• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • মেদিনীপুরের সভায় '৭ মিথ্যা অভিযোগ' শাহ'র, 'ফ্যাক্ট চেক' করালেন ডেরেক

মেদিনীপুরের সভায় '৭ মিথ্যা অভিযোগ' শাহ'র, 'ফ্যাক্ট চেক' করালেন ডেরেক

কমিশনে চিঠি তৃণমূলের Photo- file photo

কমিশনে চিঠি তৃণমূলের Photo- file photo

মেদিনীপুরের সভায় অমিত শাহ'র আনা একগুচ্ছ অভিযোগের মধ্যে সাতটি অভিযোগ ডাঁহা মিথ্যা৷ পাল্টা অভিযোগ করলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও' ব্রায়েন৷

  • Share this:

    #কলকাতা: বিজেপি বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে এবার অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের খেলা চলছে৷ ২৪ ঘণ্টা আগেই মেদিনীপুরের মেগা সভায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসা দলের অন্যতম হেভিওয়েট শুভেন্দু অধিকারী৷ মেদিনীপুরের কলেজ মাঠের সভাতে দাঁড়িয়েই রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিভিন্ন ইস্যুতে বিঁধেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।

    বাংলার মানুষকে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও বোমা ফাটান শাহ৷ কিন্তু বিজেপি নেতার আনা একগুচ্ছ অভিযোগের মধ্যে সাতটি অভিযোগ ডাঁহা মিথ্যা বলে পাল্টা অভিযোগ করলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও' ব্রায়েন৷  শাহ'র কথাবার্তা তাঁর মতোই নিম্নমানের বলেই রবিবার টুইটারে খোঁচা দেন ডেরেক৷ শাহকে 'ফ্যাক্ট চেক' করিয়ে তাঁকে "পর্যটক দলের ভৃত্য" বলেও অভিহিত করেন তিনি৷

    ডেরেক ঠিক যে মর্মে তাঁর 'ফ্যাক্ট চেক' বিবৃতি দিয়েছেন টুইটারে, তা নিম্নরূপ:

    (১)

    অমিত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছিলেন। আজ অন্যদের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ করেছেন।

    ডেরেক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে অন্য কোনও দলে যোগ দেননি। কংগ্রেস ছেড়ে তিনি ১৯৯৮ সালে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন।

    (২)

    অমিত: বাংলার মানুষ আয়ুষ্মান ভারত থেকে প্রকল্প কোনও সুবিধা পাচ্ছে না৷

    ডেরেক: আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়ার ২ বছর আগেই বাংলায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প শুরু হয়৷ রাজ্যের ১.৪ কোটি পরিবারকে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় সর্বোচ্চ৫ লক্ষ টাকার সুবিধা দেওয়া হয়েছে৷ আয়ুষ্মান ভারতের থেকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা অনেক ভাল৷ বাড়ির মহিলার নামেই কার্ড করে দেওয়া হয়েছে৷

    (৩)

    অমিত: প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধির ৬ হাজার টাকা পাওয়া থেকে বাংলার কৃষকদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

    ডেরেক: কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় বাংলার কৃষকদের একর পিছু বার্ষিক ৫০০০ টাকা দেয়৷ সেখানে কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান প্রকল্পে একর প্রতি মাত্র ১২১৪ টাকা দেয়৷ শস্য বিমায় বাংলার কৃষকদের সরকার বিমার পুরো প্রিমিয়ামের অর্থ দেয়৷ সেখানে কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় প্রিমিয়ামের একটা অংশ মাত্র দেয়৷

    (৪)

    অমিত: রাজ্যে ৩০০ বিজেপি সমর্থক খুন হয়েছেন গত দেড় বছরে।

    ডেরেক: অন্তর্কলহের জন্য বহু বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে৷ এমনকী আত্মহত্যার জন্য মৃত্যু হলেও তাকে রাজনৈতিক খুন বলে চালানো হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে থেকে এখনও পর্যন্ত ১০২৭ তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছেন রাজনৈতিক শত্রুতায়। বিজেপি-র ১১৬ জন লোকসভা সাংসদের অপরাধমূলক রেকর্ড আছে৷

    (৫)

    অমিত: নরেন্দ্র মোদি বাংলার মানুষের জন্য যে খাদ্যশস্য পাঠিয়ে ছিলেন তা নিজেদের করে নিয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা।

    ডেরেক: বাংলায় খাদ্য সাথী প্রকল্পে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ১০ কোটি মানুষকে ফ্রি-তে রেশন দেওয়া হয়েছে।

    (৬)

    অমিত: বাংলায় জেপি নড্ডাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়নি সরকার।

    ডেরেক: জেপি নড্ডার জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সব নিয়ম ভেঙে তিনি তাঁর কনভয়ের সঙ্গে বিরাট সংখ্যার অনান্য গাড়িকে অনুসরণ করার অনুমোদন দিয়েছিলেন৷

    (৭)

    অমিত: নরেন্দ্র মোদী বাংলার বহু গরিব মানুষকে ঘর ও পরিকাঠামো দিয়েছেন।

    ডেরেক:এক্ষেত্রে কেন্দ্র দেয় ৬০ শতাংশ ও রাজ্য সরকার দেয় ৪০ শতাংশ খরচ। ২০১১-২০ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকার তৈরি করেছে ৩৩৮৭০০০ ঘর বানিয়ে দিয়েছে৷ এতে খরচ হয়েছে ৩৯৯৯৩ কোটি টাকা। গীতাঞ্জলি প্রকল্পে ৩লক্ষ ৯০ হাজার ঘর তৈরি করেছে রাজ্য। খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। সব প্রকল্প মিলিয়ে রাজ্য সরকার ৭০০০ কোটি টাকা খরচ করে ৪ লক্ষ ৩০ হাজার ঘর বানিয়ে দিয়েছে৷

    (শাহ'র দাবি ও ডেরেকের জবাব পরপর তুলে ধরা হল)

    Published by:Subhapam Saha
    First published: