কোন দেশের মেয়ে? এই প্রশ্নের খোঁজে অন্ধকারে নবজাতক শিশুর ভবিষ্যত

Representative Image

কোন দেশের মেয়ে? এই প্রশ্নের খোঁজে অন্ধকারে নবজাতক শিশুর ভবিষ্যত

  • Share this:

    #বেঙ্গালুরু: পরিচয় একটা আছে, কিন্ত দেশ নেই। তার কাছে বেঙ্গালুরুর বাণীবিলাস হাসপাতাল-ই এখন দেশ। ছোট্ট বেডেই একরত্তি শিশুকন্যার জগত। বাবা ভারতীয়, মা পাকিস্তানি। জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত থাকলেও আইনের কাঁটাতারে আটকে তার স্বদেশের পরিচয়।

    বয়স মাত্র কয়েকদিন। সদ্যোজাত কন্যার এখনও নামকরণ-ই হয়নি। কিন্তু, জন্মেই নাগরিকত্বের জটিল সমীকরণে ভুগছে সে। আপাতত তার ঠাঁই বেঙ্গালুরুর বাণীবিলাস হাসপাতালে। কিন্তু তারপর? কোথায় যাবে, কোথায় থাকবে? জানে না তার বাবা-মাও। বাবা ভারতীয় মা পাকিস্তানি। এই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    বিতর্কের সূত্রপাত

    - চলতি বছরেই কেরলের বাসিন্দা মহম্মদ শিহাব ও তাঁর স্ত্রী সমিরাকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ - অভিযোগ, শিহাবের স্ত্রী সমিরা অবৈধ ভাবে এ দেশে বসবাস করছেন - সমিরা পাকিস্তানের বাসিন্দা - সমিরার আধার কার্ড নকল বলে অভিযোগ - আপাতত বিচারাধীন বন্দি সমিরা - সংশোধনাগারে থাকাকালীনই কন্যাসন্তান প্রসব করে সমিরা

    এমন জটিল পরিস্থিতিতে কোনও ব্যক্তিকে তাঁর দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়ম রয়েছে আইনে। কিন্তু, সমিরা বিচারাধীন বন্দি। ফলে, এদেশ ছাড়তে পারবেন না। জেরায় শিহাব ও সমিরা জানিয়েছেন,

    - ২০১৫ সালে ওমানে থাকাকালীন তাঁরা বিয়ে করেন - সমিরার বাবা বিয়েতে আপত্তি করেছিলেন - ভারতীয়কে বিয়ে করেছেন শুনে সমিরাকে করাচিতে আটকে রাখেন তাঁর বাবা - সেখান থেকে কোনওরকমে পালিয়ে আসেন তাঁরা

    জন্ম বা মৃত্যু মানে না কোনও দেশকালের গণ্ডী। সদ্যোজাত কন্যাকে নিয়ে যত বিতর্কই থাক, তা নিয়ে আদৌ চিন্তিত নন বেঙ্গালুরুর বাণীবিলাস হাসপাতালের ডাক্তার বা নার্সরা। ভালবাসায় লাগাম দিতে পারেনি সীমান্তের কাঁটাতার।

    First published: