• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • SOUTH24 PEOPLE IN BHANGAR AREA HAVE PROBLEMS WITH AADHAAR CARD PBD

আধার কার্ড নিয়ে চোখে আঁধার ভাঙড়বাসীর

আধার কার্ড নিয়ে, চোখে আঁধার ভাঙড়বাসীর

নতুন আধার কার্ড তৈরি কিংবা পুরানো আধার কার্ড সংশোধন করতে গিয়ে দু চোখে আঁধার দেখছেন ভাঙড়বাসী।

  • Share this:

    রুদ্র নারায়ন রায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ব্যাঙ্ক অথবা সরকারি যে কোনও কাজে ব্যবহৃত পরিচয় পত্র হিসেবে বর্তমানে গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি আধার কার্ডের। কিন্তু আধার কার্ডে বহু মানুষেরই নানান তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হয়। কোথায় কীভাবে সংশোধন করা হবে বা নতুন কার্ড করা হবে তা নিয়েও নিত্য সমস্যায় সাধারণ মানুষ। আর ঠিক এরকমই নতুন আধার কার্ড তৈরি কিংবা পুরানো আধার কার্ড সংশোধন করতে গিয়ে দু চোখে আঁধার দেখছেন ভাঙড়বাসী। পরিচয় পত্র হাতে পাওয়া তো দূরের কথা উল্টে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, দিনের পর দিন আধার সেবা কেন্দ্রে গিয়েও স্লট বুকিং হচ্ছে না। কবে স্লট বুকিং হবে, কবে আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধন করা যাবে সে ব্যপারেও পরিষ্কার নির্দেশিকা দিচ্ছেনা ভাঙড়ের একমাত্র আধার সেবা কেন্দ্র ভাঙড় ডাক ঘর। অথচ আধারের মত গুরুত্বপূর্ণ নথি ঠিকঠাক না থাকায় চরম সমস্যায় পড়ছেন স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে চাকরিপ্রার্থী কিংবা ব্যবসায়ীরা। যত দিন যাচ্ছে আধার নিয়ে ততই উতকন্ঠা বাড়ছে আমজনতার।

    ভাঙড়ের দুটি ব্লকের ছ’ লক্ষাধিক বাসিন্দাদের উন্নত ডাক পরিষেবার জন্য একমাত্র ভরসা ভাঙড় সাব পোষ্ট অফিস। ভাঙড় কলেজের সামনে অবস্থিত এই ডাকঘর থেকে হাজার হাজার গ্রাহক স্পিড পোষ্ট সহ সেভিংস একাউন্ট, রেকারিং ডিপোজিট কিংবা টার্ম ডিপোজিটের পরিষেবা নেন। সম্প্রতি এই ডাক ঘরকেই আধার সেবা কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখান থেকেই আধার সংক্রান্ত যাবতীয় পরিষেবা পাওয়া যাবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে সরকারি ওয়েব সাইটে। অথচ, বাস্তবের ছবিটা অন্যরকম। আধার কার্ড করাতে গিয়ে বারে বারে হোঁচট খাচ্ছেন আমজনতা।ছেলেগোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সায়ন্তি সাহা বলেন, ‘আমার ছ বছরের মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলাম নতুন আধার কার্ড করাব বলে। ডাকঘরের কর্মীরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন ছ থেকে সাত বছরের বাচ্চাদের আধার কার্ড করানো হচ্ছে না এখানে, কারণ ওঁদের নাকি আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায়না।‘ নারায়ণপুরের বাসিন্দা রবিউল শেখ বলেন, ‘আধার কার্ডে নামের বানান ভুল আছে। সেটা ঠিক করার জন্য ডাকঘরে গিয়ে জানতে পারি আগামী ছ মাস কোন স্লট বুকিং হবে না। সব নাকি ফিলাপ হয়ে গেছে। ওরা কি কারসাজি করছে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।‘

    অভিযোগ বিস্তর। সুরাহা কিছুই নেই। ভাঙড় ডাকঘর সূত্রে খবর, ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর থেকে এখানে আধার পরিষেবা কেন্দ্র চালু হয়েছে। ওই ডাকঘরের মাল্টি টাস্কিং স্টাফ বা এমটিএস ইকবাল হোসেন খান আধারের কাজকর্ম দেখাশোনা করেন। সোম থেকে শুক্র অফিস চলাকালীন প্রতিদিন ছ থেকে সাত জন নাগরিক কে আধার পরিষেবা দেওয়া হয়। তারমধ্যে যেমন নতুন আধার কার্ড তৈরি করা হয় তেমন পুরাতন কার্ডও সংশোধন করাতে হয়। কোনদিন কাদের পরিষেবা দেওয়া হবে সেজন্য আগে থেকে কুপন দেয় ডকাঘর কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে যে কুপন দেওয়া হয়েছে তাতে ২১ জুলাই পর্যন্ত স্লট বুকিং হয়ে গেছে। অর্থাৎ নতুন করে কেউ আধার পরিষেবা নিতে চাইলে তাকে আগস্ট মাসে দেখা করার কথা বলা হচ্ছে। সেই সময় দেখা করলে যে নিশ্চিত ভাবে ডেট বা স্লট পাওয়া যাবে সে ব্যপারে কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। তা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন এই বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ। বাসিন্দাদের অভিযোগ ডাকঘর কর্তৃপক্ষ লুকিয়ে চুরিয়ে বেছে বেছে কেবল নিজেদের পরিচিতদের আধার পরিষেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি, বেশি কাজ করার ভয়ে মাত্র পাঁচ-ছ টি করে কার্ড সংশোধন করছেন দৈনিক।অভিযোগ অস্বীকার করে ভাঙড় সাব পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাস্টার ললিত মোহন সিং বলেন, ‘আমাদের লোকবল খুবই কম। প্রায়ই দিনই ইন্টারনেট থাকে না।তা সত্বেও আমরা সাধ্যের বাইরে গিয়ে গ্রাহকদের পরিষেবা প্রদান করছি।‘ কবে এই সমস্যার সুরাহা হয়, সেটাই এখন দেখার।

    Published by:Pooja Basu
    First published: