পাহাড় জুড়ে মিছিলের প্রস্তুতি বিনয় শিবিরের

পাহাড় জুড়ে মিছিলের প্রস্তুতি বিনয় শিবিরের
বিনয় তামাং

মিছিল নিয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠক করেছেন বিনয় শিবিরের নেতারা। বৈঠকে ঠিক হয়েছে কালিম্পং, মিরিক, কার্শিয়ং, দার্জিলিং সমস্ত এলাকার মানুষ যোগ দেবেন। মিছিলের প্রথম সারিতে থাকবেন পাহাড়ের বিশিষ্টজনেরা। থাকবেন পাহাড়ে তৈরি হওয়া সমস্ত জনজাতি বোর্ডের সদস্যরা। এছাড়া তাঁদের যে বিশেষ পোশাক আছে তা পরেই তাঁরা মিছিলে যোগ দেবেন। তবে মিছিলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পাহাড়ের যুবদের।

  • Share this:

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে একাধিকবার পাহাড়ে এসেছেন। যদিও পাহাড়ে লোকসভা নির্বাচন ও বিধানসভা উপনির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। বিনয় শিবিরও আশাব্যঞ্জক সাংগঠনিক সাফল্য দিতে পারেনি। কিন্তু উত্তরবঙ্গে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয় ও সিএএ-ক্যাব ইস্যু নিয়ে পাহাড়ের মানুষের প্রতিবাদকে সামনে রেখে ফের সংগঠন শক্তিশালী করতে আসরে নেমেছে বিনয়-অনীত শিবির।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ে মিছিল করবেন আগামী ২২ জানুয়ারি। সেই মিছিলেই নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে মরিয়া বিনয় শিবির। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে মিছিল হবে দার্জিলিং চক বাজার থেকে ম্যাল পর্যন্ত। প্রসঙ্গত, এই চকবাজারেই পাহাড়ের রাজনৈতিক নানা সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতেন বিমল গুরুং। পাহাড়ে বিমল-রোশন না থাকলেও পাহাড়ে তাঁদের প্রভাব অস্বীকার করছেন না কেউই। বিশেষ করে তাদের প্রভাবেই বিজেপি পাহাড়ের লোকসভা আসন জিতেছে বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু অসমে এনআরসি তালিকা প্রকাশের পরে যে ভাবে কয়েক লক্ষ গোরখা মানুষের নাম বাদ গেছে, তাতে পাহাড়ের একটা বড় অংশ ভীষণ রকম ক্ষুব্ধ। আর সেটাকে কাজে লাগিয়েই এবার পাহাড়ে ফের নিজেদের সংগঠনের দক্ষতা প্রমাণে মরিয়া বিমল-অনীতরা।

মিছিল নিয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠক করেছেন বিনয় শিবিরের নেতারা। বৈঠকে ঠিক হয়েছে কালিম্পং, মিরিক, কার্শিয়ং, দার্জিলিং সমস্ত এলাকার মানুষ যোগ দেবেন। মিছিলের প্রথম সারিতে থাকবেন পাহাড়ের বিশিষ্টজনেরা। থাকবেন পাহাড়ে তৈরি হওয়া সমস্ত জনজাতি বোর্ডের সদস্যরা। এছাড়া তাঁদের যে বিশেষ পোশাক আছে তা পরেই তাঁরা মিছিলে যোগ দেবেন। তবে মিছিলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পাহাড়ের যুবদের।

যুব মোর্চার সভাপতি অমৃত ইয়ানজন তা নিয়ে বৈঠক করা শুরু করেছেন। চেষ্টা করা হচ্ছে পাহাড়ের সমস্ত কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিলে সামিল করার। মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়ির সভা থেকে সরব হন ছাত্রদের ওপর জোর করা হচ্ছে। তাদের আন্দোলনে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে। সেই কারণেই পাহাড়ের মানুষের মন জয় করতে যুব শক্তিকেই কাছে টানার চেষ্টা চলছে। পাহাড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল নিয়ে আশাবাদী তৃণমুল শিবিরও। তৃণমুলের রাজ্য সভার সাংসদ শান্তা ছেত্রী বলেন, 'লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দেওয়াটা যে ভুল হয়েছিল তা বুঝতে পারছেন পাহাড়ের মানুষ। সেই কারণেই পাহাড়ের মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলে যোগ দিয়ে প্রতিবাদ জানাবেন।'

মিছিলের প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায়। পাহাড়ের ১৬টি উন্নয়ন বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করছেন বিনয়-অনীত। মিছিলে সিএএ ও ক্যাব বিরোধী পোস্টার রাখা হবে। এ ছাড়া পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় এই দুইয়ের বিরোধিতা করে পোস্টার দেওয়া হচ্ছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিনয় তামাং বলেন, 'কেন্দ্রীয় নীতি পাহাড়ের মানুষকে বিপদে ফেলেছে। তাই মিছিলে উৎসাহ নিয়েই যোগ দেবেন পাহাড়ের মানুষ।'

শিলিগুড়ির মিছিলে যে ভাবে বিশাল সংখ্যক মানুষ যোগ দিয়েছিলেন তাতে খুশি তৃণমুল শিবির। উত্তরবঙ্গে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ে তাই পাহাড়ের মিছিল নিয়ে পরিকল্পনায় কোনও ফাঁক রাখতে চায় না তারা। আর এই মিছিল থেকে নিজেদের অস্তিত্ব পাহাড়ে বোঝাতে চায় বিনয়-অনীত শিবিরও।

First published: January 6, 2020, 5:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर