• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • পাঠানকোটের সঙ্গে উরি জঙ্গি হামলার সাদৃশ্য কোথায় ?

পাঠানকোটের সঙ্গে উরি জঙ্গি হামলার সাদৃশ্য কোথায় ?

পাঠানকোটে হামলার পর অনেকটা একই কায়দায় জঙ্গিরা এদিন হামলা চালায় উরিতে ৷

পাঠানকোটে হামলার পর অনেকটা একই কায়দায় জঙ্গিরা এদিন হামলা চালায় উরিতে ৷

পাঠানকোটে হামলার পর অনেকটা একই কায়দায় জঙ্গিরা এদিন হামলা চালায় উরিতে ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #শ্রীনগর: এবছরের শুরুতেই সেনা পোশাকে কুয়াশার সুবিধে নিয়ে পঞ্জাবের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ছ’জন পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি ৷ দীর্ঘ এই গুলির লড়াইয়ে সাত জন ভারতীয় সেনা শহীদ হন ৷ পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ ৷ প্রমাণ হিসেবে বেশ কিছু নথি ভারত তুলে দেয় পাকিস্তানের হাতে ৷ সেই বিষয়েই তদন্ত করতে ভারতেও এসেছিল পাক তদন্তকারী দল ৷ কিছু মাস যেতে না যেতেই ফের সেনা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হানা এদেশে ৷ জঙ্গিদের নিশানায় এবার উরি সেক্টরের সেনা ঘাঁটি ৷ রবিবার ভোররাতে জম্মু-কাশ্মীরে সেনার হেড কোয়ার্টারে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা ৷ হামলায় শহীদ হয়েছেন ১৭  জন জওয়ান  ৷ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ৷ আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৷ তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক  ৷ গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছে ৪ জঙ্গিও ৷ গোটা রাজ্যে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট ৷

    পাঠানকোটে হামলার পর অনেকটা একই কায়দায় জঙ্গিরা এদিন হামলা চালায় উরিতে ৷ কারণ জঙ্গিরা হামলার জন্য ভোরে সেনাদের ডিউটি বদলের সময়টাকেই এখন বেছে নিচ্ছে ৷ পাঠানকোটেও সেনা পোশাকে এই সেনাদের ডিউটি বদলের সময়েই বিমানঘাঁটিতে ঢুকে পড়েছিল জঙ্গির দল ৷ এদিন ভোররাতেই উরির সেনা ঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে চার জঙ্গি ৷ ঘুমন্ত সেনাদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়ে তারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রাণ হারান সেনারা ৷ এই হামলার পিছনে আইএসআই মদতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ৷ আইএসআইয়ের মদতে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিরাই উরি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে অনুমান সেনাবাহিনীর ৷ পাঠানকোটের সময় সেনা গাড়ি অপহরণ করে সেনা ঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে জঙ্গিরা ৷ সেনা পোষাকে থাকায় তাদের প্রথমে বোঝা সম্ভব হয়নি ৷ যদিও এইভাবে সেনা গাড়ি অপহরণ করে বিমানঘাঁটিতে ঢুকে পড়ার বিষয়টা সহজেই মাফ করার মতো বিষয় নয় ৷ কারণ এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর দুর্বলতার দিকটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছিল জঙ্গিরা ৷ কিন্তু ওই ঘটনার পরও যে সেভাবে সেনাবাহিনী সতর্কতা অবলম্বন করেনি তা উরির জঙ্গি হামলার ঘটনাই প্রমাণ ৷ কাশ্মীরের এই সেনাঘাঁটিতে ঢোকার ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের সাহায্যকেই জঙ্গিরা কাজে লাগিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে ৷ কারণ সীমান্তরেখা অতিক্রম করে এদেশে ঢোকার ক্ষেত্রে সেখানকার কিছু স্থানীয় মানুষ, যাদের এই জঙ্গিদের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে, তাদের অবদান ছাড়া এই কাজ অসম্ভব বলেই মনে করছে সেনাবাহিনী ৷ পাঠানকোটের সঙ্গে উরির হামলার আরও একটা মিল হল এই দুই হামলাই ফিদাঁয়ে জঙ্গি হামলা ৷ মাত্র ৪-৫ জঙ্গি মিলেই কখনও বিমানঘাঁটি আবার কখনও সেনাঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে চলে যাচ্ছে ৷

    কিন্তু পাক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর জঙ্গিদের এই একের পর এক হামলার পর সেনার তরফে এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেটাই দেখার ৷ কারণ এই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছে রাস্তা দুটোই ৷ এক, আক্রমণের পর সেনাবাহিনীরও জঙ্গি নিকেশে অল-আউট ঝাঁপানো ৷  শুধু দু’দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে পারস্পরিক বৈঠকই নয় ৷ প্রয়োজন সেনার তরফে জঙ্গি হামলার সঠিক জবাব দেওয়ার ৷  অন্যদিকে নিজেদের ঘাঁটিগুলিকে আরও সুরক্ষিত করার পাশাপাশি সেনাদের ডিউটির সময় বদলের বিষয়টাকেও আরও জোর দিয়ে দেখার ৷ যাতে ভবিষ্যতে এই দুর্বলতার সুয়গ নিয়ে আরও বড় হামলা পুনরায় না ঘটাতে পারে জঙ্গিরা ৷

    First published: