Home /News /off-beat /
Pakistani Girl with Neck Bent : ৯০ ডিগ্রি বেঁকে গিয়েছিল ঘাড়, নিখরচায় অস্ত্রোপচারে পাকিস্তানি কিশোরীর নতুন জীবন ভারতের চিকিৎসকের হাতে

Pakistani Girl with Neck Bent : ৯০ ডিগ্রি বেঁকে গিয়েছিল ঘাড়, নিখরচায় অস্ত্রোপচারে পাকিস্তানি কিশোরীর নতুন জীবন ভারতের চিকিৎসকের হাতে

Pakistani Girl with Neck Bent

Pakistani Girl with Neck Bent

Pakistani Girl with Neck Bent : আফশিনের বয়স এবং যন্ত্রণা দুই-ই বেড়েছে ৷ শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার অর্থের সংস্থান করতে না পেরে তার বাবা মা কার্যত হাল ছেড়ে দেন ৷

  • Share this:

    নয়াদিল্লি : স্কুলে গিয়ে কোনওদিন বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারেনি ১৩ বছর বয়সি আফশিন গুল ৷ পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের এই বাসিন্দার শৈশব ও কৈশোর যন্ত্রণাক্লীষ্ট ৷ যন্ত্রণার বীজ বপন হয়েছিল সে যখন মাত্র ১০ মাসের ৷ দুধের শিশু আফশিন সে সময় পড়ে গিয়েছিল তার দিদির কোল থেকে ৷ তার পর থেকেই চিরতরে ত্রুটি থেকে যায় ঘাড়ে ৷ তার ঘাড় ৯০ ডিগ্রি বেঁকে যায় ৷ এর পর তার বাবা-মা বহু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন ৷ কিন্তু সুরাহা হয়নি ৷ শুধু আফশিনের বয়স এবং যন্ত্রণা দুই-ই বেড়েছে ৷ শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার অর্থের সংস্থান করতে না পেরে তার বাবা মা কার্যত হাল ছেড়ে দেন ৷

    যন্ত্রণা আরও তীব্র করতে এর পর সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হয় এই সিন্ধবাসী কিশোরী ৷ বিকৃত ঘাড় এবং সেরিব্রাল পালসির সাঁড়াশি আক্রমণে তার জীবনে স্তব্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা-সহ আরও অনেক স্বাভাবিক যাপন ৷ অবশেষে সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেল এই কিশোরী ৷ তার পাশে এসে দাঁড়ালেন সীমান্তের এ পারের এক চিকিৎসক ৷ জানালেন তিনি অস্ত্রোপচারে সুস্থ করে তুলবেন পাক কিশোরীকে ৷

    চিকিৎসকের নাম ডক্টর রাজাগোপাল কৃষ্ণণ ৷ দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের এই চিকিৎসক মার্চে জানান তিনি সম্পূর্ণ নিখরচায় সুস্থ করে তুলবেন আফশিনকে ৷ নিজের লক্ষ্যে সফল হয়েছেন চিকিৎসক ৷ সফলভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে আফশিনের ঘাড়ে ৷ তাঁর দাবি, বিশ্বে এই ধরনের অস্ত্রোপচার এই প্রথম ৷

    আরও পড়ুন : মায়ের প্রয়াণে ফের বিয়ে বাবার,পরিত্যক্ত সেই মেয়ের বাজিমাত দশম শ্রেণীর পরীক্ষায়

    কিন্তু আফশিনের কথা জানলেন কী করে চিকিৎসক কৃষ্ণণ? তাঁদের মধ্যে যোগাযোগের সেতু ছিল সংবাদমাধ্যম ৷ ব্রিটিশ সাংবাদিক আলেকজান্দ্রিয়া থমাস প্রতিবেদন প্রকাশ করেন আফিশনকে নিয়ে ৷ তাঁর মাধ্যমে আফশিনের পরিবারের যোগাযোগ হয় চিকিৎসক কৃষ্ণণের সঙ্গে ৷ কৃষ্ণণের ভূমিকায় মুগ্ধ কিশোরীর পরিবার ৷ তার ভাই ইয়াকুব কম্বর বিবিসি-কে বলেছেন " আমরা খুব খুশি যে চিকিৎসক আমার বোনে নতুন জীবন দিয়েছেন ৷ আমাদের কাছে উনি একজন দেবদূত ৷ " অস্ত্রোপচারের জন্য আফশিনকে নিয়ে ভারতে এসেছিল তাঁর পরিবার ৷ তাঁদের যাত্রার ব্যয় বহন করেছিল অনলাইন ফান্ডরেজার ৷

    আরও পড়ুন : অফিস না মরণফাঁদ! কোনও অফিসে কর্মীর সঙ্গে এমনটা হয়, দেখুন ভাইরাল ভিডিও

    আফশিনের ঘাড়কে তার ঠিক অবস্থানে আনতে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয় ৷ মূল অস্ত্রোপচারের আগে চার বার বড় অস্ত্রোপচার করা হয় ৷ তার পর মূল অস্ত্রোপচার করা হয় ফেব্রুয়ারিতে ৷ মূল অস্ত্রোপচারে মোট সময় লেগেছিল ৬ ঘণ্টা ৷ চিকিৎসক কৃষ্ণণ জানিয়েছেন যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এই অস্ত্রোপচার ৷ কারণ অস্ত্রোপচার চলাকালীন মৃত্যুও হতে পারত কিশোরীর ৷ তবে উপযুক্ত চিকিৎসা ছাড়া আফশিনের আয়ু যে বেশি দিন ছিল না, সে কথাও জানিয়েছেন তিনি ৷ প্রতি সপ্তাহে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোঁজ রাখেন চিকিৎসক কৃষ্ণণ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published:

    Tags: India, Pakistan, Rare operation

    পরবর্তী খবর