বিধানসভা ভোটে জয়ের পর এ বার তৃণমূলের ‘টার্গেট’ মালদহ জেলা পরিষদ পূর্নদখল

বিধানসভা ভোটের ফল বেরোতেই গৌড়চন্দ্র মণ্ডলকে সভাধিপতি পদ থেকে সরাতে তৎপর হল তৃণমূল। সূত্রের খবর, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চলেছে তৃণমূল।

বিধানসভা ভোটের ফল বেরোতেই গৌড়চন্দ্র মণ্ডলকে সভাধিপতি পদ থেকে সরাতে তৎপর হল তৃণমূল। সূত্রের খবর, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চলেছে তৃণমূল।

  • Share this:

Sebak DebSarma

#মালদহ: বিধানসভা ভোটে ব্যাপক জয়ের পর এবার তৃণমূলের ‘টার্গেট’ মালদহ জেলা পরিষদ পূর্নদখল।  বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান করেন মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড়চন্দ্র মণ্ডল । তাঁর হাত ধরে কোলকাতায় গিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান আরও কয়েকজন তৃণমূল সদস্য । এরপর থেকেই মালদহ জেলা পরিষদ নিজেদের বলে দাবি করেছিল বিজেপি । এ বার বিধানসভা ভোট মিটতেই অনাস্থা এনে সভাধিপতিকে অপসারনের পথে এগোচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বিধানসভা ভোটের আগে মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড়চন্দ্র মণ্ডলের সদলবলে বিজেপিতে যোগদান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে হইচই পড়ে। তাঁর যোগদানের পর মালদহ জেলা পরিষদ দখলের দাবি করে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের মালদহ জেলা কার্যালয়ে রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ঘটা করে সম্বর্ধনা দেওয়া হয় তৃণমূল ছেড়ে আসা জেলা পরিষদ সদস্যদের। কিন্তু বিজেপির টিকিটে মানিকচক কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে ৩৩ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে গিয়েছেন গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। বিধানসভা ভোটের ফল বেরোতেই গৌড়চন্দ্র মণ্ডলকে সভাধিপতি পদ থেকে সরাতে তৎপর হল তৃণমূল। সূত্রের খবর, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চলেছে তৃণমূল। মালদহ জেলা পরিষদের ৩৭ জন সদস্যের মধ্যে ২৩ জনের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে বলে মঙ্গলবার দাবি করেছেন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা জেলা পরিষদের তৃণমূল দল নেতা সামশুল হক। একই সঙ্গে অবিলম্বে সভাধিপতির পদত্যাগ  দাবি করেছেন তৃণমূল দল নেতা । নয়তো অনাস্থা এনে সভাধিপতিকে পদচ্যুত করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৩৭ জন। এরমধ্যে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ছয়টি আসন জেতে বিজেপি। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে সভাধপতির নেতৃত্ব আরও ১৫ জন সদস্য তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয় বিজেপির তরফে। একইসঙ্গে মালদহ জেলা পরিষদে বিজেপির সদস্য সংখ্যা বেড়ে ২১ হয়েছে বলেও দাবি করে গেরুয়া শিবির। কিন্তু, ইতিমধ্যেই বিজেপির টিকিটে জেতা দুইজন জেলা পরিষদ সদস্য তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আরও কয়েকজন তৃণমূল সদস্যও দলে প্রত্যাবর্তন করেছেন বলে খবর। এই অবস্থায় অনাস্থা আনা হলে আদৌও কি সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমান করতে পারবে বিজেপি ?

জেলা বিজেপি সভাপতি গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল অবশ্য বলেন, অনাস্থা মোকাবিলায় তৈরি দল। মালদহ জেলা পরিষদের দখল এখনও বিজেপির হাতেই বলেও মঙ্গলবার দাবি করেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি। রাজ্যের ক্ষমতায় তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের প্রভাব কী এ বার মালদা জেলা পরিষদে পড়তে চলেছে । রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে এখন তা শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

Published by:Simli Raha
First published: