সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া হার মানে ধর্মীয় ভাবাবেগের কাছে, মা মনসার পুজো উপলক্ষ্যে মিটে যায় দূরত্ব

সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া হার মানে ধর্মীয় ভাবাবেগের কাছে,  মা মনসার পুজো উপলক্ষ্যে মিটে যায় দূরত্ব
Photo- Youtube

পুজো উপলক্ষ্যে বসে মেলা, এ পাড়ের মানুষ প্রসাদ বিলি করেন ওপাড়ের মানুষদের

  • Share this:

#কোচবিহার: মা মনসার আশীর্বাদ পেতে বাংলাদেশ সীমান্তে মিলিত হলেন দুপাড়ের বাসিন্দারা । চাঁদসদাগরের ডিঙা ও মা মনসার পুজো উপলক্ষে তুফানগঞ্জের চেংমারী সীমান্ত গ্রামে খুলে দেওয়া হয় গেট । সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বসে মেলা । সীমান্তের গেট পেরিয়ে জিরো পয়েন্টে মন্দিরে গিয়ে মা মনসার পুজো করেন ভক্তরা । এলাকার বাসিন্দাদের বিশ্বাস বানিজ্য করতে যাওয়ার সময় চাঁদসদাগরের ডিঙা মনসার কোপে ডুবে গিয়েছিল এখানেই । ডিঙ্গির মত উচু ঢিবিতে পুজো শুরু হয় ।

একসময় ভারত বাংলাদেশের মানুষ একসাথে এই পুজোর আয়োজন করতেন । এখন বিএসএফ ও বিজিবির নিষেধে বাংলাদেশ সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দারা পুজোতে আসার সুযোগ পান না । কিন্তু এপাড়ের প্রসাদ পৌছে যায় কাটাতারের বেড়ার ফাক গলে । পুজোর দিনে ধর্মীয় বিশ্বাসের কাছে মাথা নত করতে হয় সীমান্তের নিয়মকে ।

রাসপূর্নিমাতে বাংলাদেশ সীমান্তে কাটাতারের ওপাড়ে শুরু হয় মা মনসার পুজো । পুজোর উদ্বোধন করেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ । ছিলেন বিএসএফ এর চেংমারি বিওপির আধিকারিকরা । মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন , এই পুজোতে প্রায় পনেরো বছর আগেও বাংলাদেশ সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দারা আসতেন । এখন সীমান্তের নিয়মে তা সম্ভব না হলেও এপাড়ের প্রসাদ চলে যায় ওপাড়ে ।

চেংমারি বিওপি সুত্রে খবর আগে সারাবছর নির্দিষ্ট সময় ছাড়া কাটাতারের গেট খোলা হয়না । তবে পুজোর দিনে এই গেট খোলা থাকে । কাটাতারের গেট খোলা থাকলেও ওপাড়ের বাংলাদেশের মুল ভুখন্ডে যাতে কেউ যেতে না পারেন তাই বাশ ও লোহার তার দিয়ে জিরো পয়েন্টে বানানো হয় অস্থায়ী বেড়া । সীমান্ত ঘেষে ভারতীয় জমিতে বসে মেলা । সীমান্তের এই মেলাতে চলে বিকিকিনি । উতসবের আমেজে ভাসে সীমান্তের গ্রাম । পুজো উদোক্তা ফনীন্দ্র নাথ বর্মন বলেন , চাঁদ সদাগর তার সপ্তডিঙা নিয়ে যখন বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছিলেন তখন মা মনসার কোপে এখানেই একটি ডিঙা দুবে যায় ।এখন অবশ্য কোনো নদীর ছাপ নেই । তবে বহুবছর আগে একটি ডিঙির মত মাটির ঢিবি উচু হয়েছিল। এরপরেই সেই ঢিবিতে শুরু হয় মা মনসার পুজো ।

এপাড়ে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের কৃষ্ণপুর গ্রাম ।আর কাটাতারের ওপাড়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ধলডাঙা । জমিতে কৃষিকাজ করে দিন গুজরান হয় দুপাড়ের । দুদেশের বাসিন্দাদের মধ্যে একসময় ছিল নিবিড় সম্পর্ক । তবে কাটাতারের বেড়া জমি দুভাগে ভাগ করে দিলেও প্রতিবছর চাঁদসদাগরের ডিঙা ও মা মনসার পুজো উপলক্ষে সীমান্তের কাছে আসার সুযোগ পান তারা । তাই ফি বছর তারা অপেক্ষায় থাকেন এই পুজোর ।

Loading...

আরও দেখুন

First published: 04:31:12 PM Nov 12, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर