SIR (Special Intensive Revision) ঘিরে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরে। একদিকে বিজেপি নেতাদের দাবি, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় ও স্বচ্ছ; অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই পদক্ষেপ আসলে ভোটারদের বাদ দেওয়ার গোপন রাজনৈতিক চাল।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংহের বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে ঘৃতাহুতি দিল বিতর্কে। বাংলার সরকারকে “বাংলাদেশের সরকার” বলে কটাক্ষ করে তিনি শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নয়, সমগ্র বিরোধী শিবিরকেও নিশানা করেছেন।
ফলে SIR এখন কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক মঞ্চের কেন্দ্রীয় ইস্যু — নাগরিকত্ব, ভোটার তালিকা ও সংবিধানের অধিকারের প্রশ্নে শুরু হয়েছে এক নতুন দফার লড়াই। SIR নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ সরাসরি আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, বললেন,
“বাংলার সরকার তো মনে হচ্ছে এখন বাংলাদেশের সরকার হয়ে গিয়েছে! মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের জন্য কিছু রাজ্য SIR-এর বিরোধিতা করছে। বিরোধীরা ভারতকে ধর্মশালা বানাতে চাইছে।”
advertisement
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আধার কার্ড ও নাগরিকত্বের প্রমাণ তৈরি হচ্ছে। এখানে অনুপ্রবেশকারীদের আধার বানানোর ফ্যাক্টরি চলছে। পরিকল্পনা করে তাঁদের অন্য রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে।”
গিরিরাজ সিংহের বক্তব্য, CAA চালু হয়ে গিয়েছে, এখন সারা দেশে NRC চালু করা জরুরি। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করে শুধুমাত্র ভোট পাওয়ার রাজনীতি করছে বিরোধীরা।”
advertisement
SIR প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,
“দেশের জন্য SIR যতটা জরুরি, ততটাই জরুরি CAA ও NRC। কিছু রাজ্য শুধু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য এর বিরোধিতা করছে।”
এর আগেই বিজেপির একাধিক নেতার মুখে শোনা গিয়েছে ভবিষ্যদ্বাণী— SIR প্রক্রিয়া শুরু হলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে বিপুল সংখ্যক নাম। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
advertisement
“১ কোটি ভোট বাদ যাবে। শুরুতেই ২৯ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, আধার ডিঅ্যাক্টিভেট হয়েছে ১৩ লক্ষ, ডাবল এন্ট্রি ১৬ লক্ষ।”
আর বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন,
“SIR হলে ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম কাটা যেতে পারে।”
এই মন্তব্যগুলির পরেই তীব্র সুরে পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ,
advertisement
“ওরা মিটিং করে এসে বলে দিচ্ছে, বাংলায় কত লাখ ভোটারের নাম বাদ দেবে! এখন তো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়, উৎসবের মরশুম— ১৫ দিনের মধ্যে SIR করা সম্ভব? বিজেপির পার্টি কমিশন হবে, না মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য কমিশন হবে?”
তিনি আরও বলেন, “এটা পুরো অমিত শাহের খেলা।”
এদিকে, এই বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হবে ভোটার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া (SIR)। বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার এনুমারেশন ফর্ম বিলি করবেন এবং সংশোধনের কাজ চালাবেন এক মাস ধরে।
advertisement
তবে প্রশ্ন উঠছে— মাত্র এক মাসে রাজ্যের কোটি কোটি ভোটার যাচাই করা আদৌ সম্ভব কি না। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে যদি বৈধ ভোটারদের নাম ভুলবশত বাদ পড়ে, তার দায় নেবে কে— এই প্রশ্নেই এখন সরগরম রাজনৈতিক মহল।