শিনা বোরা হত্যাকাণ্ড ৩ বছর ধরে কারা চাপা দিয়ে রেখেছিলেন, প্রশ্ন রাহুলের

শিনা বোরা হত্যাকাণ্ড ৩ বছর ধরে কারা চাপা দিয়ে রেখেছিলেন, প্রশ্ন রাহুলের

দেশ জোড়া আলোড়ন ফেলা এই হত্যাকাণ্ডের পর্দাফাঁস হয় যে তদন্তকারী অফিসারের হাত ধরে, তাঁর স্বীকারোক্তিতেই ফের শুরু বিতর্ক ৷

  • Share this:

#মুম্বই: ফের শিরোনামে শিনা বোরা হত্যাকাণ্ড ৷ দেশ জোড়া আলোড়ন ফেলা এই হত্যাকাণ্ডের পর্দাফাঁস হয় যে তদন্তকারী অফিসারের হাত ধরে, তাঁর স্বীকারোক্তিতেই ফের শুরু বিতর্ক ৷

শিনা বোরা হত্যারহস্যের অন্যতম তদন্তকারী অফিসার রাকেশ মারিয়া সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের সামনে এক সাক্ষাৎকারে দাবী করেন, শিনা বোরার খুনের ঘটনাটি কিছু প্রভাবশালীর ব্যক্তির প্রভাবের কারণে তিন বছর ধরে চেপে রাখা হয়েছিল ৷ এই চাঞ্চল্যকর উক্তি সামনে আসতেই ফের এই মামলা নিয়ে শুরু হয় গুঞ্জন ৷

মঙ্গলবার রাকেশ মারিয়ার এই উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ট্যুইটারে পিটার মুখোপাধ্যায়ের পুত্র এবং শিনার প্রেমিক রাহুলের প্রশ্ন, কারা সেই ব্যক্তি? একইসঙ্গে ট্যুইটে সরাসরি তৎকালীন জয়েন্ট কমিশনার দেবেন ভারতীর দিকে সন্দেহের তীর ছুড়েছেন ৷ ট্যুইটারে রাহুল লিখেছেন, ‘এই মামলার এখনও এমন কোনও দিক অবশিষ্ট আছে, যা তিনি জানেন না ৷ ২০১২ মামলাটা চাপা দেওয়ার জন্য কে প্রভাব বিস্তার করেছিল? মারিয়া কি ইন্দ্রাণীর সঙ্গে তৎকালীন জয়েন্ট কমিশনার দেবেন ভারতীর কোনও যোগাযোগের কথা বলছেন? নাকি সর্ষের মধ্যে আরও ভূত লুকিয়ে আছে? এত গোপনীয়তা কেন?’

রাকেশ মারিয়ার আগে দেবেন ভারতী এই মামলার তদন্ত করেছেন ৷ তবে ২০১৫ সালে রাকেশ মারিয়ায় এই হাইপ্রোফাইল মার্ডার মিস্ট্রির রহস্য উদঘাটন করেন ৷ ২০১৫ সালে খার পুলিশের সৌজন্যে ২০১২ সালে খুন হওয়া একটি মেয়ের আসল পরিচয় ও খুনের ঘটনা সামনে আসে ৷ পরে এই মামলার তদন্ত ভার যায় সিবিআইয়ের হাতে ৷

২০১২ সালে শিনা বোরা খুন হওয়ার আগে মিডিয়া ব্যারণ পিটার মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পক্ষের ছেলে রাহুল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ৷ শিনা ছিলেন রাহুলের সৎ মা ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পক্ষের মেয়ে ৷

বর্তমানে শিনা বোরা হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসেবে মিডিয়া ব্যারন পিটার মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রাণীর প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের চার্জ পেশ করেছে সিবিআই ৷

শিনা ভোরা হাইপ্রোফাইল হত্যাকাণ্ড গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে ৷ ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর নিজের মেয়ে শিনা বোরাকেই খুন করার অভিযোগ ওঠে ৷ এই খুনে প্রত্যক্ষভাবে তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন স্বামী সঞ্জীব খান্না ও ড্রাইভার শ্যাম রাই ৷ ইন্দ্রাণীর স্বামী মিডিয়া ব্যারণ পিটার মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে ৷ উল্লেখ্য, অতীত লুকানোর জন্য শিনাকে বরাবর নিজের বোন হিসেবে পরিচয় দিত ইন্দ্রাণী ৷

২০১২ সালের এপ্রিল মাসে ২৪ বছরের শিনাকে গাড়ির মধ্যে গলা টিপে খুন করে হত্যা করা হয়। তারপর খুনের একদিন বাদে তাঁর দেহ মুম্বই থেকে ৮৪ কিমি দূরে রায়গড়ের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে মাটির তলায় পুঁতে ফেলা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার প্রথমে মুম্বই পুলিশের হাতে ছিল। ২০১৫-এর শেষেরদিকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআইকে।

মুম্বইয়ের এক সুপারি কিলার বিজয় পালান্দের গ্রেফতারির পরই প্রকাশ্যে আসে হাইপ্রোফাইল শিনা বোরা হত্যাকাণ্ড ৷ মেয়ে শিনাকে গাড়িতে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করে জঙ্গলে দেহ পুড়িয়ে দিয়ে এসেছিল মা ও তার প্রাক্তন স্বামী। ঘটনার ৩ বছর পর খুনের ঘটনায় পর্দা ওঠে। এবার রাকেশ মারিয়ার স্বীকারোক্তির পর এই খুনের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগের জন্য আরও রাঘব-বোয়ালের নাম উঠে আসতে পারে ৷

First published: 12:55:27 PM Jan 31, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर