corona virus btn
corona virus btn
Loading

মাত্র ৮০০ টাকা! বন্ধুদের হাতে খুন পল্লব হাজারি

মাত্র ৮০০ টাকা! বন্ধুদের হাতে খুন পল্লব হাজারি
Photo- Representive

মদ কেনার টাকার জন্য ছোটবেলার বন্ধুকে খুন।দমদমের নিখোঁজ যুবকের দেহ উদ্ধার সেফটি ট্যাংক থেকে।তিন বন্ধু গ্রেফতার।

  • Share this:
ABHIJIT CHANDA
#কলকাতা: পল্লব হাজারি,১৯ বছর বয়স।দমদমের প্রমোদনগরে বাড়ি।মাধ্যমিক পাস করার পর বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্য কলের কাজ শিখে কলমিস্ত্রি হিসাবে এলাকায় ভালই কাজ করতে শুরু করে।বাবা মার একমাত্র সন্তান পল্লব পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে থাকে। ৩১ শে ডিসেম্বর সারাদিন কাজ করে বাড়ি ফেরার পরই পাড়ার ছোটবেলার বন্ধুরা রাতে পিকনিক করার জন্য একপ্রকার জোর করেই পল্লবকে ডেকে নিয়ে যায়।
দমদম প্রমোদনগর পুলিশ ফাঁড়ির পিছনের মাঠেই রাতভোর চলে পিকনিক।বাকি সবাই বাড়ি ফিরলেও পল্লব আর বাড়ি ফেরে নি।দমদম থানায় নিখোঁজ ডাইরি করেন পল্লবের পরিবার।পল্লবের বন্ধু পিকনিকে থাকা বিশাল যাদব ও নিখোঁজ ডাইরি করতে থানায় যায়।চার দিন কেটে গেলেও পল্লবের খোঁজ মেলে না। শনিবার থেকেই প্রমদনগর পুলিশ ফাঁড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে একটি জঞ্জাল ফেলার ভ্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান স্থানীয় বাসিন্দারা।প্রথমে মনে করা হয়,কোনো মৃত জীবজন্তুর দেহ পচে গিয়ে এই দুর্গন্ধ।পরে ভ্যাট এর মধ্যে সেরকম কিছু না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেয় হলে ওই ভ্যাট এর পিছনে একটি পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাঙ্ক এর ভিতরে এক যুবকের মাথা থ্যাতলানো দেহ মেলে।দেহ শনাক্ত করে পল্লবের পরিবার।দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
পল্লব হাজারী দেহ মেলার পর দমদম থানার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। পরিবারের অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে পল্লবের চার বন্ধুকে ডেকে পাঠানো হয় বিশাল যাদব জিতু নায়েক ও উত্তম সমাদ্দার পুলিশের কাছে আসে। এদেরকে জেরা করে কিছুক্ষণের মধ্যে সব পরিষ্কার হয়ে যায় পুলিশের। পিকনিকের দিন খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে মদ্যপান চলছিল। এক সময় মদ শেষ হয়ে যায়। সেই সময় মৃত পল্লবের কাছে টাকা চায় অভিযুক্তরা।পল্লব টাকা দিতে অস্বীকার করে।তার কাছে সারাদিনের রোজগারের ৮০০ টাকা ছিল।আর সেই ৮০০ টাকার জন্যই ছোটবেলার বন্ধুরা নৃশংস ভাবে তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ। মূল অভিযুক্ত বিশাল যাদব ইট দিয়ে পলাশের মাথা থেঁতলে দেয়। এরপরই তার দেহ নিয়ে সেফটি ট্যাংকে ফেলে আসা হয়।বাকি তিনজনও এই ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ পুলিশের।
কান্নায় ভেঙে পড়া মৃত পল্লবের বাবা শ্যামল হাজারী বিশ্বাস করতে পারছেন না বাল্যবন্ধুরাই তার একমাত্র সন্তানকে খুন করেছে। তাও আবার মাত্র ৮০০ টাকার জন্য। এমনকি দমদম থানায় যখন নিখোঁজ ডায়েরি করতে যাওয়া হয়, তখন মূল অভিযুক্ত বিশাল যাদব,পল্লবের পরিবারের লোকজন কে সঙ্গে নিয়ে যায়। যাতে তার উপর সন্দেহ না পড়ে। পুলিশ প্রথমে সন্দেহ করেছিল,প্রেমঘটিত কারণে হয়তো এই ঘটনা। কিন্তু কিছুক্ষণ জেরা করতেই মূল অভিযুক্ত বিশাল যাদব ভেঙে পড়ে। অতিরিক্ত মদ্যপান এবং আরো নেশার জন্যই তার মাথা কাজ করছিল না বলে সে জানায়। তবে এই ঘটনায় দমদম প্রমোদনগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
First published: January 5, 2020, 10:32 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर