পাঁচমিশালি

corona virus btn
corona virus btn
Loading

এক অলৌকিক রান্নাঘরে রান্না হয় মহাপ্রসাদ! ৫৬ পদে জগন্নাথ দেবের ভোগ সাজানো হয় রথের দিন

এক অলৌকিক রান্নাঘরে রান্না হয় মহাপ্রসাদ! ৫৬ পদে জগন্নাথ দেবের ভোগ সাজানো হয় রথের দিন

এই মহাপ্রসাদের এমনই গুণ যে, কোনও দিন সেখানে প্রসাদ বাড়তিও হয় না, আবার নষ্টও হয় না । সে ১০ হাজার লোকই খান, আর ২ লক্ষই হোন না কেন ।

  • Share this:

#পুরী: জগন্নাথ দেবের রান্নাঘর । এক অদ্ভুত এবং অলৌকিক জায়গা । বছরের ৩৬৫ দিন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পিছনে এই রান্নাঘরেই তৈরি হয় জগন্নাথের মহাপ্রসাদ । কেন এই রান্নাঘরকে অদ্ভুত বলা হচ্ছে, জেনে নিন---

এই রান্নাঘরে রান্নার জন্য কোনও বিদ্যুৎ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয় না । উন্মুক্ত কাঠের আগুনের উপর অনেকগুলি তেলের ল্যাম্প বা বাতি ঝুলিয়ে রাখা হয় । রান্নার ঠাকুররা সেখানে এসেই রান্না করেন । প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের রান্না হয় এখানে । কিন্তু এই মহাপ্রসাদের এমনই গুণ যে, কোনও দিন সেখানে প্রসাদ বাড়তিও হয় না, আবার নষ্টও হয় না । সে ১০ হাজার লোকই খান, আর ২ লক্ষই হোন না কেন ।

গোটা রান্নাঘরে রয়েছে ৭৫২টি মাটির তৈরি উনুন । অদ্ভুত এখানকার রান্নার কৌশল । উনুনগুলিতে একটির উপর একটি পাত্র বসানো হয় । মোট ৭টি পাত্র থাকে । নীচে থাকে আগুন । কিন্তু অলৌকিক বিষয়, সবার আগে সবথেকে উপরের পাত্রটির রান্না শেষ হয় । প্রায় ১ হাজার সেবক রান্নাঘরের কাজে নিযুক্ত । এখানে রান্নার সমস্ত সামগ্রী শুধুমাত্র পোড়ামাটির তৈরি । কোনওদিন পুরনো পাত্রে রান্না হয় না । রোজ নতুন নতুন পাত্রে রান্না হয় এখানে । আরও একটি অলৌকিক বিষয় রয়েছে এই রান্না ঘরে । শোনা যায়, গঙ্গা আর সরস্বতী নদী একই সঙ্গে প্রবাহিত হয়েছে এই রান্নাঘরের ভিতর দিয়ে । তবে তা বাইরে থেকে দেখা যায় না । সেই নদীর জল দিয়েই রান্না হয় এখানে । শুধু মাত্র ওই নদী থেকে জল তুলে আনার জন্যই এক দল সেবক নিযুক্ত রয়েছেন ।

সেবকরা এখানে বংশানুক্রমে কাজ করেন । ১২ বছর হলেই ট্রেনিং শুরু হয়ে যায় । এরপর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত জগন্নাথের ভোগ রান্নায় নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেন তাঁরা । প্রতিদিন রান্না হয় ১০০-র বেশি পদ । তবে রথের দিন জগন্নাথের ভোগে থাকে বিশেষ এই ৫৬টি পদ । দেখুন সেগুলি কী কী ---

১) উকখুড়া অর্থাৎ মুড়ি, ২) নাড়িয়া কোড়া অর্থাৎ নারকেল নাড়ু, ৩) খুয়া অর্থাৎ খোয়া ক্ষীর, ৪) দই, ৫) পাচিলা কাঁদালি অর্থাৎ টুকরো টুকরো কলা, ৬) কণিকা অর্থাৎ সুগন্ধী ভাত, ৭) টাটা খিঁচুড়ি অর্থাৎ শুকনো খিঁচুড়ি, ৮) মেন্ধা মুন্ডিয়া অর্থাৎ বিশেষ ধরণের কেক, ৯) বড়া কান্তি অর্থাৎ বড় কেক, ১০) মাথা পুলি অর্থাৎ পুলি পিঠে, ১১) হামসা কেলি অর্থাৎ মিষ্টি কেক, ১২) ঝিলি অর্থাৎ এক ধরণের প্যান কেক, ১৩) এন্ডুরি অর্থাৎ নারকেল দিয়ে তৈরি কেক, ১৪) আদাপচেদি অর্থাৎ আদা দিয়ে তৈরি চাটনি, ১৫) শাক ভাজা, ১৬) মরীচ লাড্ডু অর্থাৎ লঙ্কার লাড্ডু, ১৭) করলা ভাজা, ১৮) ছোট্ট পিঠে, ১৯) বারা অর্থাৎ দুধ তৈরি মিষ্টি, ২০) আরিশা অর্থাৎ ভাত দিয়ে তৈরি মিষ্টি, ২১) বুন্দিয়া অর্থাৎ বোঁদে, ২২) পাখাল অর্থাৎ পান্তা ভাত, ২৩)খিড়ি অর্থাৎ দুধভাত, ২৪)কাদামবা অর্থাৎ বিশেষ মিষ্টি ২৫) পাত মনোহার মিষ্টি ২৬) তাকুয়া মিষ্টি, ২৭) ভাগ পিঠে, ২৮) গোটাই অর্থাৎ নিমকি, ২৯) দলমা অর্থাৎ ভাত ও সবজি, ৩০) কাকারা মিষ্টি ৷ ৩১) লুনি খুরুমা অর্থাৎ নোনতা বিস্কুট, ৩২) আমালু অর্থাৎ মিষ্টি লুচি, ৩৩) বিড়ি পিঠে, ৩৪) চাড়াই নাডা মিষ্টি, ৩৫) খাস্তা পুরি, ৩৬) কাদালি বারা, ৩৭) মাধু রুচী অর্থাৎ মিষ্টি চাটনি, ৩৮) সানা আরিশা অর্থাৎ রাইস কেক, ৩৯) পদ্ম পিঠে, ৪০) পিঠে, ৪১) কানজি অর্থাৎ চাল দিয়ে বিশেষ মিষ্টি. ৪২) দাহি পাখাল অর্থাৎ দই ভাত, ৪৩) বড় আরিশা, ৪৪) ত্রিপুরি, ৪৫) সাকারা অর্থাৎ সুগার ক্যান্ডি, ৪৬) সুজি ক্ষীর, ৪৭) মুগা সিজা, ৪৮) মনোহরা মিষ্টি, ৪৯) মাগাজা লাড্ডু, ৫০) পানা, ৫১) অন্ন, ৫২) ঘি ভাত, ৫৩) ডাল, ৫৪) বিসার অর্থাৎ সবজি, ৫৫) মাহুর অর্থাৎ লাবরা, ৫৬) সাগা নাড়িয়া অর্থাৎ নারকেলের দুধ দিয়ে মাখা ভাত !

Published by: Simli Raha
First published: June 23, 2020, 3:45 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर