আগামিকাল মহেন্দ্রযোগ! শনি জয়ন্তী, সূর্যগ্রহণের দিনেই রয়েছে বট সাবিত্রী ব্রত, জানুন এর তাৎপর্য

ধর্ম দিয়ে, সততা দিয়ে সাবিত্রী তাঁর স্বামীর জীবন রক্ষা করেছিলেন। স্বামীর প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসা তাঁকে অমর করে রেখেছে সতী নারী হিসেবে। তাই এই দিনে পালন করা হয় সাবিত্রী ব্রত ।

ধর্ম দিয়ে, সততা দিয়ে সাবিত্রী তাঁর স্বামীর জীবন রক্ষা করেছিলেন। স্বামীর প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসা তাঁকে অমর করে রেখেছে সতী নারী হিসেবে। তাই এই দিনে পালন করা হয় সাবিত্রী ব্রত ।

  • Share this:

    #কলকাতা: ১৪৮ বছর পর এই বিরল মহেন্দ্রযোগ আসতে চলেছে শনি জয়ন্তীর দিন । আগামী ১০ জুন, অর্থাৎ আগামিকাল শনি জয়ন্তী । পুরাণ মতে জৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যায় সূর্য ও ছায়া পুত্র শনি জন্মগ্রহণ করে। তাই প্রতি বছর এই তিথিতে পালিত হয় শনি জয়ন্তী।

    এ বছর আবার শনি জয়ন্তীর দিনই পড়েছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ । ভারত থেকেও আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে । এমন যোগ প্রায় দেড়শ বছর পর ফিরে এসেছে । আবার সেইএকই দিনে পড়েছে বট সাবিত্রী ব্রত । স্বামীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু রমণীরা এই ব্রত পালন করে থাকেন । উপবাস করে দিনের শেষে পুজো করেন সতী সাবিত্রী দেবীর । জেনে নিন কোন সময় এই ব্রত করতে পারবেন ।

    ভারতীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে সূর্য গ্রহণ শুরু হবে এবং শেষ হবে সন্ধে ৬টা ৪১ মিনিটে । পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে এই গ্রহণ । কিন্তু আংশিক সূর্যগ্রহণ হওয়ায় এবং এ দেশে তার প্রভাব অতি ক্ষীণ হওয়ায় ভারতে সূতককাল মানা হবে না । গ্রহণ লাগার ১২ ঘণ্টা আগে সূতক কাল শুরু হয়ে যায় এবং এ সময় পুজোপাঠ হয় না । কিন্তু যেহেতু ভারতে গ্রহণের তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না, তাই এ দিন সাবিত্র ব্রত করতে পারবেন সকলেই ।

    পুরাণ অনুযায়ী, মদ্র দেশের রাজা ছিলেন অশ্বপতি। তাঁর স্ত্রী মালবী। তাঁদের কোনও সন্তান ছিল না। সন্তানের প্রত্যাশায় তাঁরা সাবিত্রীদেবীর পুজা দিলেন। সাবিত্রীদেবী খুশি হয়ে বর দিলেন এক কন্যা সন্তানের। সূর্যের অধিষ্ঠাত্রী সাবিত্রীদেবীর বরে জন্ম বলে রাজা তাঁর কন্যার নাম রাখলেন সাবিত্রী। দেখতে দেখতে সাবিত্রী বিবাহযোগ্যা হয়ে উঠলেন। অশ্বপতি কন্যার জন্য উপযুক্ত পাত্রের অন্বেষণ করতে বললেন। সাবিত্রী বিভিন্ন স্থান ঘুরে এসে পিতাকে জানালেন, শাল্ব দেশের দ্যুমৎসেনের পুত্র সত্যবানকে তিনি মনে মনে স্বামী হিসেবে বরণ করেছেন। অন্ধ হয়ে দ্যুমৎসেন তখন রাজ্য হারিয়ে বনবাস করছেন। রাজা অশ্বপতি কন্যার এই সিদ্ধান্ত মানতে পারলেন না । পাশাপাশি তিনি দেবর্ষি নারদের সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করে জানতে পারলেন, সত্যবান এক বছরের মধ্যেই মারা যাবেন । এ কথা জানার পরেও সাবিত্রী বাবা’কে বললেন, ‘‘মনে মনে যাকে একবার স্বামী হিসেবে বরণ করে নিয়েছি। তিনিই আমার স্বামী। আমি বহুচারী হতে পারব না।’’

    কন্যার যুক্তি মেনে নিলেন অশ্বপতি। সত্যবানের সঙ্গেই সাবিত্রীর বিয়ে হল। সাবিত্রী হিসাব রাখছিলেন, কখন এক বছর পূর্ণ হয়। যখন একবছর পূর্ণ হতে আর চার দিন বাকী তখন তিনি উপবাস শুরু করলেন। যে দিন সত্যবানের মৃত্যুর দিন সে দিন সাবিত্রী সত্যবানের সঙ্গ সঙ্গে থাকলেন প্রতি মুহূর্ত। বনে কাঠ কাটতে গিয়ে সত্যবান অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং সাবিত্রীর কোলে মাথা রেখে চিরনিদ্রায় গেলেন । যম যখন সত্যবানকে নিতে এলেন, তখন সাবিত্রীও তাঁর পিছু পিছু যেতে লাগলেন । ধর্মরাজকে জব্দ করলেন তাঁর ধর্মজ্ঞানে । বর হিসাবে ফিরে পেলেন স্বামীর প্রাণ । ধর্ম দিয়ে, সততা দিয়ে সাবিত্রী তাঁর স্বামীর জীবন রক্ষা করলেন। স্বামীর প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসা তাঁকে অমর করে রেখেছে সতী নারী হিসেবে। তাই এই দিনে পালন করা হয় সাবিত্রী ব্রত ।

    জেনে নিন ব্রত পালনের সময় । অমাবস্যা শুরু হচ্ছে ৯ জুন, দুপুর ১২টা ২৭ মিনিট থেকে । ১০ জুন দুপুর ২টো ৫২ মিনিটে শেষ হচ্ছে । ১০ জুন সূর্যদয় ৬টা ২২ মিনিটে, সূর্যাস্ত ৬টা ১৩ মিনিটে । ব্রহ্ম মুহূর্ত সকাল ৪টে ৪৫ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট । অভিজিৎ মুহূর্ত সকাল ১১টা ৫৪ থেকে রাত ১২টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত । অমৃতকাল সকাল ৬টা ৩৯ থেকে ৮টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত । অভিজীত মুহূর্ত- সকাল ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। বট সাবিত্রী ব্রত তিথি- ১০ জুন, বৃহস্পতিবার । বট সাবিত্রী ব্রতভঙ্গ- ১১ জুন, শুক্রবার ।

    পুজো করা যাবে না এই সময়গুলিতে-- রাহুকাল- দুপুর ২টো ৩০ মিনিট থেকে সন্ধে ৩টে ৪৭ মিনিট পর্যন্ত। যমগণ্ড- সকাল ৫টা ৪৪ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত। আডল যোগ- সকাল ৪টা ৫৭ মিনিট থেকে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। দুর্মুহূর্ত- কাল ১০টা ১২ মিনিট থেকে কাল ১০টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত। কুলিক কাল- সকাল ৯টা ০৫ মিনিট থেকে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।

    ব্রত পালনের আচার---ষোলো শৃঙ্গারের পর বট বৃক্ষ ও সাবিত্রী-সত্যবানের পুজো করেন তাঁরা। পুজোর পর সাবিত্রী-সত্যবানের কাহিনি পাঠ করা হয়। এর পর অখণ্ড সৌভাগ্য লাভের জন্য সাবিত্রীর কাছে প্রার্থনা করেন মহিলারা।

    Published by:Simli Raha
    First published: