• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • পূর্বাভাস অনুযায়ী পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলল ভুটান! ছাড়পত্র সরকারের

পূর্বাভাস অনুযায়ী পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলল ভুটান! ছাড়পত্র সরকারের

পূর্বাভাস অনুযায়ী পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলল ভুটান! ছাড়পত্র সরকারের

পূর্বাভাস অনুযায়ী পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলল ভুটান! ছাড়পত্র সরকারের

১৫ অগাস্টের পর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সীমান্ত সম্ভবত পর্যটকদের জন্য খুলে যাচ্ছে।

  • Share this:

    ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: পুজোয় বাকি কয়েক মাস। তবে তার ঠিক দু মাস আগেই শর্ত সাপেক্ষে পর্যটনে ছাড় দিল ভুটান সরকার। ট্যুরিজম কাউন্সিল অফ ভুটান ইতিমধ্যেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যাতে বলা হয়েছে, কোভিডের টিকার দুটি ডোজ সহ করোনা টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট বা আরটিপিসিআর টেস্ট রিপোর্ট (৭২ ঘণ্টার বেশি নয়) সহ পর্যটকদের ভুটানে প্রবেশ মিলবে। এমনটাই জানিয়েছে ট্যুরিজম কাউন্সিল অফ ভুটান (টিসিবি)। তবে ২১ জুনের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ভুটানে পা রাখা মাত্রই পর্যটকদের ২১দিন পেইড্ কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে। আর এখানেই পর্যটকদের মধ্যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ইতিমধ্যে পর্যটকরা ভুটানে যেতে শুরু করেছে। তাহলে ২১ দিনের নিভৃতবাসে কী থাকছে সেই পর্যটকরা? প্রশ্নের কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সূত্রের খবর ১৫ অগাস্টের পর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সীমান্ত সম্ভবত খুলে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ থেকেও বহু পর্যটক উত্তরে বেড়াতে আসতে পারবেন পুজোর আগেই। তবে, ভুটান প্রশাসন পর্যটনের দরজা খোলায় পর্যটক তথা পর্যটনের সঙ্গে জড়িত বৃহদাংশ যথেষ্ট খুশি।

    এ প্রসঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডঃ লোটে শেরিং বলেছেন, 'সরকার কখনই পর্যটকদের ভুটানে আসা বন্ধ করেনি। তবে বছর ফিরে তাকালে গোটা বিশ্বের মতো আমরাও অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে আমরা কিছুটা কোমর শক্ত করতে পেরেছি। তাই পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু প্রতি পর্যটকদের কঠোর কোভিড নির্দেশিকা-সহ সমস্ত আচরণবিধির মান্যতা বাধ্যতামূলক।'

    কালিম্পংয়ের জেলা প্রশাসন সমর্থিত  'অ্যাক্ট' অর্থাৎ অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজার্ভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম (সংরক্ষণ ও পর্যটন সংস্থা)-এর আহ্বায়ক রাজ বসু বলেন, 'ভুটান সরকারের এই পদক্ষেপ অবশ্যই সাহসী ও উচিৎ একটি পদক্ষেপ। তবে ভুটানে পর্যটকদের প্রবেশের পর ২১ দিন নিজের গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে নিভৃতবাসে থাকাটা নিয়ে এখনও কোনও নির্যাস বেরিয়ে আসেনি। এমনকি সম্প্রতি ভুটানে এক পর্যটক যাওয়ার পর তিনি আদৌ কি কোয়ারান্টিনে রয়েছেন তা নিয়ে কোনো সদুত্তর ভুটান সরকারের কাছ থেকে আমরা এখনও পর্যন্ত পাইনি। স্বভাবতই এক ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে পর্যটক মহলে।'

    পাশাপাশি রাজবাবু বলেন, 'আরও একটি খুশির খবর যা আমরা সম্প্রতি পেয়েছি। তা হল ১৫ অগাস্টের পর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সীমান্ত খুলে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ থেকেও বহু পর্যটক উত্তরে বেড়াতে আসতে পারবেন পুজোর আগেই। তার জেরে শিলিগুড়ির এনজেপি থেকে ঢাকা এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবা চলার সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবাও চলার সম্ভাবনাও এখন তীব্র। যার ফলে একটি কথা পরিষ্কারভাবে বলতে পারি, করোনা ভাইরাসের জেরে পর্যটন ও পর্যটনের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি শিল্প তথা মানুষের যেভাবে কোমর ভেঙে পড়ে গিয়েছিল, তারা পুনরায় কোমরটা শক্ত করে অন্তত বসার মতো জায়গায় পৌঁছতে পারবে।'

    হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, 'বিদেশ থেকে পর্যটকদের জন্য কোভিডের নেগেটিভ রিপোর্ট বা আরটিপিসিআর টেস্ট রিপোর্ট এবং করোনার টিকার দুটি ডোজ নিলে থাকলে তবেই প্রবেশ করতে পারছে। ভুটানের বিদেশি পর্যটকদের প্রতি আকর্ষণ চিরকালের। কর্নার জেরে মুখ থুবড়ে পড়েছিল পর্যটন শিল্প। সেখানে পুজোর আগে ভুটানের এই পদক্ষেপ পর্যটনের ক্ষেত্রে এক বড় সিদ্ধান্ত অবশ্যই। আশাকরি পুজোতে পর্যটন শিল্প আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে।'

    তবে, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক-চিকিৎসক তথা মাই ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য ডাঃ কল্যাণ খাঁ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি যা দেখছি তা হল একটি সৌহার্দ্যতা, একটি সৌজন্যতা। এ ছাড়া আর কিছু নয়। যতটুকু জানি মার্কিন মুলুক থেকে যথেষ্ট পরিমাণে সাহায্য এই করোনাকালে ভুটান সরকার পেয়েছে। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে ভুটানের দরজা মার্কিন পর্যটকের জন্য খুলে যাওয়াটাকে আমরা সৌজন্যের এক অনন্য নজির বাদে অন্যভাবে দেখছি না। ফলত পর্যটনে আদতেও কতটা প্রভাব ফেলবে তা যথেষ্ট বিচার বিবেচনার বিষয়। তবে উদ্বেগ ও আশঙ্কা একটা থেকেই যাচ্ছে। যেহেতু করোনা প্রতিরোধে টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরও কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্টও আমাদের সামনে উঠে এসেছে। তবে সৌজন্যের এই উদাহরণ যথেষ্টই প্রশংসনীয়।'

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: