Home /News /national /
শহিদ স্বামীর কফিন জড়িয়ে বলেছিলেন ‘ভালবাসি তোমায়’, নিহত সেনার স্ত্রী যোগ দিলেন সেনায়

শহিদ স্বামীর কফিন জড়িয়ে বলেছিলেন ‘ভালবাসি তোমায়’, নিহত সেনার স্ত্রী যোগ দিলেন সেনায়

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: নিকিতি কৌল ধৌনদিয়াল ৷ বিয়ের এক বছর পূর্তির দিনটাও উদযাপন করতে পারেননি তিনি ৷ তার আগেই সব শেষ ৷ গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ৷ ভালবাসার দিনেই পৃথিবী থেকে চিরতরে মুছে গিয়েছিল তাঁর জীবনের সমস্ত লাল রং ৷ পুলওয়ামা হামলায় শহিদ হয়েছিলেন মেজর বিভূতি শঙ্কর ধৌনদিয়াল ৷ নিকিতার স্বামী ৷ ফিরে আসার কথা ছিল বিবাহহার্ষিকীতে ৷ কিন্তু বাড়ির উঠনে রাখা ছিল নিথর বিভূতির নিথর দেহ ৷ বুকে ভিতর তখন উথাল পাথাল ৷ ঘন অন্ধকারে তখন প্রব ঝড় উঠছে ৷ কিন্তু ভেঙে পড়েননি নিকিতা ৷ চোখের অঝোর জলের ধারাকে আড়াল করে শক্ত, কঠিন মুখে স্বামীর নামে শপথ নিয়েছিলেন তিনি ৷ গোটা দেশ দেখেছিল সেই ছবি ৷ সদ্য স্বামীহারা এক নারী কফিনের সামনে দাঁড়ায়ে...কঠিন মুখ...দৃপ্ত চোখ...গর্বে ভরে উঠছে মন...অথচ ভিতরে ভিতরে ভেঙেচুরে যাচ্ছেন ৷ স্বামীর দেহের সামনে দাঁড়ায়ে সেদিন স্যালুট করেছিলেন নিকিতা ৷ আর কফিন জড়িয়ে অস্ফুটে বলে উঠলেন, ‘আই লভ ইউ ৷’ চুমুতে ভরিয়ে দিয়েছিলেন প্রিয়তমকে ৷

    সেদিনই নিকিতা শপথ করেছিলেন স্বামীর আদর্শেই দেশসেবা করবেন তিনি ৷ ২৮ বছরের নিকিতা কর্পোরেট কর্মী ছিলেন ৷ কিন্তু গত এক বছর ধরে তাঁর ধ্যানজ্ঞান শুধুই ছিল এসএসসি (শর্ট সার্ভিস কমিশন) ৷ ছ’মাস আগে পরীক্ষায় বসেন ৷ ইন্টারভিউতেও ডাক পান নিকিতা ৷ এখন বাকি শুধু মেরিট লিস্ট আসার ৷ এখনও দেহরাদূনে নিজের শ্বশুরবাড়িতেই তাকেন নিকিতা ৷ তিনি জানান, শাশুড়িই তাঁকে সবচেয়ে বেশি মনোবল জুগিয়েছেন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ব্যপারে ৷ আর স্বামী বিভূতি? নিকিতা জানান, ‘‘প্রথমদিকে কিছুতেই নিজের মনকে একত্র করতে পারিনি ৷ নিজের মধ্যে ছিলাম না ৷ এরকম ধাক্কা কাটিয়ে ওটা সহজ নয় ৷ তারপর আসতে আসতে বিভুর কথা ভাবলাম ৷ ভাবলাম ও থাকলে এই সময় কী সিদ্ধান্ত নিত ৷ দেখলাম ও সবসময় আমার পাশেই রয়েছে ৷ আমাদের বিয়ে তো ভাঙেনি ৷ বিয়ের শপথ ও ভুলে যায়নি ৷ বিভু সবসময় আমার পাশে পাশেই রয়েছে ৷’’

    চাকরি ছেড়ে মন দিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন নিকিতা ৷ পরিবারের মনোবল ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এছাড়া আর কিছু করার ছিল না তাঁর ৷ তাঁর কথায়, ‘‘যখন লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ দিচ্ছিলাম মনে এক অদ্ভুত সাহস পাই। আমার স্বামীও এই পরীক্ষায় ভাল ফল করেন। মনে হচ্ছিল ও আমার পাশে বসেই আছে, ওর অনুভূতির সঙ্গে নিজের আত্মবিশ্বাস মিলিয়ে দিয়েছিলাম। ইন্টারভিউতে আমাকে পরীক্ষকরা প্রশ্ন করেছিলেন, ‘বিয়ের কত দিন হয়েছিল?’ আমি উত্তর দিই, ‘দু’বছর ৷’ ওঁনারা অবাক হয়ে বললেন, ‘ন’মাস শুনেছিলাম’, আমি হেসে বললাম, ‘বিবাহিত জীবন তো এখনও শেষ হয়নি!’’

    Published by:Simli Raha
    First published:

    Tags: Major Vibhuti Shankar Dhoundiyal, Nikita Dhoundiyal, Pulwama attack

    পরবর্তী খবর