Home /News /north-bengal /

Jalpaiguri : পাহাড় ছেড়ে সমতলে নেমে আসছে ভালুক! হাস মুরগি মেরে চাষের জমি তছনছ, অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

Jalpaiguri : পাহাড় ছেড়ে সমতলে নেমে আসছে ভালুক! হাস মুরগি মেরে চাষের জমি তছনছ, অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

পাহাড় ছেড়ে সমতলে নেমে এসেছে ভালুক!

পাহাড় ছেড়ে সমতলে নেমে এসেছে ভালুক!

Jalpaiguri : গ্রামবাসীদের পোশা মুরগি, ছাগল ইত্যাদি শিকার করছে। শস্য ক্ষেত তছনছ করে নষ্ট করছে।

  • Share this:

    #জলপাইগুড়ি: এবার ভালুকের উপদ্রব থেকে বাঁচতে সোমবার রাত থেকে পাহারা দেওয়া শুরু করল জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার শেষ সীমান্তে অবস্থিত কালিংপং জেলার সামসিং ফাঁড়ির মণ্ডলগাঁও খাসমহলের বাসিন্দারা। নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে দিনের বেলা ও রাতে হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার উপদ্রব চালাচ্ছে। গ্রামবাসীদের পোশা মুরগি, ছাগল ইত্যাদি শিকার করছে। শস্য ক্ষেত তছনছ করে নষ্ট করছে। এলাকাবাসীদের মধু চাষের জন্য তৈরি করা মৌমাছির ঘর ভেঙে মধু খেয়ে নিচ্ছে ভালুক।

    নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যানের সামসিং ফরেস্ট রেঞ্জ থেকে মণ্ডলগাঁওতে লোহার খাঁচায়, মুরগি রেখে, খাঁচা পাতা হয়েছে ভালুক ধরার জন্য। লেপচা স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, "আগে কখনও এরকম ভাবে ভালুকের উপদ্রব ছিল না। ছোট থেকে এত বড় হয়েছি আজ পর্যন্ত এরকম গ্রামের ভেতরে কোনও জীবজন্তু ঢুকতে দেখিনি। এখন ভালুক ঢুকে পড়ছে গ্রামের ভিতরে। পোষা মুরগি নিয়ে যাচ্ছে। কখনও শস্য নষ্ট করছে আর বাড়ির মধ্যে থাকা মধু চাষ এর বাক্স ভেঙে মধু খেয়ে ফেলছে। যার ফলে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে আমরা। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্রামের মধ্যে খাঁচা এমনকি আমার বাড়ির পাশে খাঁচা পাতা হয়েছে এই ভালুক ধরার জন্য।"

    আরও পড়ুন- টিকা নিতে নারাজ স্কুল শিক্ষক, বাড়ির দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিলেন গ্রামের মহিলারা

    ডুয়ার্সের মেটেলি থেকে সামসিং হয়ে যাওয়া যায় জিটিএ এলাকার সামসিং ফাঁড়িতে। এই এলাকার মণ্ডলগাঁও, খাসমহল গ্রামদুটিতে দিনেদুপুরে ভালুকের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। রুপেশ লেপচা নামে মণ্ডলগাঁও এর স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, "বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের এলাকায় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভালুকের উপদ্রব প্রচুর পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। এর আগে এরকম ভাবে কখনও ভাল্লুক আমরা দেখিনি রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে আমরা রয়েছি। পোষা মুরগি, ছাগল, খেয়ে চলে যাচ্ছে এবং শস্য পর্যন্ত নষ্ট করে দিচ্ছে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে আমাদের। আমরা গ্রামবাসীরা এখন রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছি ভালুকের ভয়। বনদফতর থেকে আমাদেরকে পটকা দেওয়া হয়েছে। সেই পটকা ফাটিয়ে রাতের বেলা আমরা ভালুককে দূরে রাখার চেষ্টা করছি। পার্শ্ববর্তী গ্রামেও সকালবেলা ভালুক বেরিয়ে আসছে। এই কারণে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে আমরা বারবার বলার পর গ্রামের মধ্যে খাঁচা বসিয়েছে ভাল্লুক ধরার জন্য।"

    আরও পড়ুন- মালদহ শহরে আটটি ওয়ার্ডের একাধিক এলাকা মাইক্রো কনটেইনমেন্ট জোন

    পরিবেশ প্রেমী নাফসার আলি জানান, "শুধু পাহাড়েই নয়। ডুয়ার্সের সমতলেও নেমে আসছে ভালুক। কখনও গ্রামে আবার কখনও চা বাগানে ঢুকে পড়ছে ভালুক। রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বাসিন্দারা। এর আগে কখনো এভাবে ভালুক সমতলের নেমে আসেনি। ভালুক সচরাচর শীতপ্রধান এলাকাতে বসবাস করে। তাদের বাসস্থানে কোনও রকম অসুবিধা হয়েছে অথবা প্রাকৃতিক ভাবে কোনও পরিবর্তনের ফলেই হয়তো পাহাড় থেকে ভালুক সমতলের দিকে নেমে আসছে। বনদফতরের কাছে আমরা দাবি জানাই, তারা যেন এই বিষয়ে বিশেষ করে নজর দেন। না হলে এই ভাবে ভালুক লোকালয় বেরিয়ে আসলে যেমন সাধারণ মানুষের ক্ষতি তেমনই মানুষ এবং ভালুকের সংঘাতের ফলে মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে।"

    Published by:Swaralipi Dasgupta
    First published:

    Tags: Jalpaiguri

    পরবর্তী খবর