আম্মা জয়ললিতার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ মাদ্রাজ হাইকোর্টের

মৃত্যুর পরেও শিরোনামে ‘আম্মা’ ৷ জয়ললিতার মৃত্যু নিয়ে গোপনীয়তায় ক্রুদ্ধ মাদ্রাজ হাইকোর্ট ৷ আদালতের প্রশ্ন, ‘কেন জয়ললিতার দেহ সমাধি থেকে তোলা হবে না?’

মৃত্যুর পরেও শিরোনামে ‘আম্মা’ ৷ জয়ললিতার মৃত্যু নিয়ে গোপনীয়তায় ক্রুদ্ধ মাদ্রাজ হাইকোর্ট ৷ আদালতের প্রশ্ন, ‘কেন জয়ললিতার দেহ সমাধি থেকে তোলা হবে না?’

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #চেন্নাই: মৃত্যুর পরেও শিরোনামে ‘আম্মা’ ৷ জয়ললিতার মৃত্যু নিয়ে গোপনীয়তায় ক্রুদ্ধ মাদ্রাজ হাইকোর্ট ৷ আদালতের প্রশ্ন, ‘কেন জয়ললিতার দেহ সমাধি থেকে তোলা হবে না?’ একইসঙ্গে জয়ললিতার মৃত্যু নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন বিচারপতি ৷

    প্রশ্ন আগেই উঠেছে। হয়েছে জনস্বার্থ মামলাও। সেই মামলাতেই আজ জয়ললিতার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করল খোদ মাদ্রাজ হাইকোর্ট। সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর কফিনবন্দি দেহ কেন তুলে আনা হবে না? উত্তর জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্র এবং রাজ্যকে নোটিস পাঠাল হাইকোর্ট। আর এই বিতর্কের মধ্যেই আজ চিনাম্মা যুগে ঢুকে পড়ল AIADMK। দলের সাধারণ সম্পাদক হলেন আম্মার বান্ধবী শশীকলা নটরাজন।

    তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যু কি স্বাভাবিক? নাকি এর পিছনে গভীর চক্রান্ত রয়েছে? বিক্ষিপ্তভাবে হলেও প্রশ্নগুলি আগেই উঠতে শুরু করেছিল। সেই বিতর্কই এবার জোরালো করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আম্মার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন খোদ হাইকোর্টের বিচারপতিরা। জয়ার মৃত্যু নিয়ে তদন্ত কমিশন গড়ার দাবিতে মাদ্রাজ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন এআইডিএমকে কর্মী পিএ জোসেফ। আম্মা জয়ললিতার মৃত্যু এবং মৃত্যুর আগে তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসল সত্য জানতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন আম্মার ওই অনুগামী ৷

    বৃহস্পতিবার সেই মামলারই শুনানিতে বিচারপতি এস বৈদ্যনাথনের মন্তব্য, ‘জয়ললিতার মৃত্যুর পরেও এখনও অনেক রহস্য রয়ে গিয়েছে। তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলছে সংবাদমাধ্যম। আমরাও সংবাদপত্রে পড়েছি যে মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি খাচ্ছেন, সই করছেন এমনকি বৈঠকও করছেন। হঠাৎ করেই তিনি মারা গেলেন। কোনও রেভিনিউ ডিভিশন অফিসার তাঁর দেহ দেখেননি। কোনও মেডিক্যাল রেকর্ডও রক্ষিত হয়নি। অন্তত তাঁর মৃত্যুর পরও কেন কোনও প্রমাণ দেওয়া হল না?  সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর কফিনবন্দি দেহ কেন তুলে আনা হবে না?’ অনেকক্ষেত্রে তাঁর নিজেরও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি। উত্তর জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারকে নোটিসও পাঠায় হাইকোর্ট।

    একইসঙ্গে বিচারপতি বৈদ্যনাথন আরও বলেন, হাসপাতালে ভরতির পর জয়ললিতা স্বাভাবিক ভাবেই খাবার খাচ্ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর এই সব ধোঁয়াশাগুলি প্রকাশ্যে আসা উচিত বলেও জানিয়েছেন বিচারপতি।

    জয়ললিতার মৃত্যুর সিবিআই তদন্ত বা বিচারবিভাগীয় তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপীল করেন বহিস্কৃত সাংসদ শশীকলা পুষ্পা ৷ বিপ্লবী সাংসদের জয়ললিতার মৃত্যু ও তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতিতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ৷ উল্লেখ্য, আম্মার অসুস্থ থাকার সময় বিশেষ কিছু মানুষ ছাড়া কাউকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হত না ৷ আম্মার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে মৃত্যু, সমস্ত বিষয়টিতেই অতি সন্তর্পণে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে ৷

    আম্মার মৃত্যু নিয়ে জলঘোলার মধ্যেই চিনাম্মা যুগে ঢুকে পড়ল তামিল রাজনীতি। এদিন জয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শশীকলা নটরাজনকেই সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করল এআইএডিএমকে। দোসরা জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। চেন্নাইয়ের পোয়েজ গার্ডেনের বাংলো থেকে জেল জীবন। সর্বত্রই জয়ার ছায়াসঙ্গী ছিলেন শশীকলা। আম্মার শেষকৃত্যেও সারাক্ষণ দেহ আগলে ছিলেন শশীকলা। জয়া পরবর্তী দ্রাবিড় রাজনীতিতে চিনাম্মা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারেন কিনা, সেটাই দেখার।

    First published: