উত্তরবঙ্গ

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

NRC -র ভয়ে বহু বছর আগে ছেড়ে আসা স্কুল -মাদ্রাসায় ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ, মালদহে আতঙ্কের নয়া চেহারা

NRC -র ভয়ে বহু বছর আগে ছেড়ে আসা স্কুল -মাদ্রাসায় ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ, মালদহে আতঙ্কের নয়া চেহারা
Photo- File

সত্তর-আশির দশকে স্কুল পাস করারাও ফিরে যাচ্ছেন স্কুলে!

  • Share this:

#মালদহ : প্রাক্তনীরা দলে দলে ভিড় জমাচ্ছেন স্কুলে ও মাদ্রাসায় ৷ না পুরনো স্কুল জীবনে উঁকি মেরে স্মৃতি রোমন্থন ভাসতে নয় ৷ একেবারেই নিজেদের বাঁচাতে স্কুলে ছুটছেন বর্ষীয়াণ মানুষরা ৷ কারণ NRC  আতঙ্ক এতটাই তাড়া করছে, নিজেদের দেশের নাগরিক প্রমাণ করার জন্য আরও একটি ডকুমেন্ট নিজেদের কাছে রাখতে চাইছেন সকলেই ৷ স্কুল ছেড়ে আসার যে সার্টিফিকেট অর্থাৎ স্কুল লিভিং সার্টিফিকেটের টানেই স্কুলে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ ৷ মালদহের সাম্প্রতিক ছবিটা এরকমই ৷

জাতীয় পঞ্জীকরণের জন্যেই একাধিক মানুষ এখন স্কুলমুখী ৷ কলকাতার সেক্টর ফাইভে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত রিয়াজুল শেখ ২০ বছর নিজের বাড়ি ফিরেছেন ৷  কারণ তাঁর মাধ্যমিকের সার্টিফিকেটে যে নাম রয়েছে তাতে যে পদবী লেখা রয়েছে সেটা তাঁর ভোটার ও আধার কার্ডের সঙ্গে মেলে না ৷ মাধ্যমিকের সার্টিফিকেটের সেই পদবী সংশোধন এখন খুবই জরুরি মনে করছেন রিয়াজুল ৷

images

রিয়াজুল বলেছেন, ‘ আমার অফিস হঠাৎ করেই নিজের সব কর্মচারীদের বোর্ড পরীক্ষার সার্টিফিকেট জমা দিতে বলেছে, ়যার জন্য ২০ বছর বাদে আমি মালদা এসেছি ৷ আমি যখন সার্টিফিকেট নিলাম তখন দেখলাম আমার পদবী আলাদা লেখা রয়েছে ৷ স্কুল আমায় বলল পর্ষদের অফিসে গিয়ে কতা বলতে ৷ আমায় এটা করতেই হবে কারণ এনআরসি কার্যকর করা হতে চলেছে ৷আমার ক্ষেত্রে সার্টিফিকেটটা যে আমারই সেটা প্রমাণ করা শক্ত হবে কারণ পদবী আলাদা রয়েছে ৷ ’ কালিয়াচক ২  ব্লকের মাদ্রাসার বাইরে এই রিয়াজুলকে পাওয়া গেছে ৷

প্রতিদিনই এরকম রিয়াজুলের মতোই প্রচুর সংখ্যক পড়ুয়া নিজেদের পুরনো স্কুলে যাচ্ছেন ৷ লক্ষ্য একটাই স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট যোগাড় করা ৷ নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য হঠাৎই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই সার্টিফিকেট ৷ এরই জেরে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলিতেো এখন তুমুল ব্যস্ততা কারণ নিজেদের পুরনো রেজিস্ট্রার খুঁজে বার করতে হচ্ছে তাদের ৷

ইংলিশ বাজারে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিস্বামী দাস বলেছেন , ‘এটা একটা পাহাড়প্রমাণ চাপ পুরোন রেজিস্ট্রার খুঁজে বার করে পুরনো পড়ুয়ারদের সব ডকুমেন্ট মিলিয়ে দেখা ৷ সত্তর-আশির দশকে যাঁরা স্কুল পাস করেছেন তাঁরাও আসছেন ৷ প্রতি দিন অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন করে প্রাক্তনী আসছেন তাঁদের স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট নিতে ৷ ’

আরও পড়ুন - পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে যান চলাচল, শুক্রবার রাত থেকে ভাঙা হবে টালা ব্রিজ

 মহম্মদিয়া হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাহিবার রহমান বলেছেন, ‘ প্রতিদিন ১০০-১৫০ জন প্রাক্তনী আসছেন ৷ কেউ স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট চাইছে , কেউ আবার স্কুলের লেটারহেডে নিজেদের জন্য সব তথ্য লিখিতভাবে চাইছে, যেমন জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম ৷ স্কুলে একটা বিশেষ কাউন্টার খোলা হয়েছে এইসব কিছুর জন্য ৷ তাঁদের মতে ছোট একটা ভুলে NRC  থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়তে পারে ৷ ’

এই সবের জেরে স্কুল থেকে গত একমাসে একদিনও ছুটি নিতে পারছেন না অনেকেই ৷ ৫০ বছরের আব্দুল হান্নান আবার কালিয়াচকে নিজের  স্কুলে ফিরেছেন ৷ তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের জমির দলিলে বাবার নাম রয়েছে মহম্মদ আব্দুল রহিম ৷ কিন্তু আমার স্কুলের  সার্টিফিকেট ও অন্যান্য ডকুমেন্টে নাম লেখা রয়েছ আব্দুল রহিম ৷ আমি তাই এগুলি বদলাতে চাইছি আমাদের জমির দলিল অনুযায়ি কারণ জমির দলিল এনআরসি তালিকায় নাম থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র ৷ ’

আরও দেখুন

Published by: Debalina Datta
First published: January 3, 2020, 10:29 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर