Delhi Violence| 'নমাজ পড়ে বাচ্চাদের জন্য মিষ্টি কিনে ফিরছিলাম, ওরা রড নিয়ে ঘিরে ধরল'

Delhi Violence| 'নমাজ পড়ে বাচ্চাদের জন্য মিষ্টি কিনে ফিরছিলাম, ওরা রড নিয়ে ঘিরে ধরল'
দিল্লি হিংসায় এই ছবিটি ভাইরাল হয়েছে

দিল্লির হিংসার এই ছবিটি ভাইরাল ইন্টারনেটে৷ উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওই ছবিটিই বলে দিচ্ছে, দিল্লিতে ঠিক কী অবস্থা!

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: একটি লোক দু হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে উবু হয়ে বসে আছে৷ রক্তাক্ত৷ তাঁকে ঘিরে ধরে লাঠি, রড, হকি স্টিক দিয়ে মারছে অনেক লোক৷ দিল্লির হিংসার এই ছবিটি ভাইরাল ইন্টারনেটে৷ উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওই ছবিটিই বলে দিচ্ছে, দিল্লিতে ঠিক কী অবস্থা!

ভদ্রলোকের নাম মহম্মদ জুবেইর৷ সেই জুবেইর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে একটি সাক্ষাত্‍কার দিয়েছেন৷ কী ভাবে তাঁকে মারা হয়, কী জন্য তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, জানালেন সব৷ জুবেইরের কথায়, 'গত মঙ্গলবারের কথা৷ আমি তখন নমাজ পড়তে বেরিয়ে ছিলাম৷ বাচ্চাদের জন্য মিষ্টি কিনে ফিরছিলাম বাড়ি৷ হঠাত্‍ আমায় ঘিরে ধরল একটি ভিড়৷ তাদের হাতে লোহার রড, হকি স্টিক, লাঠি৷'

জুবেইর বললেন, 'আমার হাড়গোড় ভেঙে না-যাওয়া পর্যন্ত ওরা মারল৷ আমি ওদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলাম৷ ওরা আমায় আমার ধর্ম তুলে গালিগালাজ করতে শুরু করল৷ আমি ওদের পায়ে পড়লাম, আরও মারতে লাগল৷ ওরা মাঝে মাঝে বিজেপি নেতা কপিল শর্মার নাম বলছিল৷ তারপর বেশি কিছু মনে পড়ছে না৷ তীব্র মার খেতে খেতে আমার মাথায় তখন ঘুরছে, আমার সন্তানরা নিরাপদে আছে তো? পরে আমার ওই ছবিটি দেখে, তাকাতে পারছি না৷ আমার পায়ে তীব্র যন্ত্রণা৷'

জুবেইর যতক্ষণ অজ্ঞান হয়নি, ততক্ষণ পর্যন্ত মারা হয়৷ শরীরে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন৷ তাঁকে জিটিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অচৈতন্য অবস্থায়৷ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে তিনি দিল্লিতেই তাঁর এক তুতো ভাইয়ের বাড়িতে রয়েছেন৷

জুবেইর পেশায় মজুর৷ দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা৷ প্রত্যেকেরই বয়স ৬ বছরের নীচে৷ পরিবারকে উত্তরপ্রদেশে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি৷ দিল্লির চাঁদবাগের বাসিন্দা তিনি৷

জুবেইরের পরিবার ও ভাইরা ভয়ে কাঁপছেন৷ দু কামরার একটি ঘরে তাঁরা বন্দি রয়েছেন৷ এফআইআর করতে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা৷ পরিবারের বক্তব্য, জুবেইর বেঁচে ফিরেছেন, এটাই প্রাপ্তি৷

দিল্লি পুলিশ জানিয়ছে, ১১টি এফআইআর এখনও পর্যন্ত দায়ের হয়েছে৷ দিল্লি হিংসায় এখনও পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে৷

First published: February 26, 2020, 4:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर