দেশ

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

#ModiSpeaksToNews18: লোকসভা ভোটের আগে News18-র মুখোমুখি নরেন্দ্র মোদি, দেখুন EXCLUSIVE সাক্ষাৎকার

#ModiSpeaksToNews18: লোকসভা ভোটের আগে News18-র মুখোমুখি নরেন্দ্র মোদি, দেখুন EXCLUSIVE সাক্ষাৎকার
  • Share this:

প্রশ্ন: News18 নেটওয়ার্ককে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ৷ এটি আপনার দ্বিতীয় ইন্টারভিউ আমাদের সঙ্গে ৷ এই ইন্টারভিউ ৭০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে নেটওয়ার্কের ২০টা চ্যানেলের মারফত ৷

প্রধানমন্ত্রী: নিউজ18 নেটওয়ার্কের সমস্ত দর্শককে ধন্যবাদ জানাই এবং নবরাত্রির জন্য অভিনন্দন ৷

প্রশ্ন. বিজেপি ৮ এপ্রিল ইশতাহার প্রকাশ করেছে ৷ আমার প্রথম প্রশ্ন, ইশতাহারের গুরুত্বপূ্র্ণ বিষয় কোনগুলি ?

প্রধানমন্ত্রী: একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের এটা অত্যন্ত পরিণত একটা ইশতাহার ৷ যার দায়িত্ব হল দেশের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া ৷ এই প্রথমবার আমরা এমন কোনও ইশতাহার প্রকাশ করেছি যা ২০২২ এবং ২০২৪ দু’বছরেরই রোডম্যাপ ৷ এর অর্থ হল সরকারের কাজ শুধুমাত্র পাঁচ বছরেই শেষ হয় না ৷ কোনও রাজনৈতিক দল এই কাজ আগে করেনি ৷ ২০২২-এর মধ্যে যে বিষয়গুলি আমরা অর্জন করতে চাই, সেই ৭৫টি পদক্ষেপের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে ইশতাহারে ৷ ওই বছরই ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি হবে ৷ দ্বিতীয়ত, ২০৪৭-এ দেশের স্বাধীনতার যখন ১০০ বছর পূর্তি হবে, তখন দেশের কোন জায়গায় থাকা উচিৎ ৷ তার শিলান্যাসের কাজ ২০২৪-এর শেষেই আমরা করে ফেলব ৷ এর পাশাপাশি কালো টাকা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করতে হবে, তার কথাও উল্লেখ রয়েছে ৷ জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সমস্ত বিষয়গুলিই আলোচনা করা হয়েছে ৷ গরীবরা কীভাবে ন্যায় পাবেন ৷ অনগ্রসর শ্রেণী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নের কথাও এখানে উল্লেখ রয়েছে ৷ ওদের উন্নয়নের জন্য কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি ৷ মহিলাদের, নবীন সমাজ এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কী করা উচিৎ ? গ্রামের মানুষ এবং কৃষকদের উন্নয়ন ৷ এবং কীভাবে আধুনিক ভারত গড়া হবে ৷ সমস্ত কিছুই উল্লেখ করা হয়েছে ৷

প্রশ্ন. আপনাদের ইশতাহার বাকী রাজনৈতিক দলের থেকে আলাদা কোন ক্ষেত্রে ? বিশেষ করে কংগ্রেসের সঙ্গে তুলনা করলে ?

প্রধানমন্ত্রী: নামটাই তো আলাদা ৷ বাকীদেরটা হল ঘোষণাপত্র, আর আমাদেরটা সঙ্কল্প ৷ আমি চাই বুদ্ধিজীবী মানুষরা দু’দলের ইশতাহারের তুলনা করে দেখুক ৷ আমাদের ইশতাহার আমাদের ট্র্যাক রেকর্ডকে বিচার করেই দেখা উচিৎ ৷ অন্যদিকে কংগ্রেসেরটা বিচার করা উচিৎ ওদের ট্র্যাক রেকর্ড মাথায় রেখেই ৷ দেখবেন বিশাল পার্থক্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ৷ আমরা দেশে সন্ত্রাসবাদকে মুক্ত করার কাজে নেমেছি ৷ সন্ত্রাসবাদীরা হতাশ হয়ে পড়েছে ৷ আমরা মানসিক যুদ্ধেও ওদেরকে হারিয়েছি ৷ এই ধরণের কাজে সমর্থন না করে সন্ত্রাসবাদে কোনও পদক্ষেপই নিচ্ছে না কংগ্রেস ৷ ওদের দেশের সেনার প্রতি মনোভাব পাকিস্তানের যেমন, ঠিক তেমনই ৷ কোনও দেশপ্রেমিক এইধরণের ভাষা মেনে নিতে পারবেন না ৷ ওদের ইশতাহারে AFSPA (Armed Forces Special Powers Act) তুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে ৷ অর্থাৎ সেনাদের হাত থেকেই অস্ত্র কেড়ে নিতে চায় ওরা ৷ এটা কি ঠিক ? দেশের সেনা ইউনাইটেড নেশনসের শান্তি প্রক্রিয়া বজায় রাখার কাজের একটা অংশ ৷ আমরা ইউএন-এর শান্তিপ্রক্রিয়া বজায় রাখার মিশনে সবচেয়ে বেশি সেনা পাঠাই ৷ দেশের প্রতি ভারতীয় সেনার যে অবদান ৷ তার প্রশংসা করতেই হবে ৷

প্রশ্ন. AFSPA নিয়ে আপনার কী ভাবনা ?

প্রধানমন্ত্রী: প্রথমে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে AFSPA-র কোনও প্রয়োজন নেই ৷ যা আমরা অরুণাচল প্রদেশে করেছিলাম ৷ কিছু জেলার থেকে আমরা সরিয়েছিলাম ৷ তারপর বেশ কয়েকটি রাজ্য থেকেও সরিয়েছিলাম ৷ আমরাই ১৯৮০ সালে প্রথম এধরণের পদক্ষেপ নিয়েছিলাম ৷ কিন্তু আমরা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখেছি ৷ নিজেদের সেনাকে সুরক্ষা করার অধিকার সরকারের রয়েছে ৷ তাহলেই তাদের লড়াই করার মতো মানসিকতা থাকবে ৷ জম্মু-কাশ্মীর থেকে AFSPA সরানো মানে হল সেনাদের ফাঁসিকাঠে ঝোলানো ৷ এটা আমি কখনই হতে দেব না ৷

প্রশ্ন. গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়তে হামলা হয় ৷ তারপর ২৫ ফেব্রুয়ারি রাইজিং ইন্ডিয়া সম্মেলনে, বালাকোট স্ট্রাইকের কয়েক ঘণ্টা আগেই আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার ৷ সেই সন্ধ্যায় আমরা কেউ অনুমান করতে পারিনি আপনার মনে তখন কী চলছিল ৷ এরপর আপনি পরের দিন ভোর ৩টে ৪০ মিনিট নাগাদ খবর পান স্ট্রাইকের ৷ ওই ১০-১৫ দিন আপনার মাথায় কী চলছিল ?

প্রধানমন্ত্রী: আমি প্রথমদিনই বলেছিলাম যে পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসবাদীরা অনেক বড় ভুল করেছে ৷ আর আপনি আমার শরীরি ভাষা দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন যে আমি কেমন অনুভব করছিলাম ৷ আমি কখনও কোনও শর্ট-কাট নিই না ৷ তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নিই না ৷ সময় নিয়ে সেনার বিভিন্ন অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পরই বালাকোটে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৷ পুলওয়ামা জঙ্গি হামলায় কারা জড়িত আমাদের সেনা আগেই খুঁজে বের করেছিল ৷ যেটা অবশ্যই একটা বড় কীর্তি ৷ কিন্তু আমি তাতে সন্তুষ্ট হইনি ৷ আমরা যদি সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘরে হামলা না করতাম তাহলে ওদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়া যেত না ৷ মনে করুন ২৬/১১-এ সংসদে জঙ্গি হামলা ৷ পাকিস্তান ভেবেছিল আগের মতোই আমরা কিছু করব না এবারও ৷ কিন্তু আমরা ভাবলাম আর নয় ৷ এরপরই উরি হামলার বদলা হিসেবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করি আমরা ৷

প্রশ্ন. প্রথমে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ৷ তারপর বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক ৷ এরপরেও লস্কর, জইশরা কাশ্মীরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ৷ ভবিষ্যতের জন্য তাহলে কী প্ল্যান ?

প্রধানমন্ত্রী: প্রথমত এটা আমাদের মানতেই হবে যে পুলওয়ামাকে বাদ দিলে সন্ত্রাস হামলা অনেকাংশেই কমেছে এখন ৷ এখন সেনার সঙ্গেই বেশি জঙ্গি সংঘর্ষ সীমাবদ্ধ থাকছে ৷ সন্ত্রাসবাদীদের উপর হামলা বজায় রেখে তাদের ব্যস্ত রাখছে সেনাই ৷ আর এই সব ঘটনাই ঘটছে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৷

প্রশ্ন. এয়ারস্ট্রাইক নিয়ে বিরোধীদের প্রমাণ দেবেন ?

প্রধানমন্ত্রী:  সংকটের সময় প্রমাণ চাইছে বিরোধীরা ৷ বিরোধীদের ভূমিকা দায়িত্বজ্ঞানহীন ৷ তাদের ভাষা শত্রুদের মনোবল জোগাচ্ছে ৷ এর আগেও অনেক যুদ্ধ হয়েছে ৷ সেসময় কেউ এমন মন্তব্য করেছে ? কংগ্রেস ক্ষমতা পেতে মরিয়া ৷ ক্ষমতার লোভে নিচে নেমেছে তারা ৷ পাকিস্তান নিজেই যথেষ্ট প্রমাণ দিয়েছে ৷ ভোর পাঁচটায় উঠে ট্যুইট কেন?

প্রশ্ন. পাকিস্তানের থেকে কী আশা ?

প্রধানমন্ত্রী:  পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই ৷ বিরোধীরা পাকিস্তানের ভাষা বলছে ৷ ভোট আর এয়ারস্ট্রাইক মেলানো ভুল ৷ প্রশ্ন. চিনের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন ?

প্রধানমন্ত্রী:  ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ৷ দু’দেশেই উভয়ের বিনিয়োগ রয়েছে ৷ তা সত্ত্বেও দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা রয়েছে ৷ দু’দেশের মধ্যে নানা মতপার্থক্য ৷ কিন্তু, মতপার্থক্য যেন বিদ্বেষ না হয় ৷ প্রত্যেক দেশ নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয় ৷ কিছু ক্ষেত্রে আমরা প্যালেস্টাইনের পাশে ৷ কিছু ক্ষেত্রে ইজরায়েলেরও পাশেও আছি ৷ কখনও ইরানকে সমর্থন ৷ কখনও বা আরব দেশগুলিকে সমর্থন ৷ একসময় শুধু রুশ সাহায্য পেত ভারত ৷ বাকি দেশগুলি ছিল পাকিস্তানে পাশে ৷ এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে ৷ এখন কেবল চিনই ভারতের পাশে ৷ বাকি দেশগুলির ভারতকে সমর্থন ৷ প্রশ্ন. মাসুদ আজহার নিয়ে চিনের সঙ্গে আলোচনা ?

প্রধানমন্ত্রী: চিনের সঙ্গে সব বৈঠকে নানা বিষয়ে কথা হয়েছে ৷ মাসুদ আজহার নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে ৷ প্রশ্ন. চিনা পণ্য কি বয়কট করা উচিৎ ?

প্রধানমন্ত্রী: বিশ্বায়নের যুগে সব দেশই পরস্পর যুক্ত ৷ আমরা ডব্লিউ টি ও-তে সই করেছি ৷ ভারত সেই আন্তর্জাতিক আইন মানে ৷ মানুষ চিনা পণ্য বয়কট করতে পারে ৷ সংবাদমাধ্যম জনসাধারণকে বোঝাক ৷

প্রশ্ন. কাশ্মীর সমস্যা কীভাবে দেখছেন?

প্রধানমন্ত্রী:  কাশ্মীরের সমস্যা বহু পুরনো ৷ বল্লভভাই দায়িত্ব পেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হত ৷ কাশ্মীর সমস্যা নেহরু নিজেই মেটাতে চান ৷ কাশ্মীরের জন্মলগ্ন থেকেই  নানা বিতর্ক চলছে ৷  বহু সেনার প্রাণ গিয়েছে ৷ সরকার কাশ্মীরের জন্য অনেক করেছে ৷ কাশ্মীর নিয়ে আগের সরকারের ব্যর্থতা প্রচুর ৷ লাদাখ বা জম্মুতে কোনও সমস্যা নেই ৷ উপত্যকার কয়েকটি জেলাতেই শুধু সমস্যা ৷ কাশ্মীরে চাকরি ও বিনিয়োগ দরকার ৷ ৩৭০ ধারা সেই উন্নয়নের পথে বাধা ৷ কাশ্মীরে আগ্রহ দেখান না বিনিয়োগকারীরা ৷ কাশ্মীরে নেহরুর নীতি এখন বাধা ৷

প্রশ্ন.  পিডিপির সঙ্গে জোট কি ভুল হয়েছিল ?

প্রধানমন্ত্রী: পিডিপির সঙ্গে জোট একটা পরীক্ষা ৷ কেউ একা সরকার গড়তে পারত না ৷ ভেবেছিলাম পিডিপি ও এনসি জোট করবে ৷ কিন্তু, তারা একে অপরের চোখের বালি ৷ আমরা ২-৩ মাস পর আলোচনা করি ৷ জানতাম, আমাদের আদর্শ খাপ খায় না ৷ জোটে অনিচ্ছা ছিল মেহবুবা মুফতির ৷ তারপরেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয় ৷ পঞ্চায়েত ভোটে পশ্চিমবঙ্গে অশান্তি চলেছে ৷ কিন্তু, শান্ত ছিল জম্মু-কাশ্মীর ৷ সংবাদমাধ্যম কাশ্মীরে শুধু জঙ্গিহানা দেখে ৷ কিন্তু, সেখানে বহু উন্নয়ন হয়েছে ৷ প্রশ্ন. ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা নিয়ে আপনার কী মত ?

প্রধানমন্ত্রী: কাশ্মীরে সমস্যা ৫০ পরিবারের জন্য ৷ তারা ঘোলা জলে মাছ ধরছে ৷ তারা চায় না, সাধারণ কাশ্মীরিরা সুবিধা পাক ৷ সাধারণ মানুষকে তারা ব্যবহার করে ৷ আইটি হানায় তাদের অনেকে জালে ৷ পাথরবাজদের অর্থ যোগায় পাকিস্তান ৷ জনসাধারণ এদের থেকেই স্বাধীনতা চায় ৷ জনসাধারণের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ৷ ৫০ বছর ধরে খেলছে এই পরিবারগুলি ৷

প্রশ্ন. জাতীয়তাবাদই কি এখন প্রধান অস্ত্র ?

প্রধানমন্ত্রী:  আমি ভারতমাতার জয়গান করছি ৷ কিন্তু, দেশ যন্ত্রণায় কাঁদছে ৷ তবে কি আমার জাতীয়তাবোধ সঙ্গত ? স্বচ্ছ ভারতও জাতীয়তাবাদ ৷ গরিবদের পাকা ছাদ জাতীয়তাবাদ ৷ দারিদ্র্য দূরীকরণও জাতীয়তাবাদ ৷ আয়ুষ্মান ভারতে ৫ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্যবিমা ৷ মানুষকে বঞ্চিত করে জাতীয়তাবাদ হয় ? কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জাতীয়তাবাদ ৷ সেনার আধুনিকীকরণও জাতীয়তাবাদ৷ জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা বহুমুখী ৷ দেশবাসীকে সুবিধা দেওয়াই জাতীয়তাবাদ ৷ প্রশ্ন. জাতীয়তাবাদ ছাড়া আর কোন বিষয়ে নজর ?

প্রধানমন্ত্রী: উন্নয়ন আমাদের প্রথম লক্ষ্য ৷ বহু মানুষ বুনিয়াদি সুবিধা পান না ৷ লক্ষ্য, প্রত্যেকে সম্মানের সঙ্গে বাঁচুক ৷ মধ্যবিত্তরা দেশের বৃহত্তম শক্তি ৷ মধ্যবিত্তরা আইনকে সম্মান করে ৷ মধ্যবিত্তরা নিয়মিত কর দেয় ৷ কংগ্রেস মধ্যবিত্তদের অপমান করেছে ৷ কৃষকদের দ্বিগুণ আয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ৷ ৬০ বছর পর কৃষকদের  সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা ৷ ১০০ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের আশ্বাস রয়েছে ৷ বিনিয়োগে প্রচুর কর্মসংস্থান হবে ৷ বাস্তব ভিত্তিতেই আমাদের ইশতাহার তৈরি হয়েছে ৷ হেডলাইন হওয়ার জন্য ইশতাহার তৈরি করেনি ৷ প্রশ্ন.  রাফাল দুর্নীতির অভিযোগে কী উত্তর ?

প্রধানমন্ত্রী: রাফাল নিয়ে একজন লাগাতার মিথ্যে বলছে ৷ সুপ্রিম কোর্ট, ক্যাগ ছাড় দিয়েছে ৷ বফর্স নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলে ৷ কিন্তু, একজনই রাফাল নিয়ে বলছে ৷ মিথ্যে কথা কতদিন টিকবে ?  জনসমক্ষে তারা প্রমাণ দিতে পারছে না ৷ ফলে রাফাল অভিযোগও খাটছে না ৷ দেশের মানুষ মিথ্যে বিশ্বাস করবে না ৷ গত ভোটেও নিজেকে চৌকিদার বলেছিলাম ৷ এবারও নিজেকে চৌকিদার বলছি ৷ আমরা সততার সঙ্গে সরকার চালাচ্ছি ৷

প্রশ্ন. কংগ্রেসের ‘ন্যায়’ নিয়ে কী মত আপনার ?

প্রধানমন্ত্রী: কংগ্রেস বলছে, অব হোগা ন্যায় ৷ তারা ৬০ বছরের ব্যর্থতা তাহলে মানছে ? ১৯৮৪-র হিংসা নিয়ে তাদের মত কি ? ৩ রাজ্যে কৃষিঋণ মকুবে কি মত  ? ভোপাল দুর্ঘটনার নায়ক পালাল কী করে ? মিথ্যা অভিযোগে জেলে ইসরোর বিজ্ঞানী ৷ কংগ্রেস আমলে জেলে গিয়েছেন নির্দোষরা ৷ তারা আবার ন্যায় বিচারের কথা বলে ৷ তারাই প্রথম হিন্দু সন্ত্রাসবাদের কথা বলে ৷ নরসিমা রাও বিচার চাইছেন ৷ পার্টি অফিসে তাঁর দেহ ঢুকতে বাধা ৷ নেতাজি, আম্বেদকর, সর্দার প্যাটেল বিচার চান ৷ কেন তাঁদের অবদান ভুলে যাওয়া হল ?

প্রশ্ন. কত আসন পাবে এনডিএ ?

প্রধানমন্ত্রী: কত আসন পাব তা আমি স্থির করব না ৷ মানুষ স্থির করবে বিজেপির জয় ৷ এনডিএ তাদের আসন বাড়াবে ৷ এই নির্বাচনে এনডিএর শক্তি বাড়বে ৷ আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোব ৷

প্রশ্ন. আরও বেশি আসন কীভাবে সম্ভব ?

প্রধানমন্ত্রী: পরিসংখ্যানে ভোটের ফল মাপা যাবে না ৷ ত্রিপুরায় আমাদের বিধায়কই ছিল না ৷ এখন সেখানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৷ ১৯৮৪-তে দেশে আমাদের মাত্র দু’জন সাংসদ ছিলেন ৷ ২০১৪-য় আমাদের একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা ৷ রাজনীতি শুধুমাত্র তাই পাটিগণিত নয় ৷

প্রশ্ন. চাপ বাড়াবে বুয়া-বাবুয়া জোট ?

প্রধানমন্ত্রী:  একসময়ের শত্রুরাই এখন হাত ধরেছে ৷ অস্তিত্বের সংকটেই তারা জোটবদ্ধ ৷ তারা লাইফলাইন খুঁজছে ৷ তারা সফল হবে না ৷

প্রশ্ন. সংখ্যালঘুদের ভোট চান মায়াবতী। কী বলবেন ?

প্রধানমন্ত্রী: হারের ভয়ে মায়াবতীর এই আহ্বান ৷ নির্বাচন কমিশন তা খতিয়ে দেখবে ৷ মায়াবতীকে নিয়ে আমি চিন্তিত নই ৷ ডুবন্ত জাহাজের যাত্রী মায়াবতী ৷ ধর্মনিরপেক্ষরা এনিয়ে চুপ কেন ? হিন্দুদের এমন আবেদন করলে ক্ষোভ ছড়াত ৷ অনেকে পুরস্কার ফেরত দিত ৷ এমন মন্তব্য ধর্মীয় নিরপেক্ষতায় আঘাত নয় ? কেউ কেউ ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে ৷ মায়াবতী অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইছেন ৷ যে কোনও উপায়ে তাঁর ভোট চাই ৷

প্রশ্ন. পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আসন বাড়বে ?

প্রধানমন্ত্রী: দেশ জুড়ে বিজেপি ছড়িয়ে পড়বে ৷ ফলে, আমাদের আসনও বাড়বে ৷ আমাদের জেতা আসন ধরে রাখব ৷ আমাদের ভোট শেয়ারও বাড়াব ৷ হেরে যাওয়া আসনও দখল করব ৷

প্রশ্ন. পশ্চিমবঙ্গেও তাই হবে ?

প্রধানমন্ত্রী: গোটা দেশ জুড়ে আসন বাড়বে ৷ উত্তর-পূর্ব থেকে কচ্ছ পর্যন্ত ৷ দেশ জুড়ে বিজেপির পক্ষে এখন হাওয়া ৷

প্রশ্ন. পশ্চিমবঙ্গে ২৩ আসন বা ওড়িশায় ১০-১১ আসন জয় সম্ভব ?

প্রধানমন্ত্রী:  পরিসংখ্যান নিয়ে কিছু বলব না ৷ অমিত শাহ খুব পরিশ্রমী নেতা ৷ আমার সভা নিয়ে প্রচার হয় ৷ কিন্তু, অমিতের সভা তেমন প্রচার পায় না ৷ অমিত শাহের সঙ্গে মাটির যোগাযোগ ৷ তারই ফসল ঘরে তুলছে বিজেপি ৷ আমি অমিতের মূল্যায়নকে বিশ্বাস করি ৷

প্রশ্ন. জগনমোহন ও কেসিআরের জোট হতে পারে ?

প্রধানমন্ত্রী: একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বিজেপি ৷ এনডিএ বাড়তি শক্তি পাবে ৷ বেশি সংখ্যা নিয়ে আমরা সরকার গড়ব ৷ সরকার গড়তে কারও সাহায্য দরকার হবে না ৷ আমাদের লক্ষ্য, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ৷

প্রশ্ন.  রামমন্দির কি অপ্রাসঙ্গিক ?

প্রধানমন্ত্রী: সংবাদমাধ্যমেই আসল সমস্যা লুকিয়ে ৷ মন্দিরের কথা বললে হিন্দুত্বের অভিযোগ ৷ মন্দিরের কথা না বললেও অভিযোগ ৷ রামমন্দির নিয়ে বিজেপির অবস্থান বদলায়নি ৷ আমাদের অবস্থান আদর্শগত ৷

প্রশ্ন. উত্তরপ্রদেশে ছাপ ফেলবেন প্রিয়াঙ্কা ?

প্রধানমন্ত্রী: নির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে কথা বলতে চাই না ৷  রাহুল দুটি আসনে দাঁড়াচ্ছেন। কী বলবেন ? কেউ দুটি আসনে লড়তেই পারেন ৷ কিন্তু, অমেঠি থেকে পালাচ্ছেন রাহুল ৷ পৈতৃকসূত্রে অমেঠি পেয়েছেন রাহুল ৷ কেন পালাচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা হোক ৷

প্রশ্ন. গান্ধি পরিবারকে লাগাতার আক্রমণ কেন ?

প্রধানমন্ত্রী: আমি কখনও আক্রমণ করিনি ৷ রাজনীতিতে আমি বংশবাদের বিরুদ্ধে ৷ আমি ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করিনি ৷ ওঁরা প্রতিহিংসার তত্ত্ব খাড়া করেন ৷ মানুষের সহানুভূতি কুড়নোর চেষ্টা করেন ৷ দেশের পক্ষে বংশবাদ খুব খারাপ ৷

প্রশ্ন. গান্ধি পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে আপনি বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী:  দুর্নীতি নিয়ে কোনও কথা বলিনি ৷ দুর্নীতিদমন আমাদের লক্ষ্য ৷ ভোপালে কী হল দেখুন ৷ ভ্রষ্ট-নাথ যা খুশি বলতে পারেন ৷ দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ উচিত নয় ? লালুপ্রসাদের দুর্নীতি কি আমাদের আমলে হয়েছে ? সেই মামলা ঠান্ডাঘরে পাঠানো হয়েছিল ৷ আমরা তা নিয়ে পদক্ষেপ করেছি ৷ তারা নিশ্চয়ই ভুল কাজ করেছে ৷ তাই, মা ও ছেলে জামিন চায় ৷ ’’ প্রশ্ন. পণ্ডিত নেহরু সম্পর্কে আপনার মত কী ?

প্রধানমন্ত্রী:  লালকেল্লা থেকে বলেছি ৷ সংসদেও বহুবার বলেছি ৷ আমিই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যে একথা বলেছে ৷ দেশ গঠনে সব রাজ্য সরকারের অবদান রয়েছে ৷ দেশ গঠনে জনসাধারণের অবদান অনেক বেশি ৷ যাঁরা সরকার চালিয়েছেন তাঁদের অবদান ৷ কিন্তু, সর্দার প্যাটেল প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের ইতিহাস অন্যরকম হত ৷ ২০১৪ সালে দেশ জুড়ে টয়লেট নির্মাণ ৷ প্যাটেল প্রধানমন্ত্রী হলে তা আগেই হত ৷

প্রশ্ন.  অর্থনীতিতে ৭% বৃদ্ধিতে কি আপনি সন্তুষ্ট ?

প্রধানমন্ত্রী:  ‘উন্নয়নে ১০% বৃদ্ধিও সন্তোষজনক নয় ৷ সাফল্য যাই হোক না কেন... আমি মনে মনে অখুশিই থাকি ৷ তবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি দিচ্ছে ৷ তারা মানছে, ভারত উদীয়মান শক্তি ৷ এই স্বীকৃতি ভারতের জন্য গর্বের ৷ আরও উন্নতির ক্ষমতা আমাদের আছে ৷ প্রশ্ন. নোটবন্দি নিয়ে বিতর্ক। আপনি কীভাবে দেখছেন ?

প্রধানমন্ত্রী:  নোটবন্দি না হলে বাজারে নগদ বেশি হত ৷ বাজার নগদের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত ৷ বহু বড় ব্যবসায়ীর কালো টাকা এর ফলে প্রকাশ্যে এসেছে ৷ এখনও তারা পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি ৷ সাধারণ মানুষ আমাদের পাশেই ছিলেন ৷ উত্তরপ্রদেশের ভোটে নোটবন্দি উঠে আসে ৷ আমরা ওই ভোটে বিপুল জয় পাই ৷ অনেকে গরিব ভোটব্যাঙ্ক হারিয়েছিল ৷ কালো টাকায় লেনদেনও হয়নি ৷ সেইসব লোক এখনও চিৎকার করছে ৷ নোটবন্দির জেরেই অর্থনীতিতে জোর ৷ গত ৫ বছরে করদাতার সংখ্যাবৃদ্ধি ৷ হাওয়ালা নেটওয়ার্ক চিহ্নিত হয়েছে ৷ নোটবন্দিতে সেসব সংস্থা বন্ধ ৷ সরকারের ভাঁড়ারে বহু টাকা এসেছে ৷ নোটবন্দি না হলে অর্থনীতি গতি পেত না ৷ শুধুমাত্র সমান্তরাল অর্থনীতিই চলত ৷ কালো টাকা না থাকায় জমির দাম কমেছে ৷

প্রশ্ন - সরকারি কোনও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকে কীভাবে দেখেন ?

প্রধানমন্ত্রী: এমন প্রশ্ন খালি কংগ্রেসই তোলে ৷ তারা হারলে নির্বাচন কমিশনও নাকি পক্ষপাতদুষ্ট ৷ তারা চায়, তাদের খুশিতে বিচারব্যবস্থা চলবে ৷ দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে কংগ্রেস ৷ আমরা সব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছি ৷ জরুরি অবস্থায় কংগ্রেস দেশকে জেলখানা করেছিল ৷ এসব ওদের মুখে শোভা পায় না ৷ প্রশ্ন - আডবাণীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে কী বলবেন?

প্রধানমন্ত্রী: আডবাণী বিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ৷ তিনিই দলের মূল নীতি তৈরি করেন ৷ সব বিজেপি কর্মীই এক কথা বলেন ৷ আমাদের কাছে দেশ সবার আগে ৷ তারপরেই দলের অবস্থান ৷ নিজের কথা সবার শেষে ভাবা উচিত ৷ জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান ৷ জানেন, কংগ্রেস বাজপেয়ীকে বিশ্বাসঘাতক বলেছিল ? আডবাণীজি ঠিকই বলেছেন ৷

প্রশ্ন - ভোটারদের কী বলবেন?

প্রধানমন্ত্রী:  প্রত্যেককে সকাল সকাল ভোট দিতে বলব ৷ পহেলে মতদান, বাদ মে জলপান ৷ এখনকার ভোটাররা খুবই সচেতন ৷ ভোটারদের বলব, সঙ্গে জল রাখবেন ৷ শান্তিতে ভোট দেবেন ৷ ভোটদানের হার অনেক বাড়ুক ৷ আমি প্রথম ভোটারদের কাছে পৌঁছতে চাই ৷ দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তাঁরা ভোট দেবেন ৷ অনলাইনে ভোটার তালিকা দেখে নিন ৷ নির্বাচন উৎসবে সকলে অংশ নিন ৷ গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক ৷ এই উদ্দেশ্য নিয়েই সকলে এগিয়ে আসুন ৷

First published: April 9, 2019, 9:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर