• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • ৭৫'য়ে ৭৫! জন্মবার্ষিকীতে 'চাঁদের হাট' শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ে

৭৫'য়ে ৭৫! জন্মবার্ষিকীতে 'চাঁদের হাট' শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ে

নতুন-পুরাতনের মিলনে শিক্ষক দিবস উদযাপন শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ে

নতুন-পুরাতনের মিলনে শিক্ষক দিবস উদযাপন শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ে

নতুন-পুরাতনের মিলনে শিক্ষক দিবস উদযাপিত হল শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে

  • Share this:

    ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: নতুন-পুরাতনের মিলনে শিক্ষক দিবস উদযাপিত হল শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে। এবছর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বর্ষে পদার্পন করেছে। সেই উপলক্ষে সারা বছর ধরেই স্বাধীনতা দিবস, আর্তের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, বৃক্ষরোপণের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তনদের সহযোগিতায়। সাধারণত বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা স্কুলের প্রাক্তনীরা একত্রিত হওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। ঠিক সেই উদ্দেশ্যেকে সফল করার পাশাপাশি বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষিকাদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপনের জন্যে প্রাক্তন ছাত্রীদের উদ্যেগে এদিনের অনুষ্ঠানটি পালিত হয়। তবে এবার বিদ্যালয়ে অসুবিধা থাকার কারণে শিক্ষক দিবসের দিনটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। এদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অত্যূহা বাগচী পুরো অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন। এরপর তিনি স্কুল এবং ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির পুর প্রশাসক গৌতম দেব। শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অত্যূহা বাগচী নিউজ ১৮ লোকালকে (News 18 Local) বলেন,  'স্বভাবতই অনুষ্ঠানটি শিক্ষক দিবসকে কেন্দ্র করে। তবে আমরা ওই দিন উদযাপন করতে পারিনি। আমাদের বিদ্যালয় একটি সরকারি পরীক্ষা চলছিল বলে। যদিও সেটি দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বিগত কয়েকদিন ধরে শিলিগুড়িতে যে গরম পড়েছে তার দিকে তাকিয়ে আমি আর সাহস করলাম না আমার সন্তান-সম ছাত্রীদের ডেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করার। স্বাভাবিকভাবেই পরদিন আমরা নতুন পুরাতন সকলে মিলে শিক্ষক দিবসকে কেন্দ্র করে এক আনন্দোৎসবে সামিল হই। ' অত্যূহাদেবী আরও বলেন, \'আমাদের বিদ্যালয়ের প্রাক্তন দিদিমণিরাও শত বাধা পেরিয়ে আজ আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছেন। বিশাল বড় পাওনা আমাদের কাছে। আমি ছাত্রী ছিলাম এই স্কুলের। আজ এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব সামলাচ্ছি। পুরনো সেই দিনের কথা মনে পরে যাচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে আজ আবেগঘন করে দিচ্ছে। এতটা আনন্দ চোখ বারবার ভিজিয়ে দিচ্ছে।' শিলিগুড়ির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অত্যূহা বাগচী। শিক্ষক দিবসের দিনে দাঁড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কী বার্তা দেবেন প্রশ্নের উত্তরে নিউজ ১৮ লোকালকে তিনি বলেন, 'বুক ফুলিয়ে বলতে পারি আজ আমি বা আমাদের বিদ্যানিকেতনের সমস্ত ছাত্রীরা যা হতে পেরেছি, সবটাই আমাদের স্কুলের দান। যা ভালো তার সবটাই আমার স্কুলের দান, আর যা খারাপ তার সবটাই আমরা ছাত্রা পথে আহোরণ করেছি মাত্র। পৃথিবীর প্রতি কোণে শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা আছেন, একটাই বাচ্চা তাঁদের জন্য আমাদের দিদিমণিরা আমাদের যে শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন, সেই শিক্ষা যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। শেষে বলতে চাই, আমাদের বিদ্যানিকেতন আমাদের গৌরবেরই ধন।' শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাক্তনী কৃষ্ণা কর নিউজ ১৮ লোকালকে  বলেন, 'এবছর আমাদের স্কুলের ৭৫তম বর্ষপূর্তি। আর সেই আনন্দে আমরা স্কুলের নতুন পুরাতন ও দিদিমণিরা মিলে সারা বছরজুড়ে নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চলেছি। আর এদিনের যে অনুষ্ঠান তা সম্পূর্ণই শিক্ষিকাদের উৎসর্গ করে আয়োজন করা হয়েছে।' কৃষ্ণাদেবী আরও বলেন, 'আমি এই স্কুলের প্রাক্তনী হিসেবে ভীষণ ভাবে গর্বিত অনুভব করছি।' অন্যদিকে, স্কুলের এক শিক্ষিকা কৃষ্ণকলি ভট্টাচার্য নিউজ ১৮ লোকালকে  বলেন, 'মহামারী কালে আমরা যে বিচ্ছেদের স্বাদ পেয়েছি তা সত্যিই কখনও কল্পনা করতে পারিনি। ছাত্রীরা আমাদেরকে পায়নি, আমরা দিদিমণি রাও ছাত্রীদের না পেয়ে ভেঙে পরেছিলাম। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আজকের এই অনুষ্ঠান, আমাদের শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিবস উদযাপন নতুন পুরাতন তথা শিক্ষিকা ও প্রাক্তন শিক্ষিকাদের মনে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটাল। এ কথা অস্বীকার করার মতো নয়। এই শিক্ষাঙ্গন ছাত্রীদের ছাড়া কতটা শ্রীহীন হয়ে পড়েছিল তা আমরা দিদিমণিরা অক্ষরে অক্ষরে টের পেয়েছিলাম। আজকের এই অনুষ্ঠান শিক্ষায়তনে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করল।' সদ্য স্কুলের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়া মৈত্রেয়ী বিশ্বাস, ইপ্সা গুহ, রূপাঞ্জনা দত্ত ও সৌমেলি চক্রবর্তীরা নিউজ ১৮ লোকালকে  বলেন, 'শিক্ষক দিবসের দিন আমরা অনুষ্ঠানটি করতে পারিনি। নানাবিধ কারণে একদিন পেরিয়েই করতে হল। তবে বর্তমানের দিদিমণিদের পাশাপাশি প্রাক্তন দিদিমণিরা যাঁরা অবসর গ্রহণ করে ফেলেছেন তাঁরাও আজকের এই অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছেন। প্রত্যেক দিদিমণিদের বরণ করে নিয়ে ও অমিয়া দিদিমনির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্যের মাধ্যমে এদিনের অনুষ্ঠানের সূচনা। করোনা অতিমারির মধ্যে দীর্ঘদিন ঘর বন্দী থাকার পর আজকের এই অনুষ্ঠান প্রত্যেকটি ছাত্রী তথা দিদিমনির প্রাণে যে নতুন করে প্রাণবায়ু সঞ্চার করল তা বলার অবকাশ রাখে না। মোটের ওপর চাঁদের হাট বসেছে আজ আমাদের স্কুল শিলিগুড়ি উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে। খুব ভালো লাগছে।' প্রসঙ্গত, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা যিনি গত ২৬ অগাস্ট হিমাচল প্রদেশের ৬ হাজার ১১ মিটার শৃঙ্গ জয় করে ফিরেছেন। ওঁনাকে পুরষ্কার প্রদানের মাধ্যমে এদিন সম্মান জানান গৌতম দেব। এদিন অনুষ্ঠানের প্রথম থেকেই চলতে থাকে বিভিন্ন ধরেনের সাংস্কৃতিক নাচ, গান, কবিতা পাঠ প্রভৃতি। এদিন সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান জুড়ে শিক্ষিকাদের সঙ্গে প্রাক্তনী হয়েও ছাত্রীদের মধ্যে বন্ধন ছিল চোখে পরার মতো।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: