বিকাশ ছাড়া গ্রেফতার করা হয় সঞ্জীব কামিল্যা, প্রকাশ মাইতি ও মানস প্রামাণিককে।

ঘটনা সূত্রে জানা গিয়েছে, এরা ভিন রাজ্যে মেয়ে বিক্রির কাজ করত।গ্রামের গরীব মেয়েদের কাজের লোভ কিংবা ভালবাসার ফাঁদে ফেলে, খুব শান্ত মাথায় ভিন রাজ্যে নিয়ে চলে যেত। একবার কোনও মেয়ে এদের পাল্লায় পড়ে পাচার হয়ে গেলে আর ফিরে আসা সহজ হত না। এই মেয়েদের দিয়ে বিভিন্ন হোটেল, রেঁস্তোরায় দেহ ব্যবসার কাজে লাগানো হত। সুন্দরবন জেলা পুলিশের থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে আর কোনও থানায়, এই ধরনের মামলা আছে কি না! বা এরা আর কোথাও এর আগে মেয়ে বিক্রি করেছে কি না। এদের চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িয়ে আছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশের কাছে খবর আছে, এই সব আড় কাঠিরা দক্ষিণ ২৪পরগনার বেশকিছু এলাকাতে, যেমন ক্যানিং, বাসন্তী, গোসাবা, কাকদ্বীপ, নামখানা, সাগর ইত্যাদি এলাকাতে খুবই সক্রিয়। উত্তর ২৪ পরগনারও বিস্তীর্ণ এলাকাতে এই চক্র সক্রিয় ভাবে কাজ করছে।

First published: February 2, 2020, 5:46 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर