সুব্রতকে স্পিচ থেরাপির পরামর্শ, শোভনের লিভারের সমস্য়া! মদনের ছুটি নিয়ে সংশয়

বাড়ি ফিরবেন শোভন, সুব্রত, মদন?

  • Share this:

#কলকাতা: বাড়ি ফেরার অনুমতি মিলেছে৷ কিন্তু বাড়িতেই কি ফিরবেন এসএসকেএম-এ চিকিৎসাধীন চার হেভিওয়েট নেতা, নাকি হাসপাতালে থেকেই চিকিৎসা করাবেন তাঁরা? কারণ তিন নেতারই বেশ কিছু গুরুতর শারীরিক সমস্যা চিহ্নিত করেছেন এসএসকেএম-এর চিকিৎসকরা৷ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং মদন মিত্রের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা৷ অন্যদিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাড়ি এনে শোভনের আরও ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন তিনি৷

তবে হাসপাতাল সূত্রে খবর, মদন মিত্রের যা শারীরিক অবস্থা তাতে হয়তো এ দিন কামরাহাটির বিধায়ককে ছুটি নাও দেওয়া হতে পারে৷

এ দিনই নারদ কাণ্ডে ধৃত চার নেতা ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷ বাড়ি থেকে ভার্চুয়ালি সরকারি কাজ করারও অনুমতি পেয়েছেন ফিরহাদ, সুব্রত এবং মদন৷

এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিন নেতারই সিওপিডি-র সমস্যা রয়েছে৷ তার মধ্যে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিন ধরেই ভোকাল কর্ড-এ সমস্যা রয়েছে৷ এই সমস্যার কারণে অতীতে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে তাঁকে৷ কিন্তু শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ায় একটানা নেবুলাইজার নেওয়ার ফলে সেই সমস্যা আরও বেড়েছে৷ প্রবীণ মন্ত্রীর গলার স্বর এতটাই ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে যে তা প্রায় শোনা যাচ্ছে না৷ সেই কারণেই এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকরা পঞ্চায়েত মন্ত্রীকে 'স্পিচ থেরাপি' করানোর পরামর্শ দিয়েছেন৷ সুব্রত বাবুর স্ত্রী ছন্দবাণী মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশের পর সুব্রতবাবুর চিকিৎসা হাসপাতালেই চলবে নাকি বাড়ি নিয়ে গিয়ে টস্পিচ থেরাপিট করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকরাই নেবেন৷

অন্যদিকে এ দিনই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের টসিরোসিস অফ লিভারট-এর সমস্যা ধরা পড়েছে৷ তবে তা এখনও মারাত্মক আকার নেয়নি বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর৷ শোভনের অতীতেও লিভারের সমস্যা ছিল৷ হাসপাতাল সূত্রে খবর, চড়া ডায়াবিটিসের কারণে প্রাক্তন মেয়রের চোখেও সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ যদিও শোভনকে বাড়ি নিয়ে গিয়েই চিকিৎসা করানোর পক্ষে তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়৷

এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের ফুসফুসেও সামান্য সংক্রমণ ধরা পড়েছে৷ তাঁকে এখনও একটা অক্সিজেন দিতে হচ্ছে৷ তার উপর হাইপার টেনশনে ভুগছেন মদন৷ ফুসফুসে সংক্রমণ যাতে না বাড়ে, সেদিকেই এখন নজর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা৷ কয়েকদিন আগে করোনাতেও আক্রান্ত হন মদন৷ তাঁর ছেলে এ দিন হাসপাতালে এসে জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা অনুমতি দিলে তবেই বাড়ি নিয়ে গিয়ে মদন মিত্রের চিকিৎসা করা হবে৷ না হলে হাসপাতালেই চলবে চিকিৎসা৷

এই তিন নেতা বাদে পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম প্রেসিডেন্সি জেলের হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ তাঁর শারীরিক অবস্থা অবশ্য তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই ভাল৷ হাইকোর্ট এ দিন যে নির্দেশ দিয়েছে, তার প্রতিলিপি প্রথমে প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠানো হবে৷ এর পর জেল কর্তৃপক্ষের তরফে তা এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হবে৷ তার পরই সুব্রত, মদন এবং শোভনকে ছুটি দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা৷

Avijit Chanda
Published by:Debamoy Ghosh
First published: