Home /News /national /
ব্যক্তি-অধিকার রক্ষায় নাগরিকদের বিক্ষোভ! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কি নিষিদ্ধ হতে চলেছে গর্ভপাত?

ব্যক্তি-অধিকার রক্ষায় নাগরিকদের বিক্ষোভ! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কি নিষিদ্ধ হতে চলেছে গর্ভপাত?

Photo- Representative

Photo- Representative

Anti-Abortion Restrictions: গর্ভপাত বিরোধী আইন কার্যকর হলে গর্ভপাতকে একটি গুরুতর অপরাধ গণ্য করা হবে। যার শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

  • Share this:

#ওকলাহোমা: ওকলাহোমার (Oklahoma) রিপাবলিকান-নেতৃত্বাধীন রাজ্য আইনসভা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গর্ভপাত বিরোধী নিষেধাজ্ঞা (Anti-Abortion Restrictions) পাস করেছে। মঙ্গলবার ওকলাহোমার গভর্নর কেভিন স্টিট (Kevin Stitt) প্রায় ছয় সপ্তাহের গর্ভাবস্থার (Six Weeks Of Pregnancy) পরে গর্ভপাত (Abortion) নিষিদ্ধ করার একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। গর্ভপাত বিরোধী আইন প্রণেতারা আশাবাদী যে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও (US Supreme Court) এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করবে। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ১৫ সপ্তাহের গর্ভধারণের পরে গর্ভপাতের উপর মিসিসিপি (Mississippi) প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করবে। যদিও জুন মাসের আগে পর্যন্ত কোনও কিছুই কার্যকর হবে না। ইতিমধ্যে, টেক্সাস (Texas) প্রশাসন গর্ভপাত নিষিদ্ধ করতে একটি নতুন আইন এনেছে। প্রায় আট মাস আগেই সেই আইন কার্যকর হয়েছে। যার ফলে ওকলাহোমাতে গর্ভপাতের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল। কারণ টেক্সাসের মহিলারা গর্ভপাত করাতে ওকলাহোকমা-সহ আশপাশের রাজ্যগুলিতে ভিড় করছিল।

আরও পড়ুন: রাত আড়াইটে, পার্ক সার্কাসে মারাত্মক কাণ্ড! ডিসিপি অফিসের সামনেই মিলল দেহ! যা ঘটল...

ওকলাহোমার গর্ভপাতে নিষেধাজ্ঞা কি যুক্তিযুক্ত?

গর্ভপাত বিরোধী আইন কার্যকর হলে গর্ভপাতকে একটি গুরুতর অপরাধ গণ্য করা হবে। যার শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এই আইনটি অগাস্ট মাসে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এটি আদালত দ্বারা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ রো বনাম ওয়েড মামলায় (Roe v. Wade Case) আদালত গর্ভপাতকে বৈধ বলে রায় দিয়েছিল। ১৯৭৩ সালে রো বনাম ওয়েড মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গর্ভপাতকে আইনসিদ্ধ করে রায় দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছিল, দেশের সংবিধানে গর্ভবতী মহিলাদের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে।সরকারি নিষেধাজ্ঞার চোখরাঙানি এড়িয়ে নিজের ইচ্ছায় গর্ভপাত করাতে পারেন তাঁরা। এদিকে, আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের একটি গোপন খসড়া নথি ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তাতেই মহিলাদের গর্ভপাতের অধিকার খর্ব করার কথা বলা রয়েছে বলে দাবি কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের। ওই খসড়া নথিতে ১৯৭৩ সালে ওই মামলার রায়ে মহিলাদের গর্ভপাতের অধিকার দেওয়াকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও খসড়া অনুযায়ী এবার থেকে গর্ভপাত মার্কিন প্রদেশগুলির নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয় বলেই জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: দুই নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে দিঘায় দুই যুবক, তারপরই মারাত্মক ঘটনা! চাউমিনে রহস্য?

পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুসারে, খসড়া নথিতে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটোর হস্তাক্ষর রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ রক্ষণশীল বিচারপতিদের উপস্থিতিতে শীর্ষ আদালতে সেটি পেশও করা হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির মধ্যে চার বিচারপতি গর্ভপাতের বিরুদ্ধে সহমত পোষণ করেছেন। এই চার বিচারপতি হলেন ক্ল্যারেন্স টমাস, নেইল গরসুচ, ব্রেট ক্যাভানফ, অ্যামি কনি ব্যারেট। গত ডিসেম্বের মামলার সর্বশেষ শুনানির পর পাঁচ বিচারপতি বৈঠকে বসেন। স্যামুয়েল আলিটো তাঁর পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে মতামত জানতে চাইলে বাকি চার বিচারপতিও সহমত পোষণ করেন।

যদিও রিচমন্ড স্কুল অফ ল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কার্ল টোবিয়াস বলেছেন, "মূল আইন রয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট যখন কোনও কিছুকে সাংবিধানিক অধিকার বলে, তখন একটি রাষ্ট্র সেটিকে অপরাধ বলতে পারে না।" ইতিমধ্যেই আইনকে চ্য়ালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার জেলা আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওকলাহোমাতে গর্ভপাত করানোর সঙ্গে যুক্তরা বলছে যে তারা রাজ্যের দুটি গর্ভপাত বিরোধী বিল নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। কারণ এটি টেক্সাস আইনের মতো বেসরকারি নাগরিকদের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দেয়। গর্ভপাত করানোর জন্য় কোনও মহিলাকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত সাহায্য করলে, তার বিরুদ্ধেও মামলা করা যায়। যেহেতু এই আইনটি রাষ্ট্রকে নয়, ব্যক্তিগত দলগুলিকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষমতা দেয়, তাই এখনও পর্যন্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারণ করেনি যে এটি অসাংবিধানিক। ওকলাহোমায় দুটি ক্লিনিক চালানো প্ল্যানড প্যারেন্টহুড গ্রেট প্লেইনস-এর অন্তর্বর্তী সভাপতি এবং সিইও এমিলি ওয়েলস বলেন, "আমরা এই মুহুর্তে টেক্সাস-স্টাইলের নিষেধাজ্ঞাগুলি সম্পর্কে আরও উদ্বিগ্ন। কারণ টেক্সাসের আইনটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।"

ওকলাহোমার গভর্নর টেক্সাস-স্টাইলের নিষেধাজ্ঞায় স্বাক্ষর করলেও গর্ভপাতের সমর্থনে থাকা কর্মীরা আশাবাদী যে ওকলাহোমা সুপ্রিম কোর্ট এই আইন খারিজ করে দেবে। কারণ এর আগেও কয়েক ডজন প্রস্তাবিত গর্ভপাত বিরোধী আইন কার্যকর হওয়ার পথ অবরুদ্ধ করেছে তারা।

ওকলাহোমায় গর্ভপাতের সংখ্যা কত?

ওকলাহোমাতে প্রতি বছর গর্ভপাতের সংখ্যা গত দুই দশকে ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেয়েছিল। ২০০২ সালে সংখ্যাটা ছিল ৬ হাজার ২০০, ২০২০ সালে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল ৩ হাজার ৭৩৭। যা ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে জানিয়েছে ওকলাহোমা রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ। ২০২০ সালে টেক্সাসে আইন পাশ হওয়ার আগে ওকলাহোমায় গর্ভপাত করানো মোট মহিলার মধ্যে প্রায় ৯ শতাংশ ছিলেন টেক্সাসের বাসিন্দা। ওকলাহোমাতে গর্ভপাতের জন্য টেক্সাসের বাসিন্দাদের আগমনের কারণে এই সংখ্যাগুলি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। টেক্সাসের নিষেধাজ্ঞা ১ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়ার আগে প্রতি মাসে টেক্সাসের প্রায় ৪০ জন মহিলা ওকলাহোমাতে গর্ভপাত করাতে আসতেন। এই সংখ্যা সেপ্টেম্বরে ২২২ জন এবং অক্টোবরে ২৪৩ জনে পৌঁছেছে।

ওকলাহোমায় কী ঘটছে?

যদিও ওকলাহোমাতে গর্ভপাত এখনও বৈধ, এমিলি ওয়েলস বলেছেন যে অনেক রোগীই অনিশ্চিত। কারণ অনেকেই বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। এমিলি জানিয়েছেন যে তাঁর দুটি ক্লিনিকের অপারেটররা নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছেন। সবটাই হচ্ছে উদ্বেগের কারণে। তিনি বলেন, "এই মুহুর্তে আমরা নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার বিষয়ে সত্যিই সতর্ক রয়েছি, কারণ আমরা চাই না রোগীরা সমস্যায় পড়ুক।"

এরপরে কী হবে?

ওকলাহোমার আদালত কত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেবে তা স্পষ্ট নয়। যদিও অতীতে বিচারকরা আইনি চ্যালেঞ্জ দায়ের করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এদিকে, ওকলাহোমাতে রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা খুবই খুশি। কারণ, তাঁরা কয়েক দশক ধরে গর্ভপাতের উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধ করার জন্য আইন আনার দাবি জানাচ্ছিলেন। তাঁরা মনে করছেন যে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলিকে গর্ভপাত নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার অনুমতি দিতে পারে। ওকলাহোমার বিল যিনি লিখেছিলেন, সেই কর্ডেলের রিপাবলিকান টড রাস (Todd Russ) বলেছেন, "এটি আশা করা যায় যে আমাদের রাজ্যে গর্ভপাতের প্রথা চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। যতক্ষণ না তা সম্পন্ন না হয়, আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।"

গর্ভপাতের অধিকার সমর্থকদের বিক্ষোভ: আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের একটি গোপন খসড়া নথি ফাঁস হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মঙ্গলবার রাতে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। ওয়াশিংটন, সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, আটলান্টা, হিউসটোন এবং সল্টলেক সিটিতে গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষে পদযাত্রা করে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়েছে লুইভিল, কেনটাকি-সহ অন্যান্য আরও শহরেও। জায়গায় জায়গায় মানুষ আদালত চত্বরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। গর্ভপাতের অধিকারের সমর্থনে চলা বিক্ষোভে সামিল হওয়া বিক্ষোভকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। তাতে লেখা, 'জোর করে মাতৃত্ব নারীর দাসত্ববন্ধনের সামিল'।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও (Joe Biden) মার্কিন ভোটারদের গর্ভপাতের অধিকার রক্ষা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের একটি খসড়া নথিকে মৌলবাদী হিসাবে বর্ণনা করেছেন তিনি। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই খসড়ার প্রভাব আমেরিকান আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে।

এদিকে, গর্ভপাত নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত করার বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস (Tedros Adhanom Ghebreyesus)। তিনি সতর্ক করেছেন যে গর্ভপাতের অধিকার সীমাবদ্ধ করা অস্বাস্থ্যকর এবং অনিরাপদ পদ্ধতির দিকে নিয়ে যাবে। টেড্রোস একটি ট্যুইট বার্তায় বলেছেন, "মহিলাদের সর্বদা তাদের শরীর এবং তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নির্বাচন করার অধিকার থাকা উচিত।" বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের মতে, "শুধুমাত্র আইনি রক্ষাকবচ পরিয়ে গর্ভপাতকে বন্ধ করা সম্ভব নয়। যারা অসৎ উদ্দেশ্যে গর্ভপাতকে হাতিয়ার করতে চাইবে প্রয়োজনে তারা সেটা আইন ভেঙে হলেও করবে। তাই শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েই গর্ভপাত বন্ধ করা সম্ভব নয়। গর্ভপাতের অধিকার সীমাবদ্ধ করা সংখ্যা কম করে না। এটি মহিলাদের এবং মেয়েদের অনিরাপদ দিকে নিয়ে যায়। নিরাপদ গর্ভপাত জীবন বাঁচায়।"

গত বছর নভেম্বর মাসে গর্ভপাত বিরোধী আইনের প্রতিবাদে পোল্যান্ড নতুন করে শুরু হয় বিতর্ক। বিক্ষোভে উত্তাল হয় পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ সহ অন্যান্য শহর। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হওয়া উচিত। কোনওভাবেই রাষ্ট্র এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। গর্ভপাত করানোর অধিকার মহিলাদের থাকা উচিত। পোল্যান্ডের বিরোধী দলগুলোও সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

Published by:Rachana Majumder
First published:

Tags: Abortion, US

পরবর্তী খবর